তিনটি পা, আটটি দাঁত! ধনতেরসে লক্ষ্মীর সঙ্গেই পূজিত হন তিনি, কুবের কি সত্যিই দেবতা?
তিনি হলেন ধনসম্পদের দেবতা। পুরাণ মতে, তিনি আবার যক্ষদের রাজা যক্ষপতি। দশ দিকের অধীশ্বরও তিনিই। ধনতেরস আর শারদ পূর্ণিমা এই দুই তিথিতে পূজিত হন তিনি।
কেবল ধনলক্ষ্মীই নন, ধনত্রয়োদশীতে পূজিত হন আরও একজন। তিনি হলেন কুবের। লোকমুখে প্রচলিত, নিষ্ঠাভরে তাঁর পুজো করলে সংসারে আসে আর্থিক সমৃদ্ধি। দূর হয় দারিদ্র্য। প্রশ্ন হল কে এই কুবের?
তিনি হলেন ধনসম্পদের দেবতা। পুরাণ মতে, তিনি আবার যক্ষদের রাজা যক্ষপতি। দশ দিকের অধীশ্বরও তিনিই। ধনতেরস আর শারদ পূর্ণিমা এই দুই তিথিতে পূজিত হন তিনি।
বিশ্রভা ও ইলাবিলার সন্তান কুবের। ইলাবিলার পুত্র হওয়ায় অপর নাম ঐলবিল। পিতা বিশ্রবার নামানুসারে তিনি বৈশ্রবণ।
তবে জানেন কি, ‘কুবের’ নামটি এসেছে তাঁর চেহারার বর্ণনাকে কেন্দ্র করে। বলা হয়, তিনি অদ্ভুত দর্শন হওয়ার কারণে তাঁর এমন নাম। কুবেরের তিন পা ও আটটি দাঁত।
তাঁর এরূপ একাধিক নাম বিরাজমান হলেও কুবেরকে ঠিক ‘দেবতা’ বলা যায় কি না, তা নিয়েও রয়েছে দন্দ্ব। অপরদিকে তাঁকে তো ঠিক ‘অপদেবতা’র তকমাও দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন:
বলা হয়, দু হাজার বছর ধরে তপস্যা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করেন তিনি। তাঁর কঠোর কৃচ্ছ সাধনে ব্রহ্মা সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে দেবতাদের সমান মর্যাদার এক পুষ্পক রথ প্রদান করেন।
ব্রহ্মার কাছে দেব মর্যাদা পেলেও তাঁকে নাকি দেবতাদের সমকক্ষে রাখা যায় না বলেই ব্যাখ্যা রয়েছে কোথাও কোথাও।
কুবেরের কোনও আবাসস্থান ছিল না। তাই ব্রহ্মা কুবের পিতাকে তাঁর জন্য পৃথক বাস নির্মাণের অনুরোধ করেন। বিশ্রবা বিশ্বকর্মা কর্তৃক নির্মিত ত্রিকূটশিখরস্থ লঙ্কাপুরীতে পুত্র কুবেরের বাসস্থান স্থির করে দেন।
পুরাণ মতে, কুবের লঙ্কায় এক বার রুদ্রাণীকে দর্শন করেন। তার ফলে কুবেরে ডান চোখ পুড়ে যায় ও বাম চোখ পিঙ্গলবর্ণ ধারণ করে। সেই থেকে ধনের দেবতা 'এক পিঙ্গল' নামে খ্যাত হন।
আরও পড়ুন:
রাবণ লঙ্কাপুরী দখল করতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে, পিতার উপদেশে লঙ্কা পরিত্যাগ করে কৈলাস গমন করেন এবং সেখানে শিবের সাধনায় মগ্ন হন কুবের। বহু বছরের সাধনায় মহাদেব সন্তুষ্ট করে তাঁর কৃপা পান। মহাদেবের সঙ্গে সখ্য হয় তাঁর। সেই থেকে কুবেরের আর এক নাম হয় 'ত্র্যাম্বকসখা'। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)