‘বহুদিন ধরে ফেরা হয়নি ঘরে, আমি দূর প্রবাসে পড়ে রই…’
এক দিকে উদ্যাপনের আমেজ, অন্য দিকে নিজের শহর থেকে দূরে থাকার বেদনা। শিকড়ের টানের কথাই যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় প্রবাসের দুর্গাপুজোগুলি। সাত সমুদ্র পাড়েও যেন এক টুকরো কলকাতা জেগে থাকে বুকের ভিতরে। সেই আবেগ আর চেনা শহরের এই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই পথচলা শুরু হয়েছিল বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার অরল্যান্ডোর ‘আহ্বান’-এর।
২০২৩ সাল। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার মাটিতে মাত্র ১২ থেকে ১৫টি স্থানীয় বাঙালি পরিবারের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই দুর্গোৎসব। এ বার পা রাখল চতুর্থ বর্ষে। বাংলার শিকড়, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি এবং উৎসবের প্রতি ভালবাসাই এর নেপথ্যের আসল শক্তি। চতুর্থ বর্ষে ‘আহ্বান’-এর নতুন উপস্থাপনা ‘আমাদের পুজো’।
নামের মধ্যেই লুকিয়ে এই উৎসবের দর্শন। এই পুজোয় কেউ দর্শক নন, বরং সবাই তার অংশ। আট থেকে আশি, সকলেই যেন পরিবারের সদস্য। সেখানকার বাঙালিদের তো বটেই, এই পুজোর সঙ্গে স্থানীয় আমেরিকান পরিবারগুলিকেও যুক্ত হতে যেন ‘আহ্বান’ জানাচ্ছে এই পুজো। উদ্যাপন, আড্ডা আর খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে সেবামূলক কর্মসূচি, সব মিলিয়েই জমজমাট অরল্যান্ডোর দেবীর আরাধনা।
আরও পড়ুন:
কেবল আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলা সংস্কৃতি ও প্রতিভাকেও বৃহত্তর মঞ্চে ‘আহ্বান’ এই পুজো। প্রতি বছরের মতো এ বারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান বাঙালি শিল্পীদের লাইভ পরিবেশনার জন্য নিয়ে আসছেন উদ্যোক্তারা।
থাকছেন এক গানের রিয়্যালিটি শো-এর বিজয়ী দেয়াশিনী রায়, থাকছেন নিউ জার্সি থেকে দিব্যরাজ বসু। দুই শিল্পীর সুরে ও গানে মেতে উঠবে পুজোর মঞ্চ।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।