Health Partner
Comfort Partner
Knowledge Partner

মাটির গভীরে ইতিহাস আগলায় মৃতের নগরী, আলোর শহরের নীচে অন্ধকারের প্যারিস

আইফেল টাওয়ার, সেন নদী আর ঝলমলে বুলেভার্ডের অনেক নীচে রয়েছে আরও এক প্যারিস। সেখানে রাস্তা আছে, ঘর আছে, এমনকি আছে লক্ষ লক্ষ বাসিন্দাও। শুধু তাঁরা কেউ আর বেঁচে নেই। হ্যালোইনের আগে বরং তাদের গল্প হোক?

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৪
প্যারিস বললেই চোখে ভাসে আইফেল টাওয়ার, সেন নদীর ধারে হাঁটাহাঁটি আর ফুটপাতের ক্যাফেতে আড্ডার মৌতাত। কিন্তু এই চেনা ছবিটার আড়ালে যে আর একটা প্যারিস লুকিয়ে আছে, সে-ও কিন্তু কম আশ্চর্যের নয়। বাড়িঘর, পথঘাট সবই আছে সেখানে। শুধু বাসিন্দারা মৃত!
০১ / ২৪

প্যারিস বললেই চোখে ভাসে আইফেল টাওয়ার, সেন নদীর ধারে হাঁটাহাঁটি আর ফুটপাতের ক্যাফেতে আড্ডার মৌতাত। কিন্তু এই চেনা ছবিটার আড়ালে যে আর একটা প্যারিস লুকিয়ে আছে, সে-ও কিন্তু কম আশ্চর্যের নয়। বাড়িঘর, পথঘাট সবই আছে সেখানে। শুধু বাসিন্দারা মৃত!

প্যারিসের ব্যস্ত রাস্তাগুলোর অনেক নীচে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র সুড়ঙ্গ, পরিত্যক্ত খনি, গোপন কুঠুরি আর মৃত মানুষের হাড়ে ঠাসা সমাধিক্ষেত্র। কোথাও বহু শতাব্দী ধরে সূর্যের আলোই পৌঁছয়নি। অথচ উপরে দিব্যি চলছে কর্মব্যস্ত নগরজীবন। আর সেই চেনা শহরের ঠিক নীচেই অপেক্ষায় এক অচেনা, অস্বস্তিকর প্যারিস।
০২ / ২৪

প্যারিসের ব্যস্ত রাস্তাগুলোর অনেক নীচে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র সুড়ঙ্গ, পরিত্যক্ত খনি, গোপন কুঠুরি আর মৃত মানুষের হাড়ে ঠাসা সমাধিক্ষেত্র। কোথাও বহু শতাব্দী ধরে সূর্যের আলোই পৌঁছয়নি। অথচ উপরে দিব্যি চলছে কর্মব্যস্ত নগরজীবন। আর সেই চেনা শহরের ঠিক নীচেই অপেক্ষায় এক অচেনা, অস্বস্তিকর প্যারিস।

ফরাসী সাহিত্য বহু দিন ধরেই দুই শহরের গল্প শুনিয়েছে। উপরে শিল্প, প্রেম, ফ্যাশন, বিপ্লব আর জনজীবনের কোলাহল। নীচে মৃত্যু, অপরাধ, গোপন আস্তানা আর চাপা পড়ে থাকা ইতিহাস। ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজ়ারেবল’ উপন্যাসে প্যারিসের নর্দমার গোলকধাঁধা অথবা বিখ্যাত গথিক রোম্যান্স ‘দ্য ফ্যান্টম অফ দ্য অপেরা’-য় ভূগর্ভের রহস্যময় হ্রদ— এসব শুধু গা ছমছমে পরিবেশ তৈরির উপকরণ নয়।
০৩ / ২৪

ফরাসী সাহিত্য বহু দিন ধরেই দুই শহরের গল্প শুনিয়েছে। উপরে শিল্প, প্রেম, ফ্যাশন, বিপ্লব আর জনজীবনের কোলাহল। নীচে মৃত্যু, অপরাধ, গোপন আস্তানা আর চাপা পড়ে থাকা ইতিহাস। ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজ়ারেবল’ উপন্যাসে প্যারিসের নর্দমার গোলকধাঁধা অথবা বিখ্যাত গথিক রোম্যান্স ‘দ্য ফ্যান্টম অফ দ্য অপেরা’-য় ভূগর্ভের রহস্যময় হ্রদ— এসব শুধু গা ছমছমে পরিবেশ তৈরির উপকরণ নয়।

এই অন্ধকার জগতের মধ্য দিয়েই লেখকেরা দেখিয়েছেন, আলোকোজ্জ্বল শহরটি তার অন্ধকারে কত কিছু লুকিয়ে রেখেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, সেই অন্ধকারের অনেকটাই বাস্তব। আর তার কিছু অংশে আজও নামা যায়।
০৪ / ২৪

এই অন্ধকার জগতের মধ্য দিয়েই লেখকেরা দেখিয়েছেন, আলোকোজ্জ্বল শহরটি তার অন্ধকারে কত কিছু লুকিয়ে রেখেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, সেই অন্ধকারের অনেকটাই বাস্তব। আর তার কিছু অংশে আজও নামা যায়।

প্যারিসের দক্ষিণে দঁফের-রোশরো নামে এক ব্যস্ত চত্বর। গাড়ি চলছে, মানুষ মেট্রো ধরছেন। এখানেই প্যারিস ক্যাটাকোম্বসের প্রবেশপথ। পাথরের সরু সিঁড়ি বেয়ে প্রায় কুড়ি মিটার নীচে নামতে নামতে শহরের শব্দ মিলিয়ে যায়।
০৫ / ২৪

প্যারিসের দক্ষিণে দঁফের-রোশরো নামে এক ব্যস্ত চত্বর। গাড়ি চলছে, মানুষ মেট্রো ধরছেন। এখানেই প্যারিস ক্যাটাকোম্বসের প্রবেশপথ। পাথরের সরু সিঁড়ি বেয়ে প্রায় কুড়ি মিটার নীচে নