গরমে সিল্ক নয়, সুতির পোশাকেই মাত পৌষালীর! ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী, সাজের প্রতিটি পরতে বাঙালিয়ানা
ভ্যাপসা গরমে ভারী পোশাকের বদলে সুতির পোশাকেই ভরসা গায়িকা পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ষষ্ঠীর সাদা ‘ওয়ান পিস্’ থেকে অষ্টমীর শাড়ি, আর অক্সিডাইজ় ও তামাটে গয়নায় কী ভাবে সাজে আনলেন স্বতন্ত্র ছোঁয়া?
পুজোর ক’টা দিন কী ভাবে সাজবেন, কেমন হবে রূপটান, গয়না আর চুলের সাজ—এই নিয়ে পরিকল্পনা চলে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এই ভ্যাপসা গরমে ভারী সাজে অস্বস্তি হওয়াও স্বাভাবিক। তাই বলে পুজোর সাজে আপস কেন? আরাম বজায় রেখেও যে উৎসবের সাজে নজর কাড়া যায় সঙ্গীতশিল্পী পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজে ধরা পড়ল সেই ছোঁয়া।
গরমে স্বস্তি পেতে পোশাক নির্বাচনে আরামকে গুরুত্ব দিয়েছেন পৌষালী। তবে আরাম মানেই যে সাজে জাঁকজমকের অভাব থাকবে, এমন নয়। মানানসই পোশাক, পরিমিত রূপটান আর নজরকাড়া গয়নার সমন্বয়ে গায়িকা দেখিয়েছেন, কী ভাবে স্বচ্ছন্দ থেকেও পুজোর সাজে আনা যায় উৎসবের আমেজ।
পৌষালীর পুজোর সাজের মূল আকর্ষণ সুতির পোশাক। গায়িকার কথায়, “আমি ভীষণ সুতির পোশাক পরতে ভালবাসি”। ষষ্ঠীর সাজে তাঁর পরনে সুতোর কাজ করা সাদা রঙের কটনের ‘ওয়ান পিস্’। পোশাকের সরলতার সঙ্গে বাঙালিয়ানার মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে তাঁর প্রথম দিনের লুক।
ষষ্ঠীর সাজে রূপটান রেখেছেন খুবই পরিমিত। সঙ্গে অক্সিডাইজ়ের গয়না আর এক হাতে নীল চুড়ি। আঙুলের আংটি থেকে কানভরা দুল—সব মিলিয়ে সাজে এসেছে পরিপূর্ণতা। পৌষালীর এই লুকে অতিরিক্ত জাঁকজমক নেই, বরং ছোট ছোট অনুষঙ্গেই ফুটে উঠেছে নিজস্বতা।
চুলের সাজও পোশাকের সঙ্গে মানানসই। পরনে ‘ওয়ান পিস্’ হলেও পৌষালীর গোটা সাজে রয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। আধুনিক পোশাকের সঙ্গে সাবেকি গয়নার মেলবন্ধনে ষষ্ঠীর সাজ হয়ে উঠেছে স্নিগ্ধ অথচ আকর্ষণীয়।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে পৌষালীর ষষ্ঠীর সাজে রয়েছে স্বস্তি আর সৌন্দর্যের মেলবন্ধন। শুধু দিনের বেলা নয়, রাতের পুজোতেও এমন লুক অনায়াসে বেছে নিতে পারেন। গরমে আরাম বজায় রেখেও যে সাজে নজর কাড়া যায়, তারই উদাহরণ গায়িকার এই সাজ।
সপ্তমীর সাজেও সুতির প্রতি ভালবাসা বজায় রেখেছেন গায়িকা। এ দিন তাঁর পরনে ক্রিম রঙের সুতির শাড়ি, সঙ্গে সবুজ ব্লাউজ়। হালকা রূপটানে সাজ রেখেছেন সাবলীল। শাড়ির রং, ব্লাউজ় আর রূপটানের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এমন এক লুক, যা একই সঙ্গে আরামদায়ক ও উৎসবের উপযোগী।
