কুলু কুলু শব্দে বয়ে চলেছে তিস্তা। আঁকাবাঁকা পথে মাঝে মাঝেই ভিড় জমায় মেঘেদের দল। আরেকটু এগোলেই কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি। বাঙিলির প্রিয় গন্তব্য দার্জিলিং বা কালিম্পংও এখান থেকে বেশি দূর না। চারদিকে ঘন জঙ্গল আর পাড়াড়ের বাঁকে বাঁকে খাঁদ। আর এই মোহময়ী আঁকাবাঁকা পথের মাঝেই শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও ডুয়ার্সের দিকে যাওয়ার পথে অধিষ্ঠান দেবী সেবকেশ্বরীর। জানেন মা সেবকেশ্বরীকে ঘিরে অলৌকিক কাহিনী?
ছবি: সংগৃহীত
প্রচলিত বিশ্বাস যে, মা সেবকেশ্বরীই পাহাড়ের রক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়িচালকদের কাছে মা সেবকেশ্বরী শ্রদ্ধার দেবী। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পাহাড়ি রাস্তায় যাত্রা শুরু করার আগে অনেক চালক মন্দিরের সামনে গাড়ি থামিয়ে দেবীকে প্রণাম করেন। কোনও কোনও চালক গাড়ির হর্ন বাজিয়ে মাকে স্মরণ করে গন্তব্যের উদ্দেশ্য়ে রওনা দেন।
শিলিগুড়ির আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা নীরেন্দ্রনাথ সান্যাল ১৯৫০ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে মা সেবকেশ্বরীকে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি টিনের চালের মন্দির থাকলেও, পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরে পৌঁছতে প্রায় ১০৭টি সিঁড়ি উঠতে হয় ভক্তদের।
ছবি: সংগৃহীত
এই মন্দির ঘিরে রয়েছে আরও কাহিনীও। লোকমুখে প্রচলিত, ব্রিটিশ আমলে পাহাড়ি রাস্তা তৈরির সময় বারবার পাহাড়ে ধস নামত। দুর্গম পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে মারা যান বহু শ্রমিকও। সেই সময় দেবীর স্বপ্নাদেশের পেয়ে পুজোর পর কাজের বাধা কেটেছিল বলেও শোনা যায়। সেবকেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস নিয়েও রয়েছে নানা তথ্য। স্থানীয়দের মতে, তিস্তার ধারে একটি পাথরের মধ্যে দেবীর মুখের আদল দেখতে পাওয়ার পর সেখানেই দেবী আরাধনা শুরু হয়। পরে সেখানে মন্দির নির্মাণ ও দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
কালীপুজোর সময় এই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। পুজো, অঞ্জলি, মন্ত্রোচ্চারণ এবং ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে চলে দেবীর আরাধনা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও সিকিম থেকেও ভক্তরা এখানে আসেন। আজও পাঁঠা বলি হয় মা সেবকেশ্বরীর মন্দিরে। আজও স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা সেবকেশ্বরী সবার কথা শোনেন।
এটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।