টানা বৃষ্টি আর অবরুদ্ধ নিকাশির জোড়া ফলায় জলবন্দি হলদিয়া শহর। পাশ্ববর্তী ব্লকগুলিতেও বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। খুলেছে ত্রাণ শিবির, বিপর্যস্ত জনজীবন। এই দুর্যোগের পরিস্থিতিতে মাথায় হাত মৃৎশিল্পীদেরও। পুজোর মরসুমের আগে থাকা খাচ্ছে প্রতিমা গড়ার কাজ।
অতি বৃষ্টিতে হলদিয়ার পটুয়াপাড়ায় জল ঢুকে একাধিক দুর্গাপ্রতিমা ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়েছে। ঘরের মাটির কাঠামো ধুয়ে গিয়েছে। জলে ভেসে গিয়েছে প্রতিমার সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বিশ্বকর্মী পুজো থেকেই মৃৎশিল্পীদের মরসুম শুরু হয়ে যায়। গণেশপুজো, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো পরপর চলতে থাকে। তার আগে ঠাকুর গড়ার এই ব্যস্ত সময়ে মৃৎশিল্পীদের কর্মশালাগুলিতে জল জমে আপাতত কাজ বন্ধ। শিল্পীরা শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছেন। ইছাপুর অঞ্চল বড় দুর্গাপ্রতিমা তৈরির জন্য বিখ্যাত। এখানকার প্রতিমা রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিহার, জামশেদপুর, ঝাড়খণ্ডেও যায়। প্রতিমা শিল্পী সুভাষ জানা বলেন, “একটি বড় কর্মশালায় এখনও হাঁটু জল। আটটি বড় দুর্গাপ্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটি ও খড় ভেসে গিয়েছে। ২০ জন শ্রমিককে ছুটি দিয়েছি। প্রতিমার নীচে জল থাকায় ইট দিয়ে উঁচু করতে হয়েছে।”
চৈতন্যপুরের মিলন চিত্রকরের তিনটি দুর্গাপ্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় হয়ে গিয়েছিল। শুধু রং করা বাকি। সেগুলির মাটি ধুয়ে গিছে। ঋণ নিয়ে কাজ করেছিলেন মিলন। ফলে, আশঙ্কায় রয়েছেন। প্রতিমা জলে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছেন পঙ্কজ ও মদন চিত্রকরও। মিলন বলেন, “আমাদের পদবী চিত্রকর হলেও মূলত প্রতিমা তৈরি করি। আমাদের এলাকাও চিত্রকর পাড়া নামে পরিচিত।” ব্রজলালচকের মৃৎশিল্পী অশোক সামন্তেরও একাধিক প্রতিমা জলে ভেসে গিয়েছে। দুর্গাচকের রামকিঙ্কর বেইজ মৃৎশিল্প কার্যালয় এলাকার সবচেয়ে বড় কর্মশালা। এখানে দুর্গা ছাড়াও শিল্পনগরীর বেশিরভাগ বিশ্বকর্মা মূর্তি তৈরি হয়। শিল্পীরা জানালেন, অনেক টাকার মাটি ও খড় ভেসে গিয়েছে। ছোট ছাঁচের প্রতিমাও নষ্ট হয়েছে। জল জমে থাকায় এখন কাজ করাও সম্ভব নয়।
তবে ধীরে ধীরে জল নামছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় শিল্পী ও কারিগরেরা। এক সঙ্গে তাঁদের আক্ষেপ, “সর্বত্র জনপ্রতিনিধিরা যাচ্ছেন। অনেকে সাহায্য পাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের এখানে এখনও কেউ আসেনি।”
দেহ উদ্ধার
পাঁশকুড়া: পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিডাঙরি এলাকা থেকে উদ্ধার হল অজ্ঞাতপরিচয়, বছর পঁয়তাল্লিশের এক ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ। পাঁশকুড়া-খড়্গপুর রেললাইনের পাশে থাকা জলাশয়ে ওই মৃতদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই পাঁশকুড়া থানায় খবর দেন। মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।