কোজাগরী আর এপার বাংলার ধানের লক্ষ্মীপুজোয় আছে ফারাক, নেপথ্যে লুকিয়ে কোন লোকাচার?
বাঙালদের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো এবং এপার বাংলার অর্থাৎ ঘটিদের ধানের লক্ষ্মীপুজোর মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় ভৌগোলিক ঐতিহ্য, পুজোর সময়কাল, স্থানীয় বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠান।
বাঙালদের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো এবং এপার বাংলার অর্থাৎ ঘটিদের ধানের লক্ষ্মীপুজোর মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় ভৌগোলিক ঐতিহ্য, পুজোর সময়কাল, স্থানীয় বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠান।
লক্ষ্মীপুজোর নিয়মে ফারাক রয়েছে পূর্ববঙ্গের বাঙালি অর্থাৎ বাঙাল এবং আদি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি অর্থাৎ ঘটিদের মধ্যেও। কিন্তু তার নেপথ্যে কারণ কী?
মূলত ভৌগোলিক ঐতিহ্য, পুজোর সময়কাল, স্থানীয় বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠানই পার্থক্য গড়ে দেয় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায়।
পূর্ববঙ্গীয় রীতি অনুযায়ী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে কলার ভেলায় তৈরি ধানভর্তি নৌকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। তেমনই পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালির দীপান্বিতা লক্ষ্মীর পুজোয় ধানভর্তি আঁড়ি বা ধানের গোলার ক্ষুদ্র প্রতীকটিকেই দেবী লক্ষ্মী হিসেবে পুজো করার রীতি আছে।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নদী-নালায় ঘেরা ওপার বাংলায় ধান কেনা-বেচার প্রধানতম মাধ্যমই ছিল নৌকা। অতএব, সদা চঞ্চলা দেবী লক্ষ্মী সেই নৌকাতেই বিরাজ করেন। আবার এপারের লোকেদের বছরভর ধান সঞ্চয়ে গোলার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এখানে তিনফসলি ধানের সময় অনুযায়ী বছরে তিন বার — ভাদ্র, পৌষ, চৈত্র মাসে লক্ষ্মীর আরাধনার রীতিও আছে।
আরও পড়ুন:
দেশভাগের পরে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রসার ঘটে। তবে বর্তমানে এটি সর্বজনীন রূপ নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের আদি বাসিন্দা ঘটি পরিবারগুলি শরৎকালের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর চেয়ে শীতকালের ধানের পুজো বা নতুন ধানের আরাধনাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় সাধারণত মৃন্ময়ী প্রতিমা অর্থাৎ মাটির মূর্তি বা পটে আঁকা লক্ষ্মীর পুজো করা হয়।
কিন্তু ধানের লক্ষ্মীপুজোয় কোনও মাটির মূর্তির প্রয়োজন হয় না। মাঠ থেকে আনা নতুন ধানের শিষ বা ছড়া, কাঠের তৈরি ধান মাপার পাত্র অর্থাৎ কুনকে ভরে ধান ও কড়ি রেখে কাপড়ে ঢেকে লক্ষ্মীরূপ দেওয়া হয়। সেই রূপকেই পুজো করা হয় দেবী হিসেবে। এই প্রতিবেদনটি আনন্দ উৎসব ফিচারের একটি অংশ।