আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলার শাড়ির জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। হালকা সুতি, তাঁত থেকে শুরু করে নানা ধরনের সিল্ক, বাংলার বুনন শিল্পের সম্ভার বেশ বৈচিত্র্যময়। তবে এই সমস্ত শাড়ির মধ্যে জামদানির আভিজাত্য যেন একটু আলাদা। এপার বাংলা হোক কিংবা ওপার বাংলা, জামদানি বরাবরই বাঙালির গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্য।
উৎসবের দিনে বাঙালি শাড়ি পরবে, অথচ জামদানি পরবে না! তা কি আবার হয়? দুর্গাপুজোর মরশুমে জামদানির নানা ধরনেই ভরে ওঠে বাজার। ঢাকাই, সফট কিংবা ফুলিয়ার জামদানির পাশাপাশি এবার বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে কাটদানা জামদানি । বাহারি রং, সূক্ষ্ম নকশা আর কাটদানার ঝলমলে কাজ, সব মিলিয়ে পুজোর সাজে এই শাড়ি হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
সাদা, লাল, নীল, বেগুনি প্রায় সব রঙেই দেখা মিলছে কাটদানা জামদানির। তবে শাড়ির বুনন ও নকশার পাশাপাশি এর বিশেষ আকর্ষণ হল কাটদানার উজ্জ্বলতা, যা সাধারণ জামদানির সৌন্দর্যে যোগ করে এক অন্য মাত্রা।
কী এই কাটদানা জামদানি?
কাটদানা জামদানি মূলত জামদানির ঐতিহ্যবাহী বুননের সঙ্গে আধুনিক সূক্ষ্ম হস্তশিল্পের মেলবন্ধন। জামদানি শাড়ির স্বাভাবিক আভিজাত্যের সঙ্গে যখন ছোট ছোট কাটদানা বা কাঁচের পুঁতি জাতীয় অলঙ্করণ যুক্ত হয়, তখন শাড়িতে তৈরি হয় এক ধরনের ঝলমলে আভা।
জামদানির চিরাচরিত ফুল, লতা, পাতা কিংবা জ্যামিতিক নকশার উপর বা তার আশপাশে সূক্ষ্ম হাতে কাটদানা বসানো হয়। কোথাও সুতোর কাজের সঙ্গে, আবার কোথাও আলাদা করে এই অলঙ্করণ করা হয়। আলো পড়লে কাটদানাগুলি ঝলমল করে ওঠে এবং শাড়ির নকশাগুলিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
কাটদানা জামদানির অন্যতম বিশেষত্ব হল এর ফিউশনধর্মী নকশা। একদিকে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও জামদানি বুনন, অন্যদিকে রয়েছে আধুনিক হাতের কাজ। ফলে শাড়িটি এক’ই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এবং সমকালীন ফ্যাশনের সঙ্গে মানানসই।
অনেক কাটদানা জামদানিতে সুতোর কাজ, আরি বা জার্দোসি ধরনের সূক্ষ্ম কারুকাজের সঙ্গে কাটদানা ব্যবহার করা হয়। ফলে সাধারণ জামদানির তুলনায় এতে আরও বেশি উজ্জ্বলতা এবং উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
হালকা অথচ নজরকাড়া:
কাটদানা বসানো থাকলেও অনেক কাটদানা জামদানি তুলনামূলক ভাবে হালকা রাখা হয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা কিংবা পুজোর দিন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘোরাফেরার ক্ষেত্রেও এটি বেশ আরামদায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে শাড়ির ঝলমলে কাজ এটিকে আলাদা করে তোলে। অর্থাৎ আরাম এবং সাজ দু’য়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই কাটদানা জামদানির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে নতুন শাড়ি, সাজগোজ এবং উৎসবের আমেজ। অষ্টমীর অঞ্জলি হোক কিংবা দশমীর সিঁদুর খেলা বাঙালি নারীর সাজে শাড়ির উপস্থিতি চিরন্তন। সেই সাজে ঐতিহ্যের ছোঁয়া রাখতে চাইলে এ বারে জামদানি রাখতেই হবে পুজোর সাজে।
তার সঙ্গে যদি থাকে কাটদানার ঝলমলে কাজ, তাহলে উৎসবের সাজে আলাদা করে নজর কাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে লাল-সাদা কাটদানা জামদানি এ বারে পুজোর ফ্যাশনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবেকি বাঙালি সাজের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল ঘটিয়ে এই শাড়ি তৈরি করছে এক অন্যরকম উৎসবের দৃশ্য।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।