মুখের ক্ষত কান পর্যন্ত চেরা! মাঝরাতে পথ আটকে শুধোয়, ‘আমি কি সুন্দরী?’ উত্তর দিলেই সর্বনাশ! কে এই রহস্যময়ী?
প্রথম দেখায় তাঁকে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো মনে হতেই পারে। কিন্তু কাছে গেলেই ধেয়ে আসবে একটি অদ্ভুত প্রশ্ন, “আমি কী সুন্দরী?” উত্তর দিলেই ঘোর বিপদ!
নিস্তব্ধ রাত। ফাঁকা রাস্তায় হঠাৎই এক নারীমূর্তি! সাজপোশাক অতিসাধারণ। কিন্তু মুখের অর্ধেকটা ঢাকা একটি মাস্কে। প্রথম দেখায়, তাঁকে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো মনে হতেই পারে। কিন্তু কাছে গেলেই ধেয়ে আসবে একটি অদ্ভুত প্রশ্ন, “আমি কী সুন্দরী?”
আর পালানোর রাস্তা নেই। ভাগ্যে ইতিমধ্যেই কড়া নাড়ছে মৃত্যু! উত্তর দেওয়ার আগেই হয়তো আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে বিপদ।
জাপানের লোককথায়, এই নারীচরিত্রের নাম ‘কুচিসকে ওন্না’। লোকবিশ্বাসের ইতিহাসে তিনি অন্যতম ভয়ঙ্কর একটি চরিত্র। যার মুখের দু’পাশ কান পর্যন্ত চেরা। আর সেই ভয়ানক ক্ষত ঢাকতেই মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে ঘুরে বেড়ায় সে।
লোককথায় তাঁর যে বিবরণ পাওয়া যায়, তাতে কুচিসকের ওন্নার হাতে থাকে একটি কাঁচি, ছুরি বা অন্য কোনও ধারালো অস্ত্র। কখনও কখনও তাঁকে দেখা যায় লম্বা, কালো চুল খুলে, সাদা পোশাক পরে নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে।
বিশেষ করে, তাঁর আবির্ভাব ঘটে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাঁটতে থাকা শিশুদের সামনে।
আরও পড়ুন:
তাঁর হাতে ধরা কাঁচিটির থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হল তাঁর প্রশ্ন। ‘ওয়াতাশি কিরেই?’, যার বাংলা অনুবাদ হল, ‘আমি কি সুন্দরী?’।
আপনার উত্তর যদি হয় ‘হ্যাঁ’, তা হলে সে ধীরে ধীরে তাঁর মুখে মাস্কটি সরাবেন। আর তখনই সামনে আসবে সেই ক্ষতবিক্ষত মুখ। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে গা শিউরে উঠতেই বাধ্য। এরপর তাঁর দ্বিতীয় প্রশ্ন, “এখনও কি মনে হচ্ছে আমি সুন্দরী?” আপনার এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করবে আপনার পরিণতি।
বলা হয়, তাঁকে কুৎসিত বললে নাকি তাঁর রোষের শিকার হতে হয়। আবার ‘হ্যাঁ’ বললেও বিপদ! কুচিসকে তাঁর নিজের মতোই কেটে দেবে সেই ব্যক্তির মুখ। তবে তাঁর থেকে বাঁচার উপায়ও রয়েছে। উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এ দিয়ে, কিছু গোলমেলে জবাব দিলে দে নিজেই ভাবতে বসে যায়। সেই ফাঁকেই পালিয়ে যাওয়া যায়।
লোককথার বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁকে শক্ত ক্যান্ডি উপহার দেওয়া হলেও সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আবার, ‘পোমেড’ নামক একপ্রকার চুলের ক্রিমের কথা তিনবার তাঁর সামনে বললেও নাকি রেহাই পাওয়া যায় তাঁর হাত থেকে।
আরও পড়ুন:
বলা হয়, জাপানের গিফু প্রদেশে ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এই কুচিসকে ওন্নার খবর। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া এই কাহিনি নাকি এক সময়ে এতটাই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল সাধারণের মনে যে অভিভাবকেরা অনেক সময়ে তাঁদের শিশুদের একা ছাড়তেন না কোথাও। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)