পায়ের ব্যথায় কাহিল হয়ে ঠাকুর দেখা মাটি করবেন না যেন! যত্ন নিন আগেভাগেই
পুজোর কলকাতায় আপনাকে হাঁটতে হবে অনেকটা। ‘হাই হিল’ পরলে আপনাকে খুব সুন্দর লাগবে ঠিকই। কিন্তু বেচারা পা দুটোর কথাও একটু ভাবুন।
সারা রাত মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা। তার উপরে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পায়ের কি এত সয়?
যদি গাড়ি করে ঘুরতে যান, তবুও পুজোর কলকাতায় আপনাকে হাঁটতে হবে অনেকটা। কারণ মণ্ডপের বেশ কিছুটা দূর থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্যারিকেড।
এই এত হাঁটাহাঁটির মাঝে পায়ের অবস্থা কাহিল। ঠাকুর দেখা, হইহুল্লোড় যখন শেষ হয়, তখনই পা জানান দেয় তার ব্যথার কথা।
তাই বলে কি ঠাকুর দেখবেন না? পুজোর আনন্দের জন্য বাঙালি কিন্তু সব ভোগান্তি সহ্য করতে রাজি!
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ যানজট, দমবন্ধ করে দেওয়া ভিড়, রাস্তার কালো তেলে ভাজা ‘এগ রোল’, আরো কত কী! সব আছে সহ্যের তালিকায়। আর এ তো সামান্য পায়ে ব্যথা! ঠিক সয়ে নিতে পারবেন। আর যদি না পারেন, তার জন্য রইল উপায়।
‘হাই হিল’ পরলে আপনাকে খুব সুন্দর লাগবে ঠিকই। কিন্তু বেচারা পা দুটোর কথাও একটু ভাবুন। তা ছাড়া ভিড়ের মধ্যে পা মচকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে যথেষ্টই। তাই বরং বেছে নিন ‘ফ্ল্যাট’ জুতো বা কম উঁচু ‘হিল’।
যে জুতো পরছেন, সেটির ‘সোলের’ গুণমানের দিকে নজর দিন। চেষ্টা করুন একটু নরম ‘সোলের’ জুতো পরার। নরম ‘সোল’ আপনার পা-কে আরাম দেবে আর অনেক ক্ষণ হাঁটার পরেও খুব বেশি কষ্ট হবে না।
আরও পড়ুন:
জুতো কেনার সময়ে ভাল ভাবে দেখে নেবেন আপনার পায়ের পাতার মাপের সঙ্গে জুতোর মাপ এক কিনা। অনেক সময়ে একটু ছোট মাপের জুতোও আমাদের পায়ে হয়ে যায়, কিন্তু পরবর্তীতে তা বিভিন্ন রকম ভাবে কষ্ট দেয়।
এ ছাড়াও দেখে নিন জুতোটি পরার পরে পায়ের আঙুল নাড়াতে পারছেন কিনা। আর হাঁটার সময়ে পায়ের গোড়ালি স্থির থাকছে কিনা।
পুজোর নতুন জুতো পরে বাড়িতে আগে কিছু দিন হাঁটাচলা করুন। তার পরে সেটি পরে রাস্তায় বেরোবেন।
এতে নতুন জুতোর ধরনের সঙ্গে আপনার পা অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আপনিও আগে থেকে বুঝতে পারবেন নতুন জুতো পরে হাঁটাচলায় কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা।
নতুন জুতো পরে পায়ে ফোসকা পড়তে পারে। তাই ঘুরতে যাওয়ার সময়ে অবশ্যই সঙ্গে রাখুন ‘ব্যান্ডেড’।
একটা ভাল মোজা দিয়ে জুতো পরার চেষ্টা করুন। এতে আপনার পা অনেকটা সুরক্ষিত থাকবে।
কোন জুতোটা পরে আপনাকে দেখতে বেশি সুন্দর লাগছে, তার থেকেও বেশি জরুরি হল— কোন জুতোটা পরে আপনি সবথেকে বেশি আরাম অনুভব করছেন এবং ঠিক মতো হাঁটতে পারছেন। সুন্দর আর আরামদায়কের মধ্যে সব সময়ে আরামদায়ক জুতো বেছে নিন।
সবশেষে পুজোর ভিড়ে হাঁটার সময়ে সচেতন হোন, যাতে কোনও আঘাত না লাগে। মাথায় রাখবেন, পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে হলে আপনার ভাল থাকা সবচেয়ে জরুরি। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)