পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, নতুন সাজ, ঘরদোর ঝকঝকে করে তোলা। কিন্তু অন্দরসজ্জার সেই ব্যস্ততার মাঝেই যদি নিজের ঘরটাকে একটু অন্য রকম করে তোলা যায়? এমন এক আবহ, যেখানে ঢুকলেই সারাদিনের ক্লান্তি খানিকটা দূরে সরে যাবে, আর প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানো কয়েকটা মুহূর্ত হয়ে উঠবে আরও বিশেষ!
তার জন্য দামি আসবাব বা বিলাসবহুল হোটেলের ঘর দরকার নেই। ঘরের আলো, সুন্দর গোছানো বিছানা, ফুল আর গন্ধ—এই ছোটখাটো বদলেই তৈরি হতে পারে ‘রোম্যান্টিক মুড’। পুজোর আগে কোন পাঁচ বিষয়ে নজর দেবেন?
আলো হোক নরম, আবহ হোক উষ্ণ
ঘরে ঢুকেই চোখ ধাঁধানো সাদা আলো? রোম্যান্টিক আবহের সঙ্গে সে আলো মোটেই যায় না। তার বদলে ব্যবহার করতে পারেন নরম হলুদ আলো বা ‘ওয়ার্ম লাইট’। বিছানার পাশে ছোট ল্যাম্প, দেওয়ালের কোণে মৃদু আলো—ঘরের পরিবেশটাই বদলে দিতে পারে। আলো যতটা মৃদু, আবহও ততটাই আরামদায়ক।
বিছানায় থাকুক পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া
বিছানার উপর জামাকাপড়, ব্যাগ, ল্যাপটপ আর নানা অপ্রয়োজনীয় জিনিস ছড়িয়ে থাকলে রোম্যান্টিক আবহ তো দূরের কথা, এমনিই বিরক্তি ধরে যেতে পারে! পুজোর আগে তাই বিছানাটিকেও একটু সাজিয়ে নিন। পরিষ্কার চাদর, কয়েকটি নরম কুশন আর আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই হালকা কম্বল—এইটুকুই যথেষ্ট। খুব বেশি সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই, বরং পরিপাটি থাকাটাই আসল।
ফুল থাকুক, তবে মেপে
ফুল ছাড়া প্রেমের সাজ যেন একটু অসম্পূর্ণ। তবে ঘরকে ফুলের বাগান বানিয়ে ফেলারও দরকার নেই। ছোট একটি ফুলদানিতে কয়েকটি সাদা বা হালকা রঙের ফুল রাখলেই ঘরে আসবে সতেজতার ছোঁয়া। সঙ্গে রাখতে পারেন একটি মাঝারি মাপের 'ইন্ডোর প্ল্যান্ট'। আর যদি ঘরেই দু’জনের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন, খাবার টেবিলের মাঝে ছোট্ট ফুলদানিতে কয়েকটি ফুল আবহটাকে আরও সুন্দর করে তুলবে।
ঘ্রাণেও তৈরি হোক প্রেমের আবহ
শুধু চোখ নয়, মনও কিন্তু গন্ধ মনে রাখে। তাই ঘরের আবহে নজর দেওয়ার সময়ে সুগন্ধির কথাও মাথায় রাখুন। সুগন্ধী মোমবাতি কিংবা হালকা রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। ল্যাভেন্ডার বা ভ্যানিলার মতো নরম গন্ধ ঘরে আরামদায়ক আমেজ তৈরি করতে পারে। তবে গন্ধ যেন অতিরিক্ত তীব্র না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখুন।
আরও একটু নিজের মতো করে সাজান। এমন ব্যক্তিগত ছোঁয়াই ঘরকে আরও আপন করে তুলতে পারে। পুজোর আগে তাই ঘর সাজানোর সঙ্গে সম্পর্কের ছোট ছোট স্মৃতিগুলোকেও জায়গা দিন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।