দীপাবলি আলোর উৎসব হলেও একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না এর অন্ধকারের দিকটিও। আতসবাজির ধুলো, ধোঁয়া আর গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত! শিশু, পোষ্য এবং বয়স্কদের জন্য তো বটেই, বাড়তি সতর্কতা জরুরি ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রেও। তাই বলে তাঁরা কি উৎসবের আনন্দের ভাগীদার হবেন না? চিকিৎসকেরা বলছেন, সঠিক ভাবে সতর্কতা অবলম্বন করলে উৎসবে শামিল হতে পারবেন তাঁরাও। দীপাবলির আমেজে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ক্যানসার রোগীদের?
এ প্রসঙ্গে সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল রেডিয়েশন অঙ্কোলজিস্ট সায়ন দাসের সঙ্গে। তিনি জানালেন, যাঁরা চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং যাঁরা এখনও চিকিৎসাধীন, উভয়ের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা একই রকম। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা এবং কেমোথেরাপির পরে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে বেশি। সেই ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা। কারণ, মানুষের হাঁচি-কাশি এবং বাইরের খাবার থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি যথাসম্ভব বাইরের খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।
চিকিৎসক দাসের কথায়, “সাধারণ মানুষের তুলনায় এই রোগে চিকিৎসাধীন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশেই কম। সে ক্ষেত্রে দীপাবলির দিনে বিশেষ ভাবে সচেতন হওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। কিছু কিছু বিশেষ চিকিৎসার মধ্যে থাকা রোগীদের পুজোয় বাইরে বেরোনোই বারণ। কিন্তু সেই দুরারোগ্য পরিস্থিতির তালিকায় যাঁরা নেই, সেই সব মানুষেরা পাড়ার প্যান্ডেলে গিয়ে বসতেই পারেন কিছু ক্ষণের জন্য।”
অর্থাৎ, ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে মানেই যে দীপাবলির আনন্দ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে, এমনটা নয়। তবে বাইরে বেরোনোর আগে নিজের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কারও ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য প্যান্ডেলে বসে ঠাকুর দেখা সম্ভব হলেও, অন্য কারও জন্য ভিড় এড়িয়ে বাড়িতে থাকাই নিরাপদ হতে পারে। তাই উৎসবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।