কালীপুজোর আগের সন্ধে নামলেই গা-ছমছমে আলো-আঁধারির আবহ তৈরি হয় বাঙালি ঘরে ঘরে। নামটাই যে ‘ভূত চতুর্দশী’! আর ‘ভূত’ শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অতৃপ্ত আত্মা, অশরীরী উপদ্রব আর বুক ঢিপঢিপ করা এক অজানা আতঙ্ক। কিন্তু বহু যুগ ধরে চলে আসা এই উৎসবে সত্যিই কি ভয় পাওয়ার কিছু আছে? এই রাতের ‘ভূতেরা’ কি আদৌ অনিষ্টকারী?
কারা এই 'ভূত'?
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘ভূত’ শব্দের অর্থ হল ‘অতীত’। অর্থাৎ যা গত হয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই চতুর্দশী তিথিতে পূর্বপুরুষদের আত্মা নেমে আসে মর্ত্যে। পরিবারের উত্তরসূরিদের একঝলক দেখাই তাঁদের উদ্দেশ্য। কেমন আছেন তাঁরা? মৃত্যুর পর কী করছে তাঁর পরিবার? সব কিছু 'সরেজমিন'-এ যাচাই করতেই নাকি আগমন ঘটে তাঁদের।
পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি বা অমঙ্গল সাধন এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য নয় মোটেই। তা হলে কেন জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ? ঘন অন্ধকারে যাতে আত্মারা তাঁদের চেনা বাস্তুভিটে খুঁজে পেতে পথ না হারান তাই পথ দেখানোর জন্যই নাকি এই পন্থা। বিশ্বাস করা হয়, পিতৃপক্ষ পেরিয়ে অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে এ ভাবেই ফেলে যাওয়া ঘর-বাড়ি খুঁজে দেখেন তাঁরা। উত্তরসূরী খুশিতে থাকলে আনন্দিত হন।
তাছাড়াও ভূত চতুর্দশীকে নিয়ে আরও একটি কথা প্রচলিত আছে, বলা হয় দেবী কালীর ভয়ংকরী রূপ দেবী চামুন্ডা এবং তার সঙ্গে থাকা ১৪ টি শক্তি এই দিন বাড়িতে থাকার সমস্ত অশুভ শক্তি এবং প্রেতাত্মাদের নাশ করে। বিজ্ঞানের যুক্তি যদিও এই সব থেকে বহু হস্তে দূরে। আর মাত্র কিছু দিন। এর পরেই পূর্বপুরুষদের 'পদধূলি' পড়তে চলেছে নাকি আপনার বাস্তুভিটেতে?
আরও পড়ুন:
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব ফিচারের' একটি অংশ।