Health Partner
Comfort Partner
Knowledge Partner

নকশার আড়ালে লুকিয়ে আসল-নকলের রহস্য! জামদানি শাড়ি কেনার আগে জানুন এই খুঁটিনাটি

জামদানি মানেই সূক্ষ্ম কারুকাজ, মিহি বুনন আর বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। শাড়ির শরীর জুড়ে ফুটে ওঠা ফুল, লতা, জ্যামিতিক নকশা কিংবা নান্দনিক পাড়— সব মিলিয়ে জামদানি যেন এক চলমান শিল্পকর্ম। বাংলার তাঁতশিল্পের এই ঐতিহ্য শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তেও সমাদৃত।

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১১
প্রতীকী চিত্র

প্রতীকী চিত্র


জামদানি মানেই সূক্ষ্ম কারুকাজ, মিহি বুনন আর বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। শাড়ির শরীর জুড়ে ফুটে ওঠা ফুল, লতা, জ্যামিতিক নকশা কিংবা নান্দনিক পাড়— সব মিলিয়ে জামদানি যেন এক চলমান শিল্পকর্ম। বাংলার তাঁতশিল্পের এই ঐতিহ্য শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তেও সমাদৃত।

তবে জামদানির জনপ্রিয়তা যত বেড়েছে, বাজারে বেড়েছে যন্ত্রে তৈরি নকল শাড়ির সংখ্যাও। ফলে আসল জামদানি চিনে কেনা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জ। সুতি জামদানি, ঢাকাই জামদানি কিংবা নরম জামদানি— যে শাড়িই কিনুন, কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই আসল-নকলের ফারাক অনেকটাই বোঝা সম্ভব।

ঐতিহ্যের শিকড়ে জামদানি

জামদানির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। মুঘল আমলে বর্তমান বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিশেষ ধরনের বয়নশিল্পের বিকাশ ঘটে। ‘জামদানি’ শব্দটির উৎস ফারসি ভাষায়। ‘জাম’ শব্দের অর্থ ফুল এবং ‘দানি’ বলতে বোঝায় পাত্র। জামদানির সূক্ষ্ম ফুলেল নকশার সঙ্গে এই নামের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এক সময়ে জামদানি তৈরি হত অত্যন্ত সূক্ষ্ম মসলিন দিয়ে। অত্যন্ত মিহি ও স্বচ্ছ সেই কাপড় মূলত রাজপরিবার এবং অভিজাতদের পোশাক হিসেবেই ব্যবহৃত হত।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দক্ষ তাঁতিরা এই বয়নকৌশলকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আজ যন্ত্রচালিত তাঁতের দাপট বাড়লেও ঐতিহ্যবাহী জামদানি এখনও হাতে বোনা হয়। একটি শাড়ি তৈরি করতে কখনও কয়েক সপ্তাহ, আবার কখনও কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। আসল জামদানি শাড়ির নেপথ্যে তাই শুধু সুতো আর নকশা নয়, কারিগরের দীর্ঘ পরিশ্রম ও অসীম ধৈর্যও থাকে।

কী ভাবে চিনবেন আসল জামদানি?

নকশা দেখুন, বুনন বুঝুন

আসল জামদানি চেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তার বুনন। সাধারণ ছাপা বা এমব্রয়ডারি করা শাড়ির মতো জামদানির নকশা কাপড়ের উপরে আলাদা করে বসানো হয় না। শাড়ি বোনার সময়েই বিশেষ কৌশলে এক একটি মোটিফ কাপড়ের মধ্যে তৈরি করা হয়।

এই কারণেই জামদানির নকশা কাপড়ের উপরে যেন ভেসে থাকে। ফুল, পাতা, লতা বা জ্যামিতিক মোটিফ— সবই শাড়ির বুননের অংশ।

