E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কুষ্ঠ নির্মূলে তৎপর স্বাস্থ্য দফতর, প্রশ্ন সেই কুসংস্কার নিয়েই

প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, চলতি বছরে ঝাড়গ্রাম জেলায় ২৬৯ জন কুষ্ঠ আক্রান্ত রয়েছেন। যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

রঞ্জন পাল

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ১০:১৭
কুষ্ঠ নির্মূল করার উদ্যোগ।

কুষ্ঠ নির্মূল করার উদ্যোগ। ফাইল চিত্র।

ঝাড়গ্রাম: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম জেলায় কুষ্ঠর সংক্রমণ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে কুষ্ঠ নিয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরও। তবে এই রোগ নিয়ে জনমানসের একাংশের কুসংস্কার দূর করতে না পারলে সেই কাজ কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, চলতি বছরে ঝাড়গ্রাম জেলায় ২৬৯ জন কুষ্ঠ আক্রান্ত রয়েছেন। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, সম্প্রতি নতুন করে কোনও সংক্রমণ এখনও ধরা পড়েনি। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ওষুধ খাওয়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে কুষ্ঠ রোগ সেরে যাবে এমনটা নয়। এর জন্য অনেকটা সময় লাগে। জেলাকে সম্পূর্ণ ভাবে এই রোগ মুক্ত করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন এই সংক্রান্ত কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসা। ওই আধিকারিকের আক্ষেপ, ‘‘গ্রামাঞ্চলে এখনও কুষ্ঠ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা কুসংস্কার রয়েছে। কুষ্ঠ রোগীদের একঘরে করে রাখার প্রবণতা রয়েছে। এগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারলে জেলাকে পুরোপুরি কুষ্ঠ মুক্ত করা যাবে না।’’

এমনিতে জেলার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ হাসপাতাল, ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কুষ্ঠ রোগের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা (MDT) এখন বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সরকারি ভাবে ওষুধও মেলে।কুষ্ঠ রোগীদের অনেকে অস্ত্রোপচার করেও সুস্থ হন। আগে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের সহযোগিতায় কুষ্ঠ রোগীদের অস্ত্রোপচার করা হত। এখন নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বছরে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন কুষ্ঠ রোগীর ওই অস্ত্রোপচার হয়। বেসরকারি ভাবেও অস্ত্রোপচার হয়। তবে তার খরচ অনেক।

শুধু কুষ্ঠ রোগ নিয়ে কাজ করার জন্য আগে প্রতিটি জেলায় একজন করে ডেপুটি সিএমওএইচ ছিলেন। ২০২৩ সালে সেই পদ তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন একজন ডেপুটি সিএমওএইচ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই রোগের বিষয়টি দেখেন। জেলা প্রশাসনে একজন কুষ্ঠ আধিকারিক রয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই রোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুষ্ঠ রোগী খোঁজা এবং সচেতনতা বাড়ানোর কাজ হচ্ছে। সূত্রের খবর, যেভাবেই হোক এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে চাইছে প্রশাসন। প্রতিটি জেলায় এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Jhargram

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy