কৃষ্ণবর্ণা, হাতে ঝাঁটা, বাহন গাধা! ছায়া মাড়ান না বোন লক্ষ্মীও, কে এই দেবী অলক্ষ্মী?
এক দিকে দেবী লক্ষ্মী যেমন সুখ ও সমৃদ্ধির দূত। অন্য দিকে অলক্ষ্মীর বাস অন্ধকারে। তিনি তমসা এবং শোকের প্রতীক। আলস্য, অত্যাচার, ঈর্ষা, ক্রোধ, লোভ এবং কামের মধ্যে বসবাস তাঁর।
পুরাণ মতে, তিনি নাকি কলহপ্রিয়া। তিনি গৃহে প্রবেশ করলে সঙ্গে নিয়ে আসেন ঈর্ষা, অমঙ্গল এবং দুর্ভাগ্যের ঢেউ। তিনিই হলেন দেবী লক্ষ্মীর জ্যেষ্ঠা ভগিনী বা বড় বোন অলক্ষ্মী। জানেন কি এর অজানা কাহিনি?
এক দিকে দেবী লক্ষ্মী যেমন সুখ ও সমৃদ্ধির দূত। অন্য দিকে অলক্ষ্মীর বাস অন্ধকারে। তিনি তমসা এবং শোকের প্রতীক। এই দেবী কৃষ্ণবর্ণা। হাতে ধরা ঝাঁটা। যে ভাবে তিনি বর্ণিত আছেন, তাতে তাঁর পরনে রক্তমালা, রক্তকমল এবং লোহার অলংকার। অপরিচ্ছন্ন, কুৎসিত। আলস্য, অত্যাচার, ঈর্ষা, ক্রোধ, লোভ এবং কামের মধ্যে বসবাস তাঁর।
দেবীর বাহন গাধা। জানেন কি, অলক্ষ্মীকে ভয় পান স্বয়ং অসুরেরাও।
এমনকি কেউ তাঁকে বিয়ে করতে না চাইলে বিষ্ণু দেবের অনুরোধে উদ্দালক মুণি বিয়ে করেন তাঁকে। যদিও সংসারও টেকেনি বেশিদিন।
কথিত, কনিষ্ঠা ভগিনী লক্ষ্মীকে বিষ্ণুর সঙ্গে বৈকুণ্ঠে বাস করতে দেখে একবার মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন নাকি তিনি। কারণ বোনের কাছে সব থাকলেও তাঁর কাছে না তো ছিল বাসস্থান আর না তো স্বামীসঙ্গ।
আরও পড়ুন:
পরবর্তীতে লক্ষ্মীর বরেই দৈত্য কলিকে নিজের স্বামী হিসেবে লাভ করেন তিনি।
কেউ কেউ বলেন, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার দুই রূপের প্রতীক হলেন দেবী লক্ষ্মী এবং অলক্ষ্মী। বলা হয়, ব্রহ্ম দেবের চার মুখের মধ্যে যে মুখটি অন্ধকারে ঘোরানো থাকে, সেখানেই বাস অলক্ষ্মীর। দীপান্বিতা লক্ষ্মী পুজোর আগের দিন অলক্ষ্মীর বিদায়ের প্রথা রয়েছে ঘরে ঘরে।
কারণ প্রচলিত বিশ্বাস বলে, দেবী লক্ষ্মী চঞ্চলা। অলক্ষ্মী যেখানে বাস করেন, তিনি সেখানে থাকতে পারেন না। কারণ নিষ্ক্রিয়তা, অলসতা এবং অন্ধকার উদয় হলেই সেই স্থান ত্যাগ করেন তিনি।
বাড়িতে অলক্ষ্মীর মূর্তি পূজা করা হয় না, পরিবর্তে তার কোনও প্রতীক নির্মাণ করে ঘরের বাইরে পূজা করা হয়।
আরও পড়ুন:
দীপান্বিতা অমাবস্যায় ঘরের বাইরে অলক্ষ্মীর প্রতীককে পূজা করে কুলো বাজিয়ে বাড়ির বাইরে বার করে তবেই ঘরে দেবী মহালক্ষ্মীর আরাধনা শুরু হয়। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)