Health Partner
Comfort Partner
Knowledge Partner

এক কোপে নরবলি? কুমারীর হৃদপিণ্ড অর্পণ, শস্যের দেবীকে তুষ্ট করতে রক্ত দেওয়াই রীতি ছিল এখানে!

আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা অর্থাৎ কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় বাংলায়। কখনও সরাপট, কখনও কলাবউ, কখনও আবার মূর্তি রূপে পূজিতা হন দেবী। কিন্তু নরবলি?

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৪৯
বলি? তাও আবার 'লক্ষ্মীপুজো'তে? এমনটাও হয় নাকি? এই দুনিয়ায় কত কী যে ঘটে? রটে তার চেয়ে আরও বেশি
০১ / ১২

বলি? তাও আবার 'লক্ষ্মীপুজো'তে? এমনটাও হয় নাকি? এই দুনিয়ায় কত কী যে ঘটে? রটে তার চেয়ে আরও বেশি

আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা অর্থাৎ কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় বাংলায়। কখনও সরাপট, কখনও কলাবউ, কখনও আবার মূর্তি রূপে পূজিতা হন দেবী।
০২ / ১২

আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা অর্থাৎ কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় বাংলায়। কখনও সরাপট, কখনও কলাবউ, কখনও আবার মূর্তি রূপে পূজিতা হন দেবী।

কিন্তু শোনা যায় 'লক্ষ্মীপুজো'তেও প্রচলন ছিল নরবলির। তবে এ লক্ষ্মীপুজো বাঙালি বাড়ির পুজোর মতো নয় একেবারেই। আচার-আচরণে সম্পূর্ণ আলাদা।
০৩ / ১২

কিন্তু শোনা যায় 'লক্ষ্মীপুজো'তেও প্রচলন ছিল নরবলির। তবে এ লক্ষ্মীপুজো বাঙালি বাড়ির পুজোর মতো নয় একেবারেই। আচার-আচরণে সম্পূর্ণ আলাদা।

যে দেবীর আরাধনায় জোরে শব্দ পর্যন্ত করা হয় না, শঙ্খধ্বনি, উলু ছাড়া আর শব্দ করা হয় না, ঘণ্টা বাজালে নাকি তিনি বিরক্ত হন সে খানে রক্তপাত? ব্যাপারটা খুলেই বলা যাক...
০৪ / ১২

যে দেবীর আরাধনায় জোরে শব্দ পর্যন্ত করা হয় না, শঙ্খধ্বনি, উলু ছাড়া আর শব্দ করা হয় না, ঘণ্টা বাজালে নাকি তিনি বিরক্ত হন সে খানে রক্তপাত? ব্যাপারটা খুলেই বলা যাক...

দেবী লক্ষ্মী বিভিন্ন রূপে প্রাচীন সভ্যতায় বিশ্বের একেক জায়গায় একেক রকম ভাবে পূজিত হয়ে এসেছেন। আর তেমন ভাবেই প্রাচীন পেরুতে অদ্ভুত এক উপায়ে উপাসনা করা হত এমন এক দেবীর যার সঙ্গে লক্ষ্মীর মিল পাওয়া গিয়েছে।
০৫ / ১২

দেবী লক্ষ্মী বিভিন্ন রূপে প্রাচীন সভ্যতায় বিশ্বের একেক জায়গায় একেক রকম ভাবে পূজিত হয়ে এসেছেন। আর তেমন ভাবেই প্রাচীন পেরুতে অদ্ভুত এক উপায়ে উপাসনা করা হত এমন এক দেবীর যার সঙ্গে লক্ষ্মীর মিল পাওয়া গিয়েছে।

শোনা যায়, প্রাচীন পেরুর অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য ও কৃষিজ সম্পদ ছিল ভুট্টা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেখানকার মহিলারা ভুট্টা দিয়ে এই দেবীমূর্তি তৈরি করতেন। ইনকা সভ্যতার দেশে এই দেবীর সঙ্গেই মিল ছিল দেবী লক্ষ্মীর। দু'জনেই শস্যের দেবী।
০৬ / ১২

শোনা যায়, প্রাচীন পেরুর অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য ও কৃষিজ সম্পদ ছিল ভুট্টা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেখানকার মহিলারা ভুট্টা দিয়ে এই দেবীমূর্তি তৈরি করতেন। ইনকা সভ্যতার দেশে এই দেবীর সঙ্গেই মিল ছিল দেবী লক্ষ্মীর। দু'জনেই শস্যের দেবী।