সুতির পোশাক যে শুধু দিনে পরা যায়, এই ধারণা মানতে নারাজ পৌষালী। তাঁর কথায়, “সকলের একটা ধারণা আছে সুতির যা কিছু দিনের বেলা পরা হয়। আর রাতে সিল্ক। কিন্তু কেউ যদি আমার মতো হয়, সে সপ্তমীর রাতে এইরকম সাজের সঙ্গে সুতির পোশাক পরতে পারে।”
সপ্তমীর সাজে পৌষালীর গয়না নির্বাচনেও রয়েছে অন্যরকম ভাবনা। অক্সিডাইজ় ও রুপোর গয়না পরেছেন তিনি। বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে হাতের বাজুবন্দ এবং কোমরবন্ধনী। শাড়ির সঙ্গে এই অলঙ্কারের মেলবন্ধন গায়িকার সাজে এনেছে স্বতন্ত্র মাত্রা।
আরও পড়ুন:
পৌষালীর পরামর্শ, এই ধরনের সাজের সঙ্গে মাটির কিংবা বীজের গয়নাও বেশ মানানসই হতে পারে। অর্থাৎ, শাড়ির সঙ্গে গয়না বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে চেনা ছকের বাইরে গিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন। তাতেই সাজে আসবে নতুনত্ব।
অষ্টমীর রাত মানেই সাবেকি সাজে রাজকীয়তার ছোঁয়া। পৌষালীর অষ্টমীর লুকেও রয়েছে সেই আভিজাত্য, বাঙালিয়ানা আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। সুতির শাড়িতেও যে রাজকীয় সাজ সম্ভব, গায়িকার এই সাজ যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
অষ্টমীর রাতে পৌষালীর পরনে ‘ভার্জিন টিস্যু’ রঙের সুতির শাড়ি। একই রঙের সুন্দর কাজ করা ব্লাউজ়ের সঙ্গে মানানসই তামাটে রঙের গয়না। এমন শাড়ি পরলে সিল্কের অভাবও অনুভব হবে না। গরমে অযথা কষ্ট না পেয়েও সাজে বজায় থাকবে জাঁকজমক।
অষ্টমীর রূপটানেও রয়েছে সাবেকি বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। তামাটে রঙের গয়নায় ফুটে উঠেছে সাজের রাজকীয়তা। শাড়ি, ব্লাউজ়, অলঙ্কার আর রূপটানের সামঞ্জস্যে পৌষালীর সাজ পেয়েছে পরিপূর্ণ রূপ।
চুলে খোঁপা বেঁধেছেন পৌষালী, তাতে লাগিয়েছেন লাল গোলাপ। এই আভিজাত্যের ছোঁয়াই গোটা সাজকে দিয়েছে পরিপূর্ণতা। তামাটে গয়না আর লাল গোলাপের মেলবন্ধনে অষ্টমীর সাজে ফুটে উঠেছে বাঙালিয়ানার চেনা আবেশ।
ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী—তিন দিনের সাজেই সুতির প্রতি নিজের ভালবাসাকে তুলে ধরেছেন পৌষালী। কখনও সুতোর কাজ করা ‘ওয়ান পিস’, কখনও শাড়ি, আবার কখনও তামাটে গয়নায় রাজকীয়তা—প্রতিটি লুকেই রয়েছে আরাম ও আভিজাত্যের মেলবন্ধন। পুজোয় ভারী পোশাকের বদলে সুতি বেছে নিয়েও যে সাজে নজর কাড়া যায়, পৌষালীর সাজ তারই উদাহরণ। (ভাবনা: বিহঙ্গী বিশ্বাস, প্রয়োগ: বিহঙ্গী বিশ্বাস এবং তপাঞ্জনা চক্রবর্ত্তী, ছবি: উজ্জয়িনী ঘোষ, সাজশিল্পী: সূর্যদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পোশাক: অনুশ্রী মলহোত্র, রূপটান ও কেশসজ্জা: রাজদীপ দাস, গয়না: ব্যানার্জী ইনিসিয়েশন, স্থান: হোটেল হলিডে ইন, কলকাতা এয়ারপোর্ট) (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)