বাড়িতে ছোট্ট বাচ্চা বা পোষ্য? দীপাবলির সাজে এই ভুলগুলি করছেন না তো?
দীপাবলি মানেই বাড়িতে উৎসবের আবহ। তবে বাড়িতে যদি থাকে ছোট্ট বাচ্চা বা পোষ্য, তা হলে সাজসজ্জার পরিকল্পনা করার সময়ে একটু সতর্ক থাকা আবশ্যক।
দীপাবলির আমেজ মানেই আলোর রোশনাই। রঙ্গোলি, ফুলের সাজ থেকে বাহারি আলোর ঝলকানি, সবই যেন হয়ে ওঠে অন্দরসজ্জার অঙ্গ। সব মিলিয়েই বাড়িতে উৎসবের আবহ। তবে বাড়িতে যদি থাকে ছোট্ট বাচ্চা বা পোষ্য, তা হলে সাজসজ্জার পরিকল্পনা করার সময়ে একটু সতর্ক থাকা আবশ্যক।
যেমন ধরুন, দীপাবলিতে প্রদীপের আলোয় ঘর সাজানোর প্রচলন বহুদিনের। তবে প্রদীপ রাখার জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। পর্দা, সোফা, বিছানা বা কাগজের কোনও সাজসজ্জার সামগ্রীর কাছে আগুন না রাখাই শ্রেয়। শিশু বা পোষ্যরা কৌতূহলবশত সেই প্রদীপ ছুঁতে পারে এবং তাতেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
প্রদীপ রাখুন কোনও মজবুজ বা সমতল স্থানে। তা যেন বাড়ির শিশু বা পোষ্যদের নাগালের বাইরে থাকে।
টুনি লাইটের ব্যবহার যেন বিপদ ডেকে না আনে, সেই দিকে নজর দিন। এই আলো দিয়ে ঘর সাজাতে কে না পছন্দ করেন! কিন্তু লাইটের তার মেঝেতে পড়ে থাকলে, ছোট শিশুরা হোঁচট খেতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে পোষ্যরাও।
রঙ্গোলি বা আলপনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও রং বেছে নিন বুঝেশুনে। রঙের গুঁড়ো কেনার আগে তার উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কোনও কারণে ক্ষতিকারক রং শিশু বা পোষ্যদের শরীরে গেলে ঘটতে পারে বিপদ।
আরও পড়ুন:
ফুল বা ছোট পুঁতি বা সাজসজ্জার সামগ্রী যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন। ছোট্ট আকারের জিনিস। কিন্তু শরীরে গেলে শ্বাসরোধের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাড়িতে পোষ্য থাকলে কোন গাছের ফুল বা পাতা অন্দরসজ্জায় ব্যবহার করছেন, সেটিও জেনে নেওয়া জরুরি। কিছু বিশেষ গাছ বা ফুল পোষ্যদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে।
আতশবাজির শব্দ বা আগুন থেকে শিশু এবং পোষ্যদের দূরে রাখা আবশ্যক। বাজি ফাটানোর সময়ে চাই বাড়তি সতর্কতা। উপরন্তু, এর তীব্র শব্দে ভয় পেয়ে যায় চারপেয়ে প্রাণীরা।
প্রয়োজনে দরজা-জানলা বন্ধ রাখুন। তবে ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। ছোটদের বাজি ফাটানোর সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি আবশ্যক।
আরও পড়ুন:
শুধু বাজিই নয়, সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপ-ধুনোও অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হতে পারে। এগুলি জ্বলন্ত অবস্থায় অরক্ষিত স্থানে না রাখাই ভাল। সামান্য সাবধানতায় উৎসবের আমেজ পরিণত হতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)