সাদামাঠা গৃহবধূ থেকে স্বনামধন্য কেশবিন্যাসকারী। তিরিশ বছরের কর্মজীবনে নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছেন বহু মানুষকে। তাঁর হাতের জাদুতে নাকি বেড়ে যায় মুখের সৌন্দর্য। কলকাতার জনপ্রিয় বিউটি স্যালঁ এবং স্পা-এর কর্ণধার জলি চন্দ এখন বাংলার তারকাদের কেশসজ্জার অন্যতম পথিকৃৎ।
পুজোর মুখে নিজেকে সাজিয়ে তোলার ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির ঘরে ঘরে। চুলের সাজে এ বার কোন কোন ধরনের কাট বাজার মাতাচ্ছে? কোন রঙেই বা চুল রাঙিয়ে তোলার প্রবণতা বেশি এ বছর? যে প্রজন্মের চর্চা ইদানীং লোকের মুখে মুখে ফিরছে, সেই জেন জ়ি-রা পুজোয় কোন স্টাইলের দিকে ঝুঁকছে বেশি? আনন্দবাজার ডট কমের তরফে জলি-র কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এ বিষয়ে। প্রবল কর্মব্যস্ততার মাঝেও জলি জানালেন, জেন জ়ি হোক বা মিলেনিয়াল, দুই প্রজন্মই চাইছে এমন চুলের কাট, যা অত্যন্ত সহজে সামলানো যায়। তাঁর মতে, ইদানীং প্রত্যেকেই খুব ব্যস্ত। আলাদা করে শুধুমাত্র চুলের জন্য সময় ব্যয় করার সময় কারও হাতেই নেই। ফলে প্রত্যেকে নিজের পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সবদিক চিন্তাভাবনা করেই চুল কাটছেন।
তবে সবার মধ্যে এক বিশেষ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জলি। তিনি বলেন, "একটা অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করছি এ বছর। এতদিন মেয়েরা পুজোর সময়ে বড় চুল রাখতে চাইত বিভিন্ন স্টাইলে চুল বাঁধা বা খুলে রাখার জন্যে। তবে এ বছর যে কোনও বয়সের মহিলারাই চুল ছোট করে কেটে ফেলতে চাইছেন। এবং তার জন্য একটুও অস্বস্তি বোধ করছেন না তাঁরা। বড় চুল একদম ছোট করে পিক্সি, ইনভার্টেড বব, লং বব, উল্ফ, অ্যাসিমেট্রিক, ওয়েজ কাট, ফেড আউট-এর মতো নানা ধরনের কাট বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। জেন জ়ি-রা বিশেষত চাইছে কোরিয়ান বা জাপানিদের মতো চুলের কাট, কারণ তারা ওটিটি সিরিজ দেখে প্রভাবিত।"
এমন ট্রেন্ডে গা ভাসানোর রহস্যটা কী? মুচকি হেসে জলি বলেন, “আমাদের স্যালঁ-তে শুধুমাত্র চুল কাটা বা অন্যান্য রূপসজ্জার কাজ হয় না। বরং প্রত্যেকের জীবনের গল্প, তাদের ভাল লাগা, খারাপ লাগা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা এবং ভাবনা সম্পর্কেও আলোচনা হয়। সবার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, মানুষ এখন ফের খুব হুজুগে হয়ে পড়েছে। ঠিক যেমনটা কোভিডের পরে হয়েছিল। এ বার হয়তো নেপালের ঘটনাও একই ভাবে মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছে। ফের বুঝিয়ে দিয়েছে, জীবন বড় অনিশ্চিত। তাই হয়ত তারা ভাবছে জীবন একটাই আর তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই সেই এক জীবনেই সব শখ পূরণ করে ফেলতে হবে। হয়তো সে কারণেই প্রত্যেকে নিজের ভোলবদল করতে ইচ্ছে মতো চুলের কাটিং এবং রং করে ফেলছেন। তবে স্টেপ কাট, বয়েজ কাট, ইউ কাট— এগুলো এখন আর কেউ কাটতে চাইছেন না।”
শুধুমাত্র চুলের কাট নয়, চুলের রং নিয়েও মানুষের পছন্দে পরিবর্তন এসেছে বলে জানালেন জলি। এখন চুলে লাল বা সোনালি রং করতে কেউ আর বিশেষ পছন্দ করেন না। বরং লাল এবং খয়েরি রঙের মিশ্রণ, গোলাপি, বেগুনি, নীলের মতো অন্য রকম রঙের উপরেই ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেকেই করাচ্ছেন প্ল্যাটিনাম হাইলাইট, অর্থাৎ সাদা চুলের পরিমাণ বাড়াতে চাইছেন।
পুজোয় কী ভাবে চুল কাটলে ভাল দেখাবে বা পুজোর কয়েক দিন কী ভাবে চুলের যত্ন নিতে হবে? জলি বলেন, "প্রত্যেকের মুখের আকার আলাদা আলাদা হয়। তাই মুখের আকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুল কাটলে তবেই ভাল দেখাবে। একটা চুলের কাটে এক জনকে ভাল লাগছে বলে অন্য জনকেও যে ভাল লাগবে, তা কিন্তু একেবারেই নয়। পুজোর দিনগুলোয় চুলের যত্ন করতে হলে লিভ ইন কন্ডিশনার, স্প্রে কন্ডিশনার, হোল্ডিং ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। সিরামও ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা চুলের ধরন ও অবস্থা বুঝে।"
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।