কালীপুজো বাড়ির হোক বা বারোয়ারি, এই ভুলগুলো করলে নেমে আসবে ঘোর বিপদ —
বহু প্রাচীন কাল থেকে এমনটাই রীতি। কালীপুজো শুধু ভক্তির নয়, শুদ্ধতারও পরীক্ষা। তাই দীপান্বিতা অমাবস্যার দিনে কিছু কাজ না করাই শ্রেয়।
দেবী কালীর পুজো সাধারণত গৃহস্থ রীতি বা তান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। তবে মা কালীর আরাধনায় কিছু জিনিস ব্যবহার করা বা কিছু নিয়ম না মানলে দেবীর কৃপার বদলে অমঙ্গল হতে পারে বলে বিশ্বাস।
বহু প্রাচীন কাল থেকে এমনটাই রীতি। কালীপুজো শুধু ভক্তির নয়, শুদ্ধতারও পরীক্ষা। তাই দীপান্বিতা অমাবস্যার দিনে কিছু কাজ না করাই শ্রেয়।
কোনও পুজোতেই বাসি, পচা বা ঝরে যাওয়া ফুল ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে দেবী কালীর পুজোয় তাঁর অত্যন্ত প্রিয় রক্তজবা বা যে কোনও ফুলই সতেজ ব্যবহার করা প্রয়োজন। মরা ফুল দিলে পুজো অসম্পূর্ণ থাকে এবং নেমে আসতে পারে ঘোর বিপদ।
সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে পুজোয় নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করলে বা মদ্যপান করলে হতে পারে গৃহস্থের অমঙ্গল। তান্ত্রিক মতে কিছু বিশেষ আচার-ব্যবস্থা থাকলেও, সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে বা সাধারণ পুজোয় মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করা অত্যন্ত ভুল।
দেবী কালীর পুজোয় বা ভোগে তুলসী পাতা সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। দেবী শক্তির রূপ হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বেলপাতা ও জবা ব্যবহৃত হয়। দেবী কালীর ভোগে তুলসী পাতা ব্যবহার করবেন না।
আরও পড়ুন:
কালীপুজোর মূল তাৎপর্য হল অশুভ অন্ধকার দূর করে আলোর আবাহন। এই রাতে ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা বা প্রদীপ না জ্বালানো ঘোর অমঙ্গলজনক। কালীপুজোয় কোনও ঘর অন্ধকার রাখবেন না এবং অন্ধকার জায়গায় প্রদীপ জ্বালাবেন।
পুজোস্থলে জুতো পরে প্রবেশ করলে পুজো পণ্ড হতে পারে এবং দেবীর রুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কালীপুজোর পবিত্র রাতে বা দিনে কাউকে রাগানো, ঝগড়া করা, বা অভিশাপ দেওয়া অত্যন্ত অশুভ মনে করা হয়, যা ঘরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দেবী কালী ‘অহঙ্কার বিনাশিনী’। নিজের লাভ বা প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে পুজো করলে তা শুভ নয়। দেবী কালীর পুজোয় বিনয় ও আত্মসমর্পণই প্রকৃত আরাধনা।
আরও পড়ুন:
তন্ত্র মতে, অমাবস্যা তিথির বাইরে বা ভুল সময়ে পুজো শুরু করলে তা অশুভ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সঠিক সময়ে পুজো করা উচিত। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।