পুজোর ক্লান্তির মধ্যে এক চিলতে রাজকীয় আরাম! দর্শনার্থীদের ‘লপ লপ স্টার’ বানাল সেন্টার ফ্রুট
সাধারণ দর্শনার্থী, যাঁরা সারা দিন ধরে হেঁটে ক্লান্ত হচ্ছেন, তাঁদের হাতেই এ বার ভিআইপি তকমা তুলে দেওয়ার এক দারুণ প্ল্যান কষে ফেলল 'সেন্টার ফ্রুট'। কী এমন ঘটল দর্শনার্থীদের সঙ্গে?
পুজোর দিনে ব্র্যান্ডগুলোর লড়াই তো নতুন নয়! কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে পুজো দেখার আসল মানেটা কী? কড়া রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাইলের পর মাইল লাইন ধরে হেঁটে চলা। অথচ অন্য দিকে ভিআইপিদের খাতিরদারি দেখলে কার না একটু হিংসা হয়, বলুন তো?
এ বার সেই চেনা ছবিটাই একটু বদলে দিল 'সেন্টার ফ্রুট'। সাধারণ দর্শনার্থী, যাঁরা সারা দিন ধরে হেঁটে ক্লান্ত হচ্ছেন, তাঁদের হাতেই এ বার ভিআইপি তকমা তুলে দেওয়ার এক দারুণ প্ল্যান কষে ফেলল তারা।
জায়গাটা বেছে নেওয়া হয়েছিল দমদম পার্ক তরুণ সংঘের লাইনের ঠিক মাঝখানে! দীর্ঘ প্রতীক্ষায় যখন সবার হাঁপিয়ে ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই লাইনের পাশে হাজির এক প্রকাণ্ড হাওয়ায় ফোলা সেন্টার ফ্রুট আর একদল মানুষ।
অফারটা শুনে অনেকেই প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলেন! সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত কোনও মানুষকে হঠাৎ এসে যদি কেউ বলে—"একটু জিরিয়ে নেবেন নাকি? সাথে কিছু খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা আছে!"—তা হলে কে না রাজি হয়?
কিন্তু উপহার তো আর এমনি এমনি মেলে না! তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ একটি মেশিন। শর্ত মোটে একটাই—১০ সেকেন্ডের মধ্যে অনর্গল আর স্পষ্ট গলায় বলে যেতে হবে "লপ লপ লপ"! অনেকটা ‘জিভে জট’-এর মতো। ভিড়ের মধ্যে হাঁপাতে হাঁপাতে মুখ সামলে শব্দ ছোঁড়ার এই খেলায় মেতে উঠলেন ছোট থেকে বড় সবাই।
আরও পড়ুন:
জিভ একটু জড়িয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু হাসির ফোয়ারায় লাইনের সব ক্লান্তি যেন উবে গেল এক নিমেষে! আর যাঁরা চ্যালেঞ্জ পার করলেন, তাঁরা তো নিমেষেই হয়ে উঠলেন 'পুজো লপ লপ স্টার'।
জিততেই সোজা রেড কার্পেট ওয়েলকাম! লাইন থেকে হাত ধরে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হলো এক বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাউঞ্জে। বাইরের ঘাম প্যাঁচপ্যাচে গরম আর মাইকের কানফাটা আওয়াজ থেকে দূরে এক লহমায় যেন ক্ষণিকের স্বর্গসুখ!
ভেতরে ঢুকতেই ঠান্ডা পানীয়, ভেজা তোয়ালে, সঙ্গে কেক-কুকিজ আর অ্যামাজন ভাউচার। রাজকীয় এই খাতিরদারিতে ক্লান্ত মুখে মুহূর্তেই ফিরে এল চওড়া হাসি।
পুজোর বাজারে চারপাশের এত ব্র্যান্ডের চিৎকার আর মাইকের শোরগোলের মধ্যে সেন্টার ফ্রুটের এই উদ্যোগটা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল। কোলাহল না বাড়িয়ে, সাধারণ মানুষের এই ছোট্ট একটু স্বস্তির খেয়াল রাখাটাই বোধহয় আসল বাজিমাত! আর সেখানেই সফল সেন্টার ফ্রুট। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)