অমর লোককথা ‘যখের ধন’, জানেন অভিশপ্ত গুপ্তধনের রহস্য?
যখের ধন হল বাংলার এক অভিশপ্ত ও রোমাঞ্চকর লোককথা। তাতে প্রাচীনকালে ধনী ব্যক্তিরা গুপ্তধন পাহারা দিতে কোনও ছোট শিশুকে জীবন্ত কবর দিয়ে অলৌকিক প্রহরী বা 'যখ' তৈরি করত।
লোভ, অপমৃত্যু আর এক আত্মার চিরন্তন প্রহরী হয়ে ওঠার বহুলপ্রচলিত গা ছমছমে লোককথা ‘যখের ধন’।
কোনও গোপন ধনসম্পদ রক্ষা করার জন্য যে অলৌকিক প্রহরী নিযুক্ত করা হয়, সে-ই হল যখ। লোকমুখে প্রচলিত যে, যখের ধন আসলে এক অভিশপ্ত গুপ্তধন।
লোককথা অনুসারে, ধনী মানুষেরা সম্পদ বাঁচাত নির্দিষ্ট প্রথায়। ছোট একটি শিশুকে মাটির নীচে ধনদৌলতের সঙ্গে জীবন্ত চাপা দেওয়া হত। এ ভাবে ওই শিশুটিকে বলি দিয়ে যখ বানানো হতো।
মৃত শিশুর প্রেতাত্মা এতে ধনসম্পদের মায়ায় বন্দি হয়ে যায়। সে আর মুক্ত হতে পারে না। যুগ যুগ ধরে সেই গুপ্তধন পাহারা দেওয়াই হয় তার একমাত্র কাজ।
আগেকার দিনে প্রবীণেরা বাচ্চাদের যখের ধনের গল্প শোনাতেন। বর্ষা কিংবা শীতের রাতে গা ছমছমে পরিবেশ সৃষ্টি করত সেই গল্প।
আরও পড়ুন:
জমিদারি প্রথার পতনের পরে পরিত্যক্ত রাজবাড়ি ও অন্ধকূপ নিয়েও নানা রহস্যময় কাহিনি প্রচলিত। শোনা যায়, অনেক রাজবাড়ির নীচে নাকি এখনও রয়েছে যখের ধন।
বলা হয়, যে ব্যক্তি লোভের বশে যখের ধন উদ্ধার করতে যায়, সে কখনওই সফল হয় না। বরং যখের অভিশাপে সেই ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বাংলা সাহিত্যেও যখের ধন নিয়ে নানা গল্প ও উপন্যাস আছে। এর মধ্যে অন্যতম হেমেন্দ্রকুমার রায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘যকের ধন’।
যখের ধন তাই শুধু ভয়ের গল্প বা লোককথা নয়। এটি মানুষের অন্ধ লোভের বিরুদ্ধে এক সামাজিক সতর্কবার্তাও।
আরও পড়ুন:
আধুনিক যুগেও যখের ধন বাংলার মানুষের মনে এক অপার রহস্য ও শিহরণ জাগানো কাহিনি হিসেবে অমলিন হয়ে রয়েছে।