শুধু সিনেমায় নয়, বাস্তবেই রয়েছেন শ্বেতকালী! বাংলার কোন কোন জেলায় দেখা মেলে শ্যামার এই বিরল রূপের?
সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ়ের পর্দায় তাঁর দেখা মিলেছে। বাস্তবেও কিন্তু এই শ্বেতবর্ণা কালী পূজিত হয়ে আসছেন বহু বছর ধরে। কোথায় জানেন?
সুন্দর অথচ ভয়ঙ্কর মাতৃমূর্তি। আদ্যোপান্ত নীল অথবা কালো বর্ণা। কালীমূর্তির কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই চেনা রূপ। কিন্তু কখনও কি দেখেছেন শ্বেতবর্ণা কালী?
সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ়ের পর্দায় তাঁর দেখা মিলেছে। বাস্তবেও কিন্তু এই শ্বেতবর্ণা কালী পূজিত হয়ে আসছেন বহু বছর ধরে। কোথায় জানেন?
বাংলার বুকেই এমন চারটি জায়গা রয়েছে, যেখানে শ্বেতকালী রূপে পুজো হয় কালীর। জেনে নেওয়া যাক সেই চার ঠিকানার হদিস।
পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে পুজো হয় শ্বেতবর্ণা কালীর। ২০০৫ সালে পূজারী মধুময় ঘোষের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠা হয় দেবীর। শোনা যায়, স্বপ্নাদেশ পেয়েই নাকি পুজো শুরু করেছিলেন তিনি। দেবী নিজেই নাকি তাঁকে এই রূপে পুজো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কথিত, এক কালে নাকি শ্রীরামকৃষ্ণ মা কালীর এই রূপের দর্শন পেয়েছিলেন। কুলটিতে এই দেবী পূজিত হন ফলহারিণী কালী রূপে।
আরও পড়ুন:
বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি। সেখান থেকে মাত্র ৫ কিমি দূরে ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে এক ছোট্ট, স্নিগ্ধ গ্রাম অজয়পুর। সেখানে গেলেও দর্শন পেতে পারেন শ্বেতকালীর। ১৯৭৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় গ্রাম ভেসে যাওয়ায় গৃহহীন অসহায় মানুষেরা এই অজয়পুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। সেই দলে ছিলেন এক জন সাধুও।
সেই সাধুর হাত ধরেই গ্রামে সূচনা হয়েছিল শ্বেতকালীর পুজোর। তবে শোনা যায়, অমাবস্যা নয়, অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই মা কালীর পুজো করা হয়।
হুগলি জেলার রাজবলহাট বিখ্যাত তার রাজবল্লভী দেবী মন্দিরের জন্য। এই মন্দিরে দেবীকে শ্বেতকালী রূপেই আরাধনা করা হয়। স্থানীয় মানুষদের মতে, ৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট, তাঁতের শাড়ি পরিহিতা এই দেবী আসলে নাকি দুর্গা, সরস্বতী ও কালীর মিশ্রিত রূপ।
কথিত, এই মন্দিরেই নাকি পঞ্চমুণ্ডি আসনে বসে এককালীন তন্ত্র সাধনা করেছিলেন রাজা সদানন্দ রায়।
আরও পড়ুন:
হুগলির আঁটপুরের শ্বেতকালীও লোকমুখে বিশেষ ভাবে প্রচলিত। স্থানীয় মানুষ বলেন, আঁটপুরের সিদ্ধেশ্বরী শ্বেতকালী ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম রাজবলহাটের রাজবল্লভী দুই বোন। গড় ভবানীপুরের রাজা সদানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন রাজবলহাটের দেবী রাজবল্লভীকে। আর রানি তারাদেবী স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালীকে আঁটপুরে প্রতিষ্ঠা করেন। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)