কারও চোখ নেই, তো কেউ মুণ্ডহীন। সারি সারি গাছের ডাল থেকে ঝুলে রয়েছে তারা। মুখে অদ্ভুত অভিব্যক্তি। না, কেউই মানুষ নয়। বরং শত শত পুতুল। যেন দীর্ঘ শতাব্দী ধরে অপেক্ষায় রয়েছে মানুষের। রাত নামলেই ভোল বদল! মেক্সিকোর এই ‘পুতুল দ্বীপ’ যেন সত্যিই অশরীরীদের আখড়া।
‘আইল্যান্ড অফ দ্য ডলস’। লোকমুখে এই নামই প্রচলিত হলেও আসল নাম ‘জোচিমিলকো’। চার দিক জলে ঘেরা এক নির্জন দ্বীপ। যাকে সকলের থেকে আলাদা করেছে এখানে ঝুলতে থাকা পুতুলেরাই। নেপথ্যের ইতিহাস জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে বহু যুগ আগে। যাঁর হাত ধরে এর সূত্রপাত, তাঁর নাম জুলিয়ান স্যান্টেনা ব্যারেরা। মেক্সিকোর এই দ্বীপ সংলগ্ন খাঁড়িতে এক দিন ভেসে উঠেছিল এক বালিকার মৃতদেহ। এই ঘটনার পরেই সেখানে হাজির হন জুলিয়ান। আর ওই দ্বীপের মধ্যে বয়ে চলা খালেই দেখতে পান ভাসমান একটি পুতুল। তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মৃত শিশুটিই ভেসে এসেছে। শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য পুতুলটিকে তুলে বেঁধে দেন গাছের ডালে। সেই শুরু…
এর পর থেকে প্রায়ই জুলিয়ান গাছে ঝুলিয়ে রাখতে থাকেন একাধিক পুতুল। বছরের পর বছর রোদ-জল-বৃষ্টিতে বিকৃত চেহারা নিতে থাকে সেগুলি। জুলিয়ান নিজেও সমাজ থেকে আলাদা হয়ে বসবাস শুরু করেন সেই দ্বীপে। কথিত, সারা দিনই নাকি তিনি সেই বাচ্চা মেয়েটির কথা শুনতে পেতেন। মানুষজন দাবি করতে শুরু করেন, তিনি নির্ঘাত কোনও অদৃশ্য শক্তি দ্বারা চালিত হচ্ছেন। শোনা যায়, জীবনের বাকি ৫০টি বছর জুলিয়ান নাকি কাটিয়েছিলেন সেই পুতুল দ্বীপেই। এমনকি, তাঁকেও নাকি মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে এক দিন জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল ওই বালিকার।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।