পুজোর আগে ঘরে এই জিনিসগুলি থাকছে না তো? ধেয়ে আসতে পারে অমঙ্গল
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, কিছু জিনিস আছে যা বাড়িতে না রাখাই উচিত। সামনেই তো পুজো, নতুন জিনিস দিয়ে ঘর সাজানোর আগে সত্বর বিদায় করুন পুরনো কিছু জিনিসকে।
বাড়িতে শুভ শক্তির প্রবাহ হোক। শান্তি থাক গৃহে। দিন শেষে তো এটাই চাওয়া। কিন্তু নিজেদেরই অজান্তে করে ফেলা কিছু ভুলের জন্য অমঙ্গল গ্রাস করে ঘরবাড়ি এবং জীবনকে। এর ফলে সফলতা প্রাপ্তিতেও সম্মুখীন হতে হয় বাধা-বিপত্তির।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, কিছু জিনিস আছে যা বাড়িতে না রাখাই উচিত। সামনেই তো পুজো, নতুন জিনিস দিয়ে ঘর সাজানোর আগে সত্বর বিদায় করুন পুরনো কিছু জিনিসকে। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কিছু দ্রব্যও নাকি ডেকে আনতে পারে নেতিবাচক প্রভাব।
বাড়িতে কোনও জিনিস ভেঙে গেলে পরে ঠিক করে নেওয়া যাবে ভেবে ফেলে রেখে দেওয়া হয় বছরের পর বছর। সবার প্রথমে দূর করুন দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা ভাঙা দ্রব্যগুলিকে।
ভাঙা ঘড়ি, নষ্ট হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ফাটল ধরা আয়না, ইত্যাদি ঘরে জমিয়ে না রাখার পরামর্শ দেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।
দেওয়ালে ঝোলানো ঘড়িটি বেশ কিছু দিন ধরেই বন্ধ? পুজোর আগে হয় সারিয়ে নিন, না হলে সরিয়ে ফেলুন বাড়ি থেকে।
আরও পড়ুন:
বাস্তু মতে, বন্ধ ঘড়িকে স্থবিরতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল আয়না। কিন্তু তা ভেঙে গেলে বা তাতে ফাটল ধরলে, পুজোর আগে তা বদলে ফেলার কথা ভাবতে পারেন।
বাস্তু বলে, ভাঙা আয়না বাড়ির পরিবেশে নেতিবাচকতা তৈরি করতে পারে। কাজেই তা বাড়ি থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়।
‘কাজে লাগতে পারে’ ভেবে বাড়িতে কত কিছুই না জমিয়ে রাখা হয় দিনের পর দিন! পুরনো বাক্স থেকে শুরু করে ভেঙে যাওয়া আসবাব, দীর্ঘ দিন ধরে এটি জমতে জমতে তৈরি হয় অপ্রয়োজনীয় জিনিসে স্তূপ।
আরও পড়ুন:
বাস্তু মতে, অতিরিক্ত অগোছালো, স্তূপাকার হয়ে থাকা আসবাব ঘরের ইতিবাচক পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হয়।
একই ভাবে পুরনো এবং ছিঁড়ে যাওয়া জুতোকেও অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। পুজোর আগে জুতোর র্যাকটিও একবার পরিষ্কার করে নিন এবং তাতে চোখ বুলিয়ে নিন। ব্যবহারযোগ্য নয়, নষ্ট হয়ে যাওয়া এমন জুতো বাড়িতে জমিয়ে না রাখাই ভাল।
পুরনো চার্জার, নষ্ট হয়ে যাওয়া হেডফোন, রিমোট, ইত্যাদি বাড়িতে জমিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।
কেবলমাত্র বাস্তুযোগ নয়, অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমিয়ে রাখা পরিবেশের জন্যেও ভাল নয়।
পুজোর আগে ঘর পরিষ্কার করার নামে বিছানার নীচে আবার আসবাবের ভিড় জমাবেন না যেন। জায়গা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে অজান্তেই ডেকে আনবেন না নিজের বিপত্তি।
এ ছাড়াও নকল গাছ, অদ্ভুত দেখতে আয়না, তীক্ষ্ণ কোণ যুক্ত সামগ্রী বাড়ি থেকে দূরে রাখতেই পরামর্শ দিচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)