স্বয়ং মা কালীর অনুচর! কানাভুলো থেকে মামদো, বাংলার পুরুষ ভূতেদের চেনেন? নিশুতি রাতে কী-ই বা করে তারা?
লোক মতে, নিশি এক অশরীরী সত্তা। তার কোনও নির্দিষ্ট চেহারা নেই। পরিচিত মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করে গভীর রাতে মানুষকে ডাকে নিশি।
কালীপুজো আর মাত্র ক’দিনের অপেক্ষা। আলোর রোশনাইয়ে ছলমল করবে চারদিক। দেশজুড়ে পালন হবে দীপাবলী।
কালীপুজো মানেই স্বয়ং মা কালীর অনুচরদের প্রকট হওয়ার সময়। ভূত চতুর্দশীর রাতে তেনারা প্রকট হন।
বাংলা লোককথায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু ভূতের সন্ধান পাওয়া যায়। কালীপুজোর আগের জেনে নিন কিছু পুরুষ ভূতেদের সম্পর্কে।
ব্রক্ষ্মদৈত্য: বাংলার লোককথার অন্যতম পরিচিত পুরুষ ভূত। বিশাল চেহারা, মাথায় টিকি, গলায় পৈতে। সাধারণত ব্রাহ্মণের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা এই রূপ নেয় বলে মনে করা হয়।
মামদো ভূত: বাংলা লোককথায় মামদো পরিচিত এক পুরুষ প্রেতাত্মা। মুসলমান মৃত ব্যক্তির আত্মার সঙ্গে এই নামটি যুক্ত। অন্ধকার রাস্তা, পুরনো কবরস্থান কিংবা নির্জন মাঠে তার দেখা মেলে।
আরও পড়ুন:
মেছো ভূত: মাছ দেখলে আর স্থির থাকতে পারে না যে, সেই মেছোভূত। মাছের গন্ধ পেলেই হাজির হয় সে। রাতের বেলায় পুকুর পাড়ে তাঁকে নাকি ঘুরতে দেখা যায়।
গেছো ভূত: গাছের ডালই তার ঘর-বাড়ি। বিশেষ করে পুরনো বট, পাকুড় কিংবা তালগাছ তার পছন্দের জায়গা। কখনও ডাল নাড়ে, কখনও অদ্ভুত শব্দ করে মানুষকে ভয় দেখায় সে।
স্কন্ধকাটা: তার শুধু দেহ আছে, মাথা নেই। প্রচলিত, দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনও কারণে মাথা হারিয়ে মৃত্যুর পর সেই ব্যাক্তি আত্মা এমন রূপ নেয়।
দানো: লোকমুখে প্রচলিত, দানো বিশালাকার, শক্তিশালী এক ভূত। সাধারন মানুষের তুলনায় তাঁর উচ্চতা অনেক বেশি। পুরনো বাড়ি ও শ্মশানেই নাকি থাকে এই দানো।
আরও পড়ুন:
কানাভুলো ভূত: সে শুধু পথ ভোলায়। লোকবিশ্বাস যে পরিচিত মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করে পথচারীকে অন্যদিকে ডেকে নিয়ে যায় এই ভূত। গভীর রাতে তার ফাঁদে পড়লে চেনা রাস্তাও অচেনা হয়ে যায়।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।