ট্রেনের চাকায় অর্ধেক হয়ে যায় দেহ! জাপানে আজও কি ঘুরে বেড়ায় ছোট্ট স্কুল পড়ুয়ায় আত্মা?
এক তরুণী দু’হাতে ভর দিয়ে এগিয়ে আসছে সামনে। কিন্তু শরীরের নিম্নাংশ নেই। কে এই ‘টেকে টেকে’?
জনশূন্য রাস্তা। নিস্তব্ধতা ভেঙে কানে এল ট্রেন চলার শব্দ। অদ্ভুদ এক আওয়াজ, ‘টেকে…টেকে…’ পিছনে ফিরে তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ! এক তরুণী দু’হাতে ভর দিয়ে এগিয়ে আসছে সামনে। কিন্তু শরীরের নিম্নাংশ নেই।
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও জাপানের লোককথায় আসলেই উল্লেখ রয়েছে এই তরুণীর। ‘টেকে টেকে’ একজন স্কুল পড়ুয়ার অতৃপ্ত আত্মা। যদিও তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে দ্বিমত থাকলেও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ধাক্কাতেই তার এমন মর্মান্তিক পরিণতি।
বলা হয়, রেললাইনের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হয় এই তরুণী। ট্রেনের চাকায় তার শরীর দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় কোমরের কাছ থেকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তার পর থেকেই মৃত ওই স্কুল পড়ুয়ার আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে ধারণা সর্বত্র।
কিন্তু কেন ‘টেকে টেকে’ নাম তার? কথিত আছে, পা না থাকায় সে হাতের উপর ভর দিয়ে মাটিতে এগিয়ে চলে। ফলে চলার সময়ে মেঝে বা রাস্তার সঙ্গে তাঁর হাতের ঘর্ষণে তৈরি হয় এই অদ্ভুদ শব্দ।
জাপানি ভাষায় এই শব্দের অনুকরণ থেকেই তার নাম হয়েছে ‘টেকে টেকে’।
আরও পড়ুন:
জাপানের প্রচলিত লোককথায় বলা হয়, রাতের অন্ধকারে নির্জন রাস্তা বা রেললাইনের ধারে দেখা মিলতে পারে এই তরুণীর। আচমকাই সামনে বেরিয়ে আসবে তার ভয়ানক চেহারা।
বলা হয়, তার সামনে পড়লে নাকি পালানোর সুযোগ থাকে না।
দেহের অর্ধেক অংশ না থাকলেও, লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তার চলার গতি এতটাই বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তার পালিয়ে বাঁচা দুষ্কর। সে নাকি নিজের মতোই ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনে অন্যের ক্ষেত্রে।
জাপানের শহুরে লোককথার ইতিহাস ঘাঁটলে বহু ভয়ানক চরিত্রের দেখা মেলে। ‘টেকে টেকে’ হল তার মধ্যে একজন।
আরও পড়ুন:
যদিও তার অস্তিত্ব নিয়ে কোনও প্রমাণ না মিললেও সিনেমা, সাহিত্যের পাতায় একাধিকবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে এটি। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)