বাঙালি পৃথিবীর যেখানেই যাক, বাঙালিয়ানা ভুলতে পারে নাকি? তাই তো বাংলার বাইরে, দেশের বাইরে যেখানেই বাঙালি নিজের বসত গড়েছে, সেখানেই শুরু করেছে নিজেদের সংস্কৃতির উদ্যাপন। প্রবাসের ঘরেও আশ্বিনে এসেছেন উমা।
যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইকশায়ারও হাঁটল সেই পথে। দেবী দুর্গার আবাহনে মেতেছে সেখানকার ‘বাহারে বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন’। সেখানকার প্রবাসী বাঙালি বাসিন্দা স্বাগত জানালেন, ওয়ারউইকশায়ারের এই সংগঠনটি ২০১৯ সালে স্থাপিত হয়। এর আগে ৭ বছর ধরে সরস্বতী পুজো হলেও শারদোৎসবের আয়োজন এই প্রথম। পুজো এবং সেই উপলক্ষে সংগঠনের প্রথম পুজো ম্যাগাজিন ‘আগমনী’ উদ্বোধন করবেন কনসাল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া, বার্মিংহাম।
পুজোয় প্রতিমা যাচ্ছে বিরাটি থেকে। তা ফাইবার গ্লাসের তৈরি। প্রতি বছর নতুন প্রতিমা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই এই ব্যবস্থা। পুজোর সামগ্রীও যাবে ভারত থেকেই।
আরও পড়ুন:
বিদেশের অন্য শারদোৎসবের মতো এখানেও সপ্তাহান্তে হবে দেবীর আরাধনা। ১৬ অক্টোবর হবে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমীর পুজো। ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর পালন করা হবে নবমী ও দশমী। কলাবৌ স্নান থেকে ঘট পুজো, চণ্ডীপাঠ, আরতি, সন্ধিপুজো, কুমারী পুজো, পুষ্পাঞ্জলি, দেবী বরণ, সিঁদুর খেলা— সবই হবে নিয়ম মেনে। এ ছাড়াও ওই তিন দিন সবাইকে ভোগ খাওয়ানো হবে। পুজোর সব জোগাড় করবেন কমিটির সদস্যরা নিজেরাই। এমনকি রান্নাবান্না থেকে পরিবেশনও নিজেদের হাতেই।
শুধু পুজো নয়, তা ঘিরে মিলনমেলার চেহারা নিচ্ছে উদযাপন। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা। থাকবে খাবার এবং হস্তশিল্পের স্টলও।
এই সংগঠনে শুধু বাঙালি নন, জড়িয়ে রয়েছেন বিহার, রাজস্থান, কর্ণাটক-সহ দেশের নানা প্রান্তের প্রবাসীরা। সকলেই হাতে হাত মিলিয়েছেন পুজোর আয়োজনে। তাঁদের সঙ্গে উদ্যাপনে মেতে উঠবেন স্থানীয় বাসিন্দা, প্রতিবেশী দেশের বাঙালিরাও। আয়োজন এবং পরিকল্পনা দেখে বোঝার উপায় নেই পুজো হচ্ছে ভিনদেশে। আমেজে-মেজাজে এ যেন কোনও উত্তর কলকাতার পাড়ার বারোয়ারি পুজো! আসলে বাঙালি তো তার বেঁধে বেঁধে থাকা, একসঙ্গে আনন্দ করে সব কাজ করাতেই অভ্যস্ত। দূর প্রবাসের পুজোও তাই কখন যেন কলকাতার গন্ধ মেখে ফেলেছে!
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।