দিনে সাধারণ নারী, রাত বাড়লেই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় মাথা, লম্বা গলা ঘুরে বেড়ায় চারপাশে, চেনেন এই জাপানি কিংবদন্তিকে?
জাপানের লোকবিশ্বাসে এই ভয়ঙ্কর নারী চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে। এর নাম রোকুরোকুবি। জাপানি লোককথার ইয়োকাই বা অতিপ্রাকৃত সত্তাদের মধ্যে অন্যতম চর্চিত এক চরিত্র। সে দিনে আর পাঁচ জন সাধারণ নারীর মতো হলেও রাত বাড়লেই নেয় ভয়ঙ্কর রূপ।
ভাবুন তো, গভীর রাতে ঘুম ভেঙেছে হঠাৎ। ঘরের চার পাশ নিস্তব্ধ। বাইরে ঠান্ডা বাতাস। হঠাৎ নজর গেল ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা নারীর অবয়বে। যার মাথা অস্বাভাবিক ভাবে এগিয়ে আসছে সামনে। কিন্তু শরীর একই জায়গায় স্থির! শিউরে উঠলেন তো?
জাপানের লোকবিশ্বাসে এই ভয়ঙ্কর নারী চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে। এর নাম রোকুরোকুবি। জাপানি লোককথার ইয়োকাই বা অতিপ্রাকৃত সত্তাদের মধ্যে অন্যতম চর্চিত এক চরিত্র। সে দিনে আর পাঁচ জন সাধারণ নারীর মতো হলেও রাত বাড়লেই নেয় ভয়ঙ্কর রূপ।
রোকুরোকুবি নিয়ে জাপানি লোককথায় একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনও কোনও গল্পে ঘুমের মধ্যে তার ঘাড় অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। আবার কখনও তা লম্বা সাপের মতো এঁকেবেঁকে ঘুরে বেড়ায় সারা ঘরে।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে তো আবার শরীর থেকেই আলাদা হয়ে যায় মাথা। যদিও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন মস্তকধারী এই নারীকে ‘নুকেকুবি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
রোকুরোকুবির চরিত্রের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল তার ছদ্মবেশ। লোককথার বর্ণনা অনুযায়ী সে সাধারণ মানুষের মধ্যেই মিশে যেতে পারে সহজে। তার জীবনযাপনের মাধ্যমেও তার আসল চরিত্র আঁচ করার উপায় নেই।
আরও পড়ুন:
মানুষের সঙ্গে কথা বলা, বাড়ির কাজ করা থেকে শুরু করে এক জন সাধারণ মানুষ যা যা করে থাকে, তার সবই সে করে নিপুণ ভাবেই।
তবে সব ক্ষেত্রে যে রোকুরোকুবি ইচ্ছাকৃত মানুষকে ভয় দেখায়, এমনটা নয়। কিছু কিছু গল্পে সে নিজেই জানে না যে, ঘুমের মধ্যে কখন তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে চার পাশে।
জাপানের এডো যুগে মানুষের মনে রোকুরোকুবি-সহ নানা ইয়োকাই বা অতিপ্রাকৃত সত্তাদের নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে।
সেই সময়ে একাধিক জাপানি লেখক বা শিল্পীর প্রকাশিত সঙ্কলনগুলিতে ফুটে ওঠে তার চেহারা।
আরও পড়ুন:
সামনেই তো ভূত চতুর্দশী। দিনের আলোয় কার সঙ্গে কথা বলছেন, তা নিয়ে এ বার সতর্ক হন। রাতের অন্ধকারে সে-ই রোকুরোকুবি নয় তো! (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)