দক্ষিণে ঠাকুর দেখতে গিয়ে খিদেয় পেট চুঁইচুঁই! কোথায় কেমন জমবে পেটপুজো? রইল তালিকা
দক্ষিণ কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে পেয়েছে খিদে! বড় রেস্তোরাঁ নাকি ছোট্ট দোকান— কোথায় যাবেন, খাবেনই বা কী? রইল দক্ষিণে উদরপূর্তির বেশ কিছু বিখ্যাত ঠিকানার হালহদিশ।
দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অজস্র নতুন-পুরনো ভাল খাবারের দোকান। পুজোর সময়ে অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা বা খাবারের স্বাদও মন্দ নয়। তবু ঠাকুর দেখতে গিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কোন রেস্তোরাঁয় জমিয়ে কেমন পেটপুজো হতে পারে, না জানলে চলে?
অউধ ১৫৯০ : দেশপ্রিয় পার্ক চত্বরে এই জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ। নবাবি খানায় জমিয়ে ভোজ সারতে চাইলে এই দোকানটি বেছে নিতে পারেন। দেশপ্রিয় পার্ক, ত্রিধারা, বালিগঞ্জ কালচারালের মণ্ডপগুলি থেকে কাছেই এই রেস্তোরাঁ। শহরের নানা জায়গায় শাখাও রয়েছে তার।
রামানি, দ্যা সোল অব দক্ষিণ : দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের প্রেমে হাবুডুবু? তা হলে এই রেস্তোরাঁয় চলে যেতে পারেন চোখ বন্ধ করে। গোলপার্ক চত্বরে এই সুখাদ্যের ঠিকানা। যে কোনও ধরনের দক্ষিণী পদে পেট ভরাতে চাইলে যেতেই পারেন।
কলকাতা রাজবাড়ি: বালিগঞ্জ চত্বরে রয়েছে বাঙালি খাবারের এই রেস্তোরাঁ। পুজোর দিনগুলোয় বাঙালিয়ানায় ডুবে থাকতে চাইলে ঢুঁ মারতেই পারেন এক বার। হরেক রকম বাঙালি পদ রয়েছে এদের ভাঁড়ারে।
দীপিকা'জ কিচেন: ছোট্ট ক্লাউড কিচেন। দামেও বেশ সস্তা। কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে তিন চার মিনিটের হাঁটা পথে, লেক মলের ঠিক উল্টো দিকে এই দোকান। পোলাও-মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের তেলেভাজা, পাতুরি-সহ নানা রকমের খাবার পেয়ে যাবেন এই দোকানে। তবে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। চাইলে কিনে নিয়ে ওইখানেই দাঁড়িয়ে খেতে পারেন। অথবা প্যাক করে নিয়ে যেতে পারেন অন্য কোথাও।
আরও পড়ুন:
আপনজন: দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পুরনো তেলেভাজার দোকান এটি। মাছ-মাংসের রকমারি তেলেভাজার সম্ভার রয়েছে তাদের। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এই দোকানে খেতে যান। পুজোর সময়েও তার ব্যতিক্রম হয় না। কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে খুব বেশি দূরে নয় এই দোকানটি। ঠাকুর দেখার ফাঁকে বা ঠাকুর দেখার শেষে এক বার যাবেন নাকি?
তরুণ নিকেতন: কলকাতার অন্যতম প্রাচীন রেস্তোরাঁ তরুণ নিকেতন। কালীঘাট মেট্রো স্টেশনের কাছেই রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের উপরে এই রেস্তোরাঁয় পৌঁছে যাবেন হাঁটাপথেই। দক্ষিণ কলকাতায় ঠাকুর দেখার ফাঁকে খেয়ে দেখতেই পারেন এই ঐতিহ্যবাহী দোকানে।
দাস কেবিন: গড়িয়াহাট থেকে গোলপার্কের দিকে এগোলে দেখা মিলবে এই বহু পুরনো দোকানটির। এখনও কেবিন স্টাইলে বসার ব্যবস্থা আছে এই ছোট্ট রেস্তোরাঁয়। মূলত মোগলাই পরোটা এবং পাঁঠার মাংসের কষার জন্য বিখ্যাত। পুজোর সময়ে সেকালের কলকাতার স্বাদ উপভোগ করতে যেতে পারেন এই দোকানে।
টিবেটান ডিলাইট : ভবানীপুর অঞ্চলের এক প্রাচীন রেস্তোরাঁ এটি। দক্ষিণ কলকাতায় ঠাকুর দেখার পরে তিব্বতি বা চাইনিজ সুখাদ্যের খোঁজে থাকলে এই দোকানটি আদর্শ ঠিকানা হতেই পারে।
আরও পড়ুন:
ভজহরি মান্না: সারা কলকাতায় অনেকগুলি শাখা আছে এই রেস্তোরাঁর। তবে হিন্দুস্তান পার্ক এবং একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজোর চত্বরে খাবার খেতে চাইলে যেতে পারেন স্থানীয় শাখাটিতে। দক্ষিণ কলকাতার এই অঞ্চলে খুবই বিখ্যাত বাঙালি খাবারের রেস্তোরাঁ এটি। ঠাকুর দেখার শেষে বাঙালি খাবারের জন্য মন আনচান করলে অবশ্যই যেতে পারেন।
সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস : বিভিন্ন শাখা রয়েছে এই বাঙালি রেস্তোরাঁরও। তবে বালিগঞ্জেই তার প্রথম এবং মূল শাখা। বালিগঞ্জ চত্বরে একুশ পল্লি বা আদি বালিগঞ্জের ঠাকুর দেখা হয়ে গেলে পেটপুজো জমতেই পারে এই রেস্তোরাঁর সুস্বাদু বাঙালি রান্নায়।
হাটারি: গড়িয়াহাট-ট্রায়াঙ্গুলার পার্ক এলাকায় রয়েছে খুবই জনপ্রিয় এই রেস্তোরাঁ। মণ্ডপ পরিক্রমা সেরে চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল বা ভারতীয় খাবার খেতে যেতে পারেন এই রেস্তোরাঁয়।
যুগল'স: দক্ষিণ কলকাতায় মন্ডপ পরিক্রমার ফাঁকে মিষ্টিমুখ করতে চাইছেন? যেতে পারেন এই দোকানে। দেশপ্রিয় পার্ক চত্বরে অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান এটি। পাওয়া যায় নানা ধরণের মিষ্টি ও নোনতা পদ।
বিজলী গ্রিল: গোলপার্কে নজরুল মঞ্চের ঠিক উল্টো দিকে এই দোকানটির ভারতীয় বা বাঙালি খাবারের খুব নামডাক। দক্ষিণ কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গেলে এই দোকানের খাবার চেখে আসতেই পারেন।
তা ছাড়াও পুজোর দিনগুলোয় অজস্র অস্থায়ী খাবারের দোকান বসে গোটা দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে। পথচলতি পেটপুজোয় রোল, চাউমিন, ফিশফ্রাই, চপ-কাটলেট, মোমো থেকে ফুচকা, ঝালমুড়ি, পাপড়ি চাট, ঘুগনি, ভেলপুরি কিংবা আইসক্রিম-কুলফি বা সরবত— যেমনটা চাইবেন, পেয়েও যাবেন অঢেল। এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ।