বাড়ির এই জায়গায় ভুলেও আঁকবেন না লক্ষ্মীর পা! উল্টো পথে হাঁটা দেবেন দেবী, আর কোথায় আলপনা দেওয়ায় রয়েছে নিষেধ?
লক্ষ্মীর আরাধনায় বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকে ঠাকুরের আসনের সামনে আলপনা দেওয়ার রীতি বহুদিনের। কিন্তু জানেন কি, বাড়ির সমস্ত জায়গা কিন্তু এই আলপনার জন্য শুভ নয়। এমনই মত শাস্ত্রের।
বাঙালি পরিবারে আলপনা কেবল সাজসজ্জার অঙ্গ নয়, বলা হয়, এটি নাকি মঙ্গল-অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। রবিবার, লক্ষ্মীপুজো। এ দিনেও অন্দরমহল সেজে উঠেছে গৃহস্থদের তুলির টানেই।
এ দিন দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকে ঠাকুরের আসনের সামনে আলপনা দেওয়ার রীতি বহুদিনের। কিন্তু জানেন কি, বাড়ির সমস্ত জায়গা কিন্তু এই আলপনার জন্য শুভ নয়। শাস্ত্র বলে, এমন বিশেষ কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে লক্ষ্মী পুজোর আলপনা না দেওয়াই উচিত।
প্রথমেই আসে সিঁড়ি। হ্যাঁ, সিংহভাগ বাঙালি বাড়িতেই সিঁড়িতেও ছোঁয়ানো হয় আলপনার টান। কিন্তু শাস্ত্র মতে, যে জায়গা দিয়ে নিয়মিত হাঁটাচলা করা হয়, সেখানে আলপনা না দেওয়াই শ্রেয়।
বাস্তু মতে, শৌচাগারের সামনেও আলপনা দেওয়া অশুভ বলে গণ্য। তা ছাড়া এই সমস্ত জায়গা জল পড়ে পিচ্ছিল থাকার সম্ভাবনা বেশি। এতে আলপনার নকশা নষ্টও হয়ে যেতে পারে।
বাড়ির হেঁসেল একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেখানেও প্রতি মুহূর্তে সদস্যদের চলাচল লেগেই থাকে। কাজেই ব্যস্ত রান্নাঘরে আলপনা দেওয়া শুভ নয় বলেই মনে করা হয়। তবে চাল যেখানে রাখা হয় সেখানে দেবীর পা আঁকায় নিষেধ নেই বলেই মত শাস্ত্রের।
আরও পড়ুন:
এই বিশেষ দিনে প্রতিটি বাঙালি হিন্দু পরিবারে চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা দেওয়ার প্রথা রয়েছে। একই সঙ্গে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আগমন বোঝাতে আঁকা হয় দেবীর রাঙা পায়ের ছাপ।
ঘরে ঠিক কোথায় কোথায় দেবীর পা আঁকা উচিত, সেই নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সামান্য ভুলে সংসারে আসতে পারে অমঙ্গলের ছায়া।
অনেকেই ভুলবশত মূল দরজার ঠিক মুখোমুখি বা বারান্দার বাইরে লক্ষ্মীর পা এঁকে ফেলেন। শাস্ত্র মতে, এটি একেবারেই ভুল পদ্ধতি। এতে নাকি দেবী লক্ষ্মী ঘরে প্রবেশ না করে উল্টো পথে বিদায় নেন।
পরিবর্তে ঘরের লকার বা মূল্যবান আসবাবের সিন্দুক যে স্থানে রয়েছে, সেখানে আঁকতে পারেন লক্ষ্মীর পা। এতে সংসারে সমৃদ্ধি বাড়ে বলেই মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
ঠাকুরঘর বা দেবীর আসনের ঠিক সামনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে দেবীর পা আঁকলে শাস্ত্র মতে, পরিবারে বজায় থাকে তাঁর কৃপাদৃষ্টি। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)