দিনে স্নেহময়ী, রাতে রক্তহিম রূপ! মৃতের খুলিতে দেবীকে আজও কী দেওয়া হয় বাংলার এই জমিদার বাড়িতে?
এমন বহু জমিদার বাড়ি নিভৃতে রয়েছে, যা কালীপুজো এলেই সেজে ওঠে দেবী আরাধনায়। সেই তালিকাতেই আসে মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম থানার এড়োয়ালী গ্রামের রায়চৌধুরী পরিবার। বলা হয়, এখানে একটি নয়, দু’টি নয়, জাঁকজমকের সঙ্গে করা হয় মোট ১৩টি কালীপুজো।
তিনি নিয়ে আসেন সাহস, শক্তি। দিনের বেলা তাঁর স্নেহময়ী মা। রাত হতেই ভয়ঙ্কর রূপ! দেবীকে বুঝতে বসলে বেরিয়ে আসবে এমন একাধিক ইতিহাস। আর এই ইতিহাস লুকিয়ে কতই না জমিদার বাড়ির অন্দরমহলে!
এমন বহু জমিদার বাড়ি নিভৃতে রয়েছে, যা কালীপুজো এলেই সেজে ওঠে দেবী আরাধনায়। সেই তালিকাতেই আসে মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম থানার এড়োয়ালী গ্রামের রায়চৌধুরী পরিবার। বলা হয়, এখানে একটি নয়, দু’টি নয়, জাঁকজমকের সঙ্গে করা হয় মোট ১৩টি কালীপুজো।
এলাকাবাসীদের মতে, এই পুজোগুলির মধ্যে অত্যন্ত জাগ্রত হলেন বড় কালী, নিমকালী, মঠকালী, চাতর কালী, বেলকালী এবং রক্ষাকালী।
যদিও এই পুজোর বীজ বপন ঠিক কত বছর আগে হয়েছিল, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু জনশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় ৪০০ বছর আগে রাজা রামজীবন রায়ের হাত ধরেই নাকি প্রথম বার এই গ্রামে কালীপুজোর সূচনা হয়।
কথিত, সেই সময় নাকি বর্গী হানা দিয়েছিল গ্রামে। সেখানকার মানুষদের মঙ্গল কামনার্থেই সূচনা হয়েছিল এই পুজোর। এখনও একইভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো পেয়ে আসছেন দেবী।
আরও পড়ুন:
জানেন কি, এখানে দেবীর আরাধনায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ দেন মানুষ। যদিও এর নেপথ্যে রয়েছে বড় ইতিহাস।
জনশ্রুতি আছে, কয়েকশো বছর আগে এলাকার ডাকাতরা অভিযানে যাওয়ার আগে যে কালী মূর্তির পুজো করতেন, তাঁকেই ধর্মবুড়ি নামে পুজো করা শুরু করেন রাজা রামজীবন। এক সময়ে নাকি স্বয়ং বামাক্ষ্যাপা নিজেই এসেছিলেন এই পুজোয়।
বলিদানের প্রথাও রয়েছে এই বাড়ির পুজোয়। এখনও মোষের বলিদান হয় এখানে।
দেবীর ঘটে ঢালা হয় জলের পরিবর্তে ‘কারণবারি’। এখানেই শেষ নয়, পুজোর সময়ে মৃতের খুলির মাধ্যমে খাওয়ানো হয় এই ‘কারণ’।
আরও পড়ুন:
পুজো শেষে নজর কাড়ে দেবীর শোভাযাত্রাও। নিরঞ্জনের সময়ে নাকি একসঙ্গে বের করে আনা হয় প্রতিমাগুলিকে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)