সদ্যই শেষ করেছেন ‘বীরাঙ্গনা টু’-এর কাজ। তার পরেই পাড়ি দিয়েছিলেন মাসাইমারার উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে ফিরেও চলছে কাজ।খুবই ব্যস্ত অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন। এই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও কেমন চলছে তাঁর পুজো প্রস্তুতি? কী করবেন এ বারের পুজোয়?
আনন্দবাজার ডট কম-কে অভিনেত্রী জানান, কাজের চাপে খুব একটা কেনাকাটা শুরু করতে পারেননি তিনি। শুধু মা-বাবার উপহারটুকুই কিনে রেখেছেন আপাতত। ক’দিন পরে শুরু করবেন নিজের কেনাকাটা।
ছোটবেলার পুজো
ছোটবেলার পুজো কেমন কাটত অভিনেত্রীর? সন্দীপ্তা বলেন, "ভবানীপুরে জন্মেছি এবং বড় হয়েছি। আমার ছোটবেলার পুজো কেটেছে ওইখানেই। হরিশ পার্কে ঠাকুর দেখতাম। দোলনায় চড়া বাধ্যতামূলক ছিল পুজোর সময়ে। তাতেই আমার সবথেকে বেশি আনন্দ ছিল। এখনও সুযোগ পেলে মুখ ঢেকে বন্ধুদের সঙ্গে চলে যাই দোলনা চড়তে। ”
আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে মণ্ডপ পরিক্রমায় বেরলেও এখন আর তা হয় না বলেই জানান অভিনেত্রী। এখন তাঁর পুজো কাটে আবাসনের পুজোয়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে। পরিবারের সঙ্গে সপ্তমীতে কোনও একটা রেস্তরাঁয় খেতে যান। পুজোয় ডায়েট উড়িয়ে চুটিয়ে খাওয়াদাওয়াতেই তাঁর আনন্দ। কী ধরনের খাবার তিনি পুজোয় খেতে পছন্দ করেন, আমিষ না নিরামিষ? সন্দীপ্তা বলেন, "পুজোয় নিরামিষের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা বাঙালি। পুজোর দিনগুলোয় জমিয়ে মাটন, চিংড়ি, চিকেন, নানা রকম মাছ খাব।"
সারা বছর সন্দীপ্তা এবং তাঁর স্বামী সৌম্য মুখোপাধ্যায়, দু’জনেরই কাজের চাপ থাকে বিস্তর। বেড়াতে যেতে পারেন না সে ভাবে। অষ্টমীতে তাই শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে অঞ্জলি দিয়ে নবমীর দিনই শহর ছাড়েন। দশমীতে সিঁদুর খেলা হয়ে ওঠে না অভিনেত্রীর।
ম্যাডক্সেই সারারাত
রাতভর ঠাকুর দেখার অভিজ্ঞতা? সন্দীপ্তা হাসতে হাসতেই জানালেন, তিনি কোনও দিনই আনন্দ করে সারা রাত ঠাকুর দেখেননি। কারণ? রাত দুটো বাজলেই তার পেয়ে যেত ঘুম! এক বার নাকি বাবা বারণ করেছিলেন মাঝরাতে বাড়ি ফিরতে। সন্দীপ্তা তাই একটা গোটা রাত ম্যাডক্স-এই কাটিয়ে দিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “বাবা মা বলতেন, বড় হয়েছিস, বন্ধুদের সঙ্গে রাতে ঘোর। আমিই চাইতাম না। মনে হত বাড়িতে থাকলেই ভাল হয়!"
পুজোয় কোনও দিনই আলাদা করে প্রেম হয়নি অভিনেত্রীর। তাই সে বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতাও নেই। পুজোর সময়ে দিদি-বোনদের টুকটাক প্রেম হলেও টেকেনি কোনও দিন। সন্দীপ্তা জানান, ছোটবেলায় তিনি ছিলেন ‘টমবয়’ গোছের। তাই পুজোয় আলাদা করে সে ভাবে এই বিষয়ে কোনও দিনই ভাবার সময় ছিল না।
মা দুর্গার কাছে কী চাইবেন? জিজ্ঞেস করায় মুচকি হেসেই তিনি বলেন, "মা আসুক, তখন সামনাসামনি বলব..."
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ।