পুজোর কেনাকাটায় জামাকাপড়, জুতো, প্রসাধনীর সঙ্গে এখন উপহারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে স্মার্ট ঘড়িও। প্রিয় মানুষকে একটু আধুনিক, একটু কাজের উপহার দিতে চাইলে ঘড়ি কিন্তু মন্দ নয় । তবে বাজারে হরেক রকমের স্মার্ট ঘড়ি। কোনটা সত্যিই ভাল, আর কোনটা দেখতে শুধু ঝাঁ চকচকে—বুঝবেন কী ভাবে? কেনার আগে মাথায় রাখুন কয়েকটি বিষয়।
প্রথমেই নজর দিন মাপ ও নকশায়। যাঁর জন্য ঘড়ি কিনছেন, তাঁর হাতের সঙ্গে ডায়ালের আকার এবং বেল্টের রং মানানসই কিনা দেখে নিন। দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি ঘড়িটি যেন হাতে পরেও স্বচ্ছন্দ লাগে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল 'ফিচার'। স্মার্ট ঘড়ি এখন শুধু সময় দেখানোর যন্ত্র নয়। হৃদ্স্পন্দন মাপা, হাঁটা বা শরীরচর্চার হিসাব রাখা, ফোনের নোটিফিকেশন দেখানো—নানা কাজেই ব্যবহার হয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ফিচার রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।
ওজনও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনের বেশির ভাগ সময় হাতে পরে থাকার জন্য হালকা ঘড়িই বেশি আরামদায়ক। ভারি ঘড়ি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে অস্বস্তি হতে পারে।
ফিটনেস ফিচারের তালিকাটাও দেখে নিন। শুধু হৃদ্স্পন্দন বা এসপিওটু মাপলেই হবে না। বিভিন্ন স্পোর্টস মোড এবং প্রয়োজনীয় ফিটনেস বোঝার নানা জিনিস রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে নিন।
এর পর আসে 'ডিসপ্লে'। ঘড়ির পর্দা যত উজ্জ্বল ও স্পষ্ট হবে, ব্যবহার তত আরামদায়ক। বিশেষ করে রোদে যাতে লেখা বা নোটিফিকেশন পড়তে সমস্যা না হয়, সে দিকে নজর দিন।
ব্যাটারি এবং অ্যাপের বিষয়টিও এড়িয়ে যাবেন না। এক বার চার্জ দিলে কত দিন চলে, ঘড়িটি কোন অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং সেই অ্যাপ আপনার ফোনের সঙ্গে কতটা সহজে কাজ করে—কেনার আগে জেনে নিন।
সব শেষে দেখে নিন জল ও ধুলো প্রতিরোধের ক্ষমতা। আইপি৬৭ বা আইপি৬৮-এর মতো রেটিং থাকলে দৈনন্দিন ব্যবহারে ঘড়িটি জল ও ধুলোর হাত থেকে তুলনামূলক ভাবে বেশি সুরক্ষিত থাকে।
তাই পুজোয় প্রিয়জনের হাতে স্মার্ট ঘড়ি তুলে দেওয়ার আগে শুধু দামের দিকে নয়, নজর দিন ফিচার, আরাম, স্থায়িত্ব এবং ব্যবহারের সুবিধায়ও। তাহলেই উপহার হবে দেখতে স্মার্ট, আবার কাজেও দারুণ।
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ।