প্রথমে আচমকাই ধারাবাহিক থেকে সরে যাওয়া, তার পর শারীরিক অসুস্থতা—একটার পর একটা ঝক্কি সামলেই চলেছেন অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়। বেশ কিছু দিন কাজ থেকে দূরে থাকার পর ফের শুটিংয়ে ফিরছেন তিনি। অরিন্দম শীলের নতুন ছবিতে দেখা যাবে তাঁকে। ফলে ধীরে ধীরে আবারও ব্যস্ততার ছন্দে ফিরতে শুরু করেছেন অভিনেত্রী।
এ দিকে শহর জুড়ে দুর্গাপুজোর গন্ধ। কোথাও মণ্ডপ তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, কোথাও কেনাকাটার ভিড়। পুজো মানেই যখন বন্ধু, পরিবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা, তখন তন্বীর পুজোর ছবিটা খানিক আলাদা। কাজের ব্যস্ততা তো থাকছেই, তার ফাঁকে শহর কলকাতায় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনাও নেই তাঁর। বরং এ বার পুজোর সময়টা কলকাতা থেকে অনেক দূরে, অন্য দেশে কাটানোর পরিকল্পনা করে ফেলেছেন অভিনেত্রী।
তা হলে কি এ বার কাজেই ডুবে থাকবেন তন্বী? কাজ থাকছেই। ছবির কাজের পাশাপাশি অভিনেত্রী জানালেন, তাঁর জীবনে এখন কাজ আর পরিবারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অরিন্দমের ছবিতে তাঁর চরিত্রটিও যে আগের কাজগুলির থেকে আলাদা, সে কথাও জানালেন তিনি। তন্বীর কথায়, “কাজ আর পরিবারই আমার এখন পৃথিবী। অরিন্দমদার কাজটা করব। এত দিন তো বেশিরভাগ সময়েই আমাকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখেছে দর্শক। এখানে একেবারে অন্যভাবে দেখা যাবে। তবে পুজোর আগেই শুরু হচ্ছে না।”
পুজোর সময় শহরে না থাকার পরিকল্পনা কেন? এ বার গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া। শুধু তাই নয়, তন্বীর কথায়, এই প্রথম পুজোর সময় কলকাতায় থাকবেন না তিনি। তবে এর নেপথ্যে কোনও বিশেষ কারণ নেই। বরং অন্য একটি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই নতুন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত। জন্মদিনের সময়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল অভিনেত্রীর। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। তার প্রভাব পড়েছিল মনেও। তাই সুযোগ পেয়েই হয়তো মনখারাপটা কাটিয়ে উঠতে দূরে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
তন্বী বললেন, “আমার জন্মদিনের সময়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সব পরিকল্পনাই ওলটপালট হয়ে যায়। তাই মনখারাপও হয়েছিল। সেই জন্যই সিদ্ধান্ত।”
তবে পুজো মানেই তো শুধু ঘোরাঘুরি নয়, বাঙালির জীবনে এই সময়টা অনেকটা সম্পর্ক, কাছের মানুষ আর একসঙ্গে সময় কাটানোরও। তা হলে এ বার কি মনের মানুষের সঙ্গে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? নাকি ইন্দোনেশিয়ার সফরেই সীমাবদ্ধ থাকবে পুজোর আনন্দ?
এই প্রশ্নের উত্তরেও অবশ্য কোনও রাখঢাক রাখলেন না অভিনেত্রী। বরং বেশ সটান উত্তর তন্বীর, “কাজই আমার প্রেম। আর কোনও প্রেম নেই আমার জীবনে।”
শিল্পীদের মুখে এমন উত্তর নতুন নয়। কিন্তু তন্বীর ক্ষেত্রে কথাটা নেহাতই কথার কথা নয়, দাবি তাঁর। বরং পুরনো অভিজ্ঞতা থেকেই এখন সম্পর্কে জড়াতে খানিক ভয় পান তিনি। বার বার মন ভেঙেছে, তাই নতুন করে কাউকে জীবনে জায়গা দেওয়ার আগে নিজেকেই সরিয়ে নেন তন্বী। সম্পর্কের সম্ভাবনাকে শুরু হওয়ার আগেই দূরে সরিয়ে রাখার সেই অভ্যাসের কথাও অকপটে জানালেন অভিনেত্রী।
তিনি বললেন, “এত বার মন ভেঙেছে আমার। তাই ভয় করে। এখন সে ভাবে কারও সঙ্গে জড়াতে চাই না। আগে থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে নিই। তাই সত্যিই এখন আমার জীবনে কাজ আর পরিবার ছাড়া বিশেষ কোনও মানুষ নেই।”
এই মুহূর্তে তাই সম্পর্কের চেয়ে কাজ, আর শহরের পুজোর চেয়ে ইন্দোনেশিয়া সফর—এই দুই নিয়েই তন্বীর ব্যস্ততা। আর পুজোর ছুটিতে থাকছে বিদেশ ভ্রমণ। সব মিলিয়ে জীবনের এই পর্বে নিজের মতো করেই এগোতে চান অভিনেত্রী। ইন্দোনেশিয়া থেকে ফিরে নতুন ছবির কাজেও নেমে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে, ফিরেই হয়তো শুরু করে দেবেন ‘কলকাতায় শার্লক’-এর কাজ।
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ।