ঘরের ভুল দিকে রেখেছেন নকল গাছ! পুজোর আগে অজান্তেই পরিবারে বিপদ ডেকে আনছেন না তো?
অন্দরসজ্জার জন্য অন্যতম এবং সহজ ভরসা হয়ে উঠেছে নকল গাছগুলি। দেখতেও সুন্দর। ঝক্কিও পোহাতে হয় না দেখাশোনার। কিন্তু বাস্তু বলে, এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে অমঙ্গলের আশঙ্কা! আগে জানতেন?
অন্দরসজ্জায় সবুজের ছোঁয়া কার না ভাল লাগে! বর্তমানে অন্দরসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছে ‘ইন্ডোর’ গাছগুলি। তবে এর সবুজতাকে সজীব রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত দেখাশোনা ও আলো-বাতাস।
তবে ব্যস্ত জীবনযাত্রার ফাঁকে সর্বদা বারান্দায় আসল গাছ রেখে জল-সার দেওয়া হয়ে ওঠে না। অপর দিকে জায়গার অভাবেও অনেক সময়ে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হয় তারা।
সেই কারণেই অন্দরসজ্জার জন্য অন্যতম এবং সহজ ভরসা হয়ে ওঠে নকল গাছগুলি। দেখতেও সুন্দর। ঝক্কিও পোহাতে হয় না দেখাশোনার। কিন্তু বাস্তু বলে, এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে অমঙ্গলের আশঙ্কা! আগে জানতেন?
যেহেতু এই কৃত্রিম গাছগুলিরর মধ্যে কোনও প্রাণের অস্তিত্ব নেই। সেই কারণে বাস্তু মতে, এই গাছগুলিকে জড়তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বাড়িতে এই কৃত্রিম গাছ নাকি ডেকে আনতে পারে অশুভ শক্তি।
তা হলে পুজোর আগে সাধের ঘরকে মনের মতো করে সাজানোর ইচ্ছে থাকলেও কি একেবারেই বাড়িতে রাখা যাবে না এই কৃত্রিম গাছগুলি? হতাশ হবার কিছু নেই। বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা থাকলে এর প্রতিকারও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাড়িতে কৃত্রিম গাছ রাখলেও এর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কিন্তু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা উচিত।
প্রথমেই ঘরের কোন দিকে গাছ রাখবেন, তা পরখ করে নেওয়া জরুরি। কারণ শুভ দিক নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল দিকে নকল গাছ রাখলে কিন্তু পরিবারের সদস্যদের উন্নতিতে বাধা আসতে পারে।
বাস্তু মতে বাড়ির উত্তর ও পূর্ব দিককে অত্যন্ত শুভ এবং পবিত্র বলে ধরা হয়। কাজেই এই দুই স্থানে অবশ্যই যে গাছ রাখবেন, তা যেন প্রাণবন্ত হয়।
কৃত্রিম ফুল বা গাছ রাখার জন্য উপযুক্ত হল পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিক।
আরও পড়ুন:
প্লাস্টিকের গাছ ঘরে আনলেও খেয়াল রাখবেন তা যেন পরিষ্কার এবং ভাল মানের হয়। কৃত্রিম গাছের পাতায় ধুলোবালি জমলে তা বাড়ির জন্য নেতিবাচক শক্তির ইঙ্গিত হতে পারে।
পুরনো হয়ে যাওয়া বা রোদে রং উঠে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া কৃত্রিম গাছ দ্রুত বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলা শ্রেয়। এমনটাই মনে করে বাস্তু।
এমনকি শোয়ার ঘরেও কৃত্রিম ফুল বা গাছ রাখা থেকে বিরত থাকতেই বলছেন বাস্তুবিদরা। তাঁদের মতে, এতে নাকি দাম্পত্য জীবনেও ধরতে পারে ফাটল।
পরিবর্তে রাখতে পারেন মানি প্ল্যাট বা স্পাইডার প্ল্যান্ট।
ঠাকুরঘরে বা যে ঘরে সিংহাসন রয়েছে, সেখানেও নকল গাছ না রাখাই শ্রেয়। এতে বাড়িতে বৃদ্ধি পায় নেতিবাচকতা।
বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার এ ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা ভাল। সেখানে সর্বদা থাকবে সজীব ও প্রাণবন্ত উদ্ভিদ। কারণ এখান থেকেই বাড়িতে হবে শুভ শক্তির আগমন। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)