শাড়ির উল্টো পিঠটিও এক বার দেখে নিন। আসল জামদানিতে নকশা তৈরির জায়গায় সামান্য উঁচু-নিচু বা খসখসে বুনন অনুভূত হতে পারে। তা ছাড়া, আসল জামদানিতে মোটিফ তৈরির বুনন শাড়ির উল্টো দিক থেকেও বোঝা যায়। ফলে নকশা যদি একেবারে ছাপার মতো সমতল বা শুধু উপর থেকে ছাপা বা এমব্রয়ডারি করা বলে মনে হয়, তা হলে প্রকৃত জামদানি না-ও হতে পারে।

স্পর্শেই লুকিয়ে পরিচয়

জামদানি তৈরি হত মসলিন কাপড়ে। বর্তমানে অবশ্য সুতি, সুতি সিল্ক-সহ বিভিন্ন ধরনের জামদানি বাজারে পাওয়া যায়। তবে ভাল মানের জামদানি সাধারণত হালকা, আরামদায়ক এবং শরীরে সহজে বসে যায়।

শাড়ি কেনার সময়ে হাত দিয়ে কাপড়ের গুণমানও পরীক্ষা করুন। কাপড়ের স্পর্শ মসৃণ এবং স্বাভাবিক হওয়ার কথা। অতিরিক্ত শক্ত বা অস্বাভাবিক চকচকে কাপড় দেখলে একটু সতর্ক থাকুন। তা সম্ভবত যন্ত্রে তৈরি।

মোটিফে ধরা সূক্ষ্মতা

জামদানির আসল সৌন্দর্য তার নকশায়। ফুলেল মোটিফ, লতা-পাতা, জ্যামিতিক নকশা এবং সূক্ষ্ম পাড়—সব মিলিয়েই এর নিজস্ব সৌন্দর্য।

শাড়ি কেনার সময়ে মোটিফের বুনন ও বিন্যাস ভাল করে দেখুন। নকশা যেন কাপড়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে মিশে থাকে। পাড় এবং আঁচলেও কারুকাজের সূক্ষ্মতা থাকা জরুরি।

হাতে বোনা শাড়ির নকশায় সামান্য হেরফের থাকতেই পারে। যন্ত্রে তৈরি কাপড়ের নিখুঁত ও একইরকম নকশা দেখে সেটিকেই আসল বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

রঙে ঐতিহ্যের ছাপ

ঐতিহ্যবাহী জামদানিতে সাদা, অফ-হোয়াইট কিংবা হালকা প্যাস্টেল রঙের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। তাতে লাল, সবুজ, সোনালি কিংবা অন্যান্য কনট্রাস্ট রঙের সূক্ষ্ম মোটিফ শাড়িকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

তবে ইদানীং ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উজ্জ্বল এবং গাঢ় রঙের জামদানিও তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু রঙের ভিত্তিতে জামদানি আসল বা নকল বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বরং বুনন, কাপড় এবং নকশার দিকে বেশি নজর দিন।

চোখ রাখুন দামে

আসল হ্যান্ডলুম জামদানি তৈরি করতে দীর্ঘ সময় এবং দক্ষ শ্রমের প্রয়োজন। তাই অত্যন্ত কম দামের শাড়িকে ‘অরিজিনাল হ্যান্ডলুম জামদানি’ দাবি করা হলে ভাল ভাবে যাচাই করুন। শুধু দাম বেশি হলেই শাড়ি আসল হবে, তা নয় ঠিকই। তবে অস্বাভাবিক কম দাম অবশ্যই প্রশ্ন তোলার মতো বিষয়।

হ্যান্ডলুম মার্ক ও প্রামাণিকতার তথ্য

ভারতে হ্যান্ডলুম পণ্যের ক্ষেত্রে ‘হ্যান্ডলুম মার্ক’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উদ্যোগ। বিশেষ করে অনলাইনে শাড়ি কেনার সময়ে বিক্রেতা শাড়িটির হ্যান্ডলুম পরিচয়, শংসাপত্র এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য দিচ্ছেন কি না, দেখে নিন। বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার সময়ে শাড়ির বুনন ও উৎপত্তি সম্পর্কে তথ্য চাইতেও দ্বিধা করবেন না।

এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ

Jamdani Saree Durga Puja Fashion Saree

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy