দু’কামরার ফ্ল্যাটেই এ বার বনেদিয়ানা, রইল পুজোর জন্য ছোট্ট কোণ সাজানোর ঘরোয়া উপায়
জায়গা ছোট বলে উৎসবের আমেজে কি খামতি থাকবে? না, বরং বাড়ির একটি ছোট্ট কোণকেই সাজিয়ে-গুছিয়ে তৈরি করা যেতে পারে পছন্দমতো পুজোর জায়গা।
পুজোর মাস পড়তে এখন দিন কয়েক দেরি। তার আগেই ঘরে ঘরে পুজোর আমেজ। শয়ন কক্ষ থেকে বারান্দা, সেজে উঠছে সাধের গৃহকোণ। ইস! যদি একটি ঠাকুরদালানের জায়গাও থাকত! মনের মতো করে সাজানো যেত সেটিকেও।
যদিও শহরকেন্দ্রিক জীবন হলে, উঠোন বা ঠাকুরদালান সব সময় পাওয়া যায় না। অপরদিকে ফ্ল্যাটবাড়িতে পুজোর আয়োজন অনেকটাই সীমিত জায়গার মধ্যে করতে হয়।
তবে জায়গা ছোট বলে উৎসবের আমেজে কি খামতি থাকবে? না, বরং বাড়ির একটি ছোট্ট কোণকেই সাজিয়ে-গুছিয়ে তৈরি করা যেতে পারে পছন্দমতো পুজোর জায়গা।
খুব বেশি খরচ বা অন্যান্য জিনিসের প্রয়োজন নেই। বাঙালির চেনা কিছু উপকরণ এবং পরিকল্পনাই বদলে দিতে পারে ঠাকুর পুজোর স্থানের চেহারা।
পুজোর কোণ তৈরির আগে প্রথমেই জায়গাটি ঠিক করে পরখ করে নিন। ঘরের এমন একটি জায়গা বেছে নিন যেখানে সহজে চলাফেরা করা যায় এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পৌঁছয়।
আরও পড়ুন:
এ ক্ষেত্রে ছোট কাঠের টেবিল, দেওয়ালের একটি তাক কিংবা জানলার পাশের কোনও ফাঁকা জায়গাকেও কাজে লাগানো যায়। জায়গা খুব বেশি না থাকলে মেঝেতে ছোট কাঠের পিঁড়ি বা চৌকি রেখেও তৈরি করা যেতে পারে পুজোর আসন।
খুব আধুনিক বা দামী ডেকরের প্রয়োজন নেই। বরং শোলার তৈরি অন্দরসজ্জার সামগ্রী, মাটির প্রদীপ, লাল-সাদা কাপড়—এই পরিচিত উপকরণগুলিই এনে দিতে পারে বাঙালিয়ানার আবহ।
পুজোর আসনের নীচে বা পাশে লাল-সাদা কাপড় বিছিয়ে তার উপর কয়েকটি মাটির প্রদীপ রাখতে পারেন। মাঝে বসাতে পারেন দেব-দেবীর মূর্তিকে।
চারপাশ সাজিয়ে তুলুন আলপনায়। জায়গা বেশি না থাকলে পুরো মেঝে জুড়ে আলপনা করার প্রয়োজন নেই। পুজোর আসনের সামনে ছোট্ট একটি গোল আলপনা বা চালের গুঁড়ির নকশাই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন:
চাইলে রেডিমেড আলপনা স্টিকারও ব্যবহার করা যায়। পিছন দিকের দেওয়ালে স্থায়ী কিছু করতে না চাইলে ছোট কাঠের বোর্ড বা ক্যানভাসে আলপনা এঁকে সেটিও সাজের অংশ করে তুলতে পারেন।
পুজোর সাজে ফুলের উপস্থিতি ঘরের পরিবেশটাই বদলে দিতে পারে। গাঁদা, শিউলি, অপরাজিতা বা রজনীগন্ধার মতো মনের মতো ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিন পুজোর কোণ।
ছোট কাঁসার বা মাটির পাত্রে ফুল রেখে পাশে কয়েকটি ফুলের মালা ঝুলিয়ে দিতে পারেন। তবে বেশি ফুল দিয়ে জায়গাটি ভারী করে না ফেলে অল্প ফুলে সাজটিকে স্বাভাবিক রাখাই ভাল।
আলোর খেলাও বদলে দিতে পারে আমেজ। প্রদীপের উষ্ণতা তো আছেই, উপরন্তু বাড়িতে সাদা বা হলুদ ‘ফেয়ারি লাইট’ থাকলে তাতেও ভারি সুন্দর এবং উৎসবমুখর হয়ে উঠবে পুজোর জায়গাটি।
তবে পুজোর জায়গায় বৈদ্যুতিক আলো বা প্রদীপ রাখার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
পুজোর কোণ সাজাতে গিয়ে অনেক কিছু একসঙ্গে রাখলে ছোট জায়গাটি আরও ছোট দেখাতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলিই রাখুন। একটি ছোট ফুলদানি, প্রদীপ, ঘণ্টা, ধূপদানি, কাঁসার পাত্র, ব্যস! এমন কয়েকটি উপকরণ দিয়েই সুন্দর করে সাজিয়ে নিন সাধের গৃহকোণ। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)