সোনা কিনে ধন বাড়ানোর দিন নয়! ‘ধনতেরস’-এর সঙ্গে জড়িয়ে চিকিৎসক ধন্বন্তরি, কী এর পৌরাণিক ব্যাখ্যা?
দেবতা এবং অসুরদের বহু চেষ্টার পর অমৃতের কলস নিয়ে সমুদ্র থেকে উঠে এসেছিলেন ধন্বন্তরী। সেই থেকেই এই দিনের নাম হয় ‘ধনতেরস’।
ধনতেরসের দিন সোনা বা কোনও মূল্যবান দ্রব্য কেনার প্রচলত আজকের নয়। কথিত, এই বিশেষ দিনে সোনা কিনলে নাকি সংসারে বৃদ্ধি পায় ধন সম্পদ। কিন্তু জানেন কি, এই ‘ধনতেরস’-এর সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই ধন বা সম্পদের।
দীপাবলির ঠিক দুই দিন আগে পালিত হওয়া এই বিশেষ দিন বহু আগেই হয়ে উঠেছে বাঙালির উৎসবের অঙ্গ। এই ‘ধনতেরস’ শব্দটির যোগসূত্র রয়েছে পৌরাণিক আখ্যান, সমুদ্র মন্থনের সঙ্গে। কিন্তু কী ভাবে?
এর জন্য ঘেঁটে দেখতে হবে প্রাচীন ইতিহাস। অমৃত প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ক্ষীরসাগর মন্থন করেছিলেন দেবতা এবং অসুরগণ। কথিত, মন্দার পর্বত মন্থনদণ্ড হিসাবে এবং শিবের স্কন্ধসঙ্গী নাগরাজ বাসুকী মন্থনরজ্জু হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল এ ক্ষেত্রে।
আর বিষ্ণুর কূর্ম অবতার তার দেহের উপর মন্দার পর্বতকে ধারণ করেছিলেন।
কেবল অমৃতই নয়, এই সমুদ্র মন্থনে উঠে এসেছিলেন রম্ভা, মেনকা-সহ প্রমুখ অপ্সরারা।
আরও পড়ুন:
সমুদ্র মন্থনের কারণে যিনি অমৃত পাত্র হাতে উঠে এসেছিলেন, তিনি ছিলেন ধন্বন্তরি।
কিন্তু কে এই ধন্বন্তরি? তিনি ছিলেন দেবতাদের চিকিৎসক তথা দেবদৈত্য।
দেবতা এবং অসুরদের বহু চেষ্টার পর তিনিই একমাত্র ছিলেন, যিনি সমুদ্র থেকে উঠে এসেছিলেন অমৃতের কলস নিয়ে। সেই থেকেই এই দিনের নাম হয় ‘ধনতেরস’।
কাজেই ‘ধনতেরস’-এর এই বিশেষ দিনটি কেবল ধনকামনার জন্যে পালিত হলেও, আদপে ‘ধনতেরস’ কিন্তু স্বাস্থ্যকামনার দিন। মূল্য সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনাই মূলত এই দিনের মাহাত্ম্য।
আরও পড়ুন:
যদিও এই সমুদ্র মন্থনে উঠে এসেছিলেন দেবী লক্ষ্মীও। ধন ও সৌভাগ্যের দেবীর সঙ্গে সংযোগ রেখেই ‘ধনতেরস’কে গণ্য করা হয়েছে ধনকামনার দিন হিসেবে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)