পুজোর দিন এই লক্ষ্মী-সদৃশ মূর্তিকে ঘিরে মহিলারা চুল খুলে নাচ করতেন। আর যখন পুজোর দিন এই নৃত্যানুষ্ঠান চলত তখন এক কুমারীর মুখ সিঁদুর দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হত, পরানো হত নতুন জামা এবং অলংকার।
০৭ / ১২

পুজোর দিন এই লক্ষ্মী-সদৃশ মূর্তিকে ঘিরে মহিলারা চুল খুলে নাচ করতেন। আর যখন পুজোর দিন এই নৃত্যানুষ্ঠান চলত তখন এক কুমারীর মুখ সিঁদুর দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হত, পরানো হত নতুন জামা এবং অলংকার।

সুসজ্জিত করে পুজারির সামনে সেই কুমারীকে নিয়ে যাওয়া হত। পুরোহিত কুমারীকে পুজো দিলে, সবাই মিলে শুরু করতেন নরবলির উত্তাল নাচ।
০৮ / ১২

সুসজ্জিত করে পুজারির সামনে সেই কুমারীকে নিয়ে যাওয়া হত। পুরোহিত কুমারীকে পুজো দিলে, সবাই মিলে শুরু করতেন নরবলির উত্তাল নাচ।

সেই নাচের পর কুমারীকে বলি দেওয়া হতো দেবীর সামনে। বলির পর তাঁর হৃদপিণ্ড উৎসর্গ করা হতো দেবীকে। প্রশ্ন করা হত তিনি তুষ্ট হয়েছেন কিনা।
০৯ / ১২

সেই নাচের পর কুমারীকে বলি দেওয়া হতো দেবীর সামনে। বলির পর তাঁর হৃদপিণ্ড উৎসর্গ করা হতো দেবীকে। প্রশ্ন করা হত তিনি তুষ্ট হয়েছেন কিনা।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী যদি জানাতেন তিনি তুষ্ট হয়েছেন তবেই দেবীর এই প্রতীক সকলে ঘরে তুলে রাখত। আর যদি জানাতেন তিনি তুষ্ট হননি তাহলে সেই প্রতীক পুড়িয়ে নতুন করে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হত।
১০ / ১২

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী যদি জানাতেন তিনি তুষ্ট হয়েছেন তবেই দেবীর এই প্রতীক সকলে ঘরে তুলে রাখত। আর যদি জানাতেন তিনি তুষ্ট হননি তাহলে সেই প্রতীক পুড়িয়ে নতুন করে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হত।

যদিও এই নিয়ে নানা মত রয়েছে, অনেকেই মনে করেন, ইনকা সভ্যতার 'লক্ষ্মী' অর্থাৎ 'মামা সারা' কোনও ভয়ঙ্করী দেবী ছিলেন না। ছিলেন নিতান্তই ঘরের দেবী। তবে বলির চল ছিল সেখানে। চরম সংকটের মুহূর্তে দেবীকে তুষ্ট করতে বেছে নেওয়া হত ‘কাপাকোচা’ মতো জীবন্ত কবর দেওয়ার রীতি।
১১ / ১২

যদিও এই নিয়ে নানা মত রয়েছে, অনেকেই মনে করেন, ইনকা সভ্যতার 'লক্ষ্মী' অর্থাৎ 'মামা সারা' কোনও ভয়ঙ্করী দেবী ছিলেন না। ছিলেন নিতান্তই ঘরের দেবী। তবে বলির চল ছিল সেখানে। চরম সংকটের মুহূর্তে দেবীকে তুষ্ট করতে বেছে নেওয়া হত ‘কাপাকোচা’ মতো জীবন্ত কবর দেওয়ার রীতি।

উল্লেখ্য, হিন্দু শাস্ত্র মতে, মা লক্ষ্মীর পুজোয় কিন্তু রক্তপাত একেবারেই নিষিদ্ধ। তিনি নারায়ণের স্ত্রী। তাই কোনওভাবেই প্রাণী হত্যা এই পুজোয় হয় না। এই প্রতিবেদনটি আনন্দ উৎসব ফিচারের একটি অংশ।
১২ / ১২

উল্লেখ্য, হিন্দু শাস্ত্র মতে, মা লক্ষ্মীর পুজোয় কিন্তু রক্তপাত একেবারেই নিষিদ্ধ। তিনি নারায়ণের স্ত্রী। তাই কোনওভাবেই প্রাণী হত্যা এই পুজোয় হয় না। এই প্রতিবেদনটি আনন্দ উৎসব ফিচারের একটি অংশ।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy