কর্মসূত্রে হোক বা অন্য কোনও কারণ, ভিনদেশে পাড়ি দিলেও শিকড়ের টানে নিজ শহরেই বারবার ফিরতে চায় মন। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম যেন আরও বেশি মনে করায় বাড়ির কথা। প্রবাসে পাড়ি দেওয়া মানেই কি শিকড় থেকে দূরে সরে যাওয়া? মোটেই না। অন্তত এমনটাই মনে করেন ফিলাডেলফিয়ার বাঙালিরা। নেপথ্যে রয়েছে ‘প্রগতি’। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে বহু যুগ ধরেই বাংলা এবং ভারতীয়দের এক সুতোয় বেঁধেছে এই সংগঠন।
১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি বাঙালি পরিবারের হাত ধরে ঘরোয়া ভাবে আয়োজিত হয়েছিল সরস্বতী পুজো। সেটাই ছিল মূলত ‘প্রগতি’র বীজ বপন। ১৯৭২ সালে সাংগঠনিক রূপ নেয় ‘প্রগতি’। দেখতে দেখতে বয়স ৫০ ছুঁলেও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আজও অটুট রেখেছে তারা। সরস্বতী পুজো থেকে দুর্গাপুজো, স্বাধীনতা দিবস অথবা বনভোজন পর্ব, সব কিছু উদ্যাপনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাতেও অটল থেকেছে এই সংগঠন।
এখানে বছরের অন্যতম বড় উদ্যাপন দুর্গাপুজো। কেবল আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতি বছরই চেষ্টা থাকে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করার, যেখানে ভিনদেশে বসেও কয়েকটি দিনের জন্য ফিরে পাওয়া যায় কলকাতার আমেজকে। ঢাকের বোল, ধুনুচির গন্ধ, আলো, সাজসজ্জা, সব মিলিয়েই যেন এক টুকরো কলকাতা। এই বছরেও তার অন্যথা হল না।
আরও পড়ুন:
চলতি বছর দুর্গাপুজোকে ঘিরে ‘প্রগতি’র বিশেষ ভাবনা মরক্কোর স্থাপত্য শিল্পের সঙ্গে বাংলা তথা ভারতীয় শিল্পকলার মেলবন্ধন।
অনবদ্য এই চিন্তাভাবনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে ছিলেন কলকাতার নামী শিল্পীরাও। গানে গানে জমে ওঠে পুজোর আড্ডা। এ ছাড়া ‘প্রগতি’ মঞ্চ দিয়েছে তরুণ প্রজন্মকেও।
বাঙালির প্রাণের উৎসব কি খাওয়াদাওয়া ছাড়া সম্পূর্ণ হয়! ‘প্রগতি’র পুজোয় অন্যতম আকর্ষণ ছিল এটাই। কচুরি, আলুর দম থেকে খিচুড়ি-লাবড়া, সঙ্গে পাঁঠার মাংস, মুরগির মাংস এবং কলকাতার কায়দাতেই তৈরি চিকেন বিরিয়ানি। ছিল বিভিন্ন নিরামিষ পদও। শেষ পাতে চাটনি, পাঁপড় ও মিষ্টির চেনা স্বাদ।
প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ ভাবেই ফিলাডেলফিয়ার মানুষের উৎসবের সঙ্গী হয়ে উঠেছে ‘প্রগতি’। তাই তো সে স্বীকৃতি পেয়েছে টাইমস্ স্কোয়ারেও। উদ্যোক্তাদের মতে, এই স্বীকৃতি নিছক পুরস্কার নয়, বরং প্রবাসে বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার নিরলস প্রচেষ্টার ফলফল।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।