দীপাবলি আলোর উৎসব। আর তাতেই যেন ভিন্ন মাত্রা যোগ করে ফানুসের রং। উৎসবের আকাশে রংবেরঙের ফানুস দেখতে মন্দ লাগে না মোটেই। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালেই লুকিয়ে নেই তো বিপদের আশঙ্কা? পরিবেশ দূষণ থেকে পশুপাখিদের বিপদ তো বটেই, সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডও। বাহারি আকাশলণ্ঠনদের নিয়ে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার আগে তাই জেনে নিন ঠিক কী কী বিপদের ঝুঁকি রয়েছে এতে আর কী ভাবেই বা সে সব বিপদ ঠেকানো যাবে।
কী কী বিপদ ডেকে আনতে পারে ফানুস?
আগুন লাগার আশঙ্কা: সাধারণত, ফানুসের ভিতরে ভরা থাকে গরম বাতাস। তার সাহায্যেই এটি ভেসে থাকতে পারে শূন্যে। আর এই গরম বাতাস তৈরিই হয় জ্বালানি পোড়ানো বা আগুনের মাধ্যমে। কোনও কারণে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন হলে ফানুস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিতে পারে কোনও শুকনো গাছের ডাল, খড়ের চালে। অথবা ঢুকে পড়তে পারে অন্যের বাড়িতেও। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে এই বিপদের আশঙ্কা আরও বেশি।
বিদ্যুতের তার জড়িয়ে বিপত্তি: উড়তে উড়তে ফানুস বিদ্যুতের তারে আটকে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন তো ঘটেই, পাশাপাশি শর্ট সার্কিট বা আগুন লাগার আশঙ্কাও রয়েছে।
মানুষের আনন্দ, পাখিদের নয়: আকাশের ওড়ার সময়ে পাখিদের সঙ্গে ফানুসের সংঘর্ষ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। আবার জ্বলন্ত ফানুস গাছের ডাল বা পাখিদের বাসার কাছে এলে মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যেতে পারে সবটা।
বিমান চলাচলেও তৈরি হতে পারে সমস্যা: বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ফানুস ওড়ানো বিশেষ ভাবে বিপজ্জনক। উড়ন্ত ফানুস বিমানের চলাচলের পথে এলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
মানুষ ও পোষ্যদের জন্য বিপত্তি: মানুষ হোক বা পোষ্য, জ্বলন্ত ফানুস শরীরের সংস্পর্শে এলে দুর্ঘটনা ঘটতে বাধ্য! শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
কিন্তু এই বিপদ এড়ানোর উপায়?
সামান্য কিছু সতর্কতা মানলেই কমানো যেতে পারে ক্ষতির ঝুঁকি।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফানুস না ওড়ানোই শ্রেয়। বাড়িঘর, বহুতল বা দোকানপাটের সামনে ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকুন। জ্বলন্ত ফানুস কোনও দাহ্য বস্তুর উপরে পড়লে আগুন লাগতে পারে।
বিদ্যুতের খুঁটি, তার বা ট্রান্সফর্মারের কাছাকাছি ফানুস ওড়াবেন না। এতে শর্ট সার্কিট এবং অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা বেশি।
বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকলে ফানুস সহজেই দিক পরিবর্তন করে বিপজ্জনক স্থানে চলে যেতে পারে। আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
ফানুসের অবশিষ্টাংশ যত্রতত্র ফেলবেন না। পুড়ে যাওয়া কাগজ বা অন্যান্য উপকরণ রাস্তা, গাছের ডালে অথবা জলাশয়ে ফেলে রাখবেন না। সেগুলি সংগ্রহ করে যথাযথ ভাবে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করুন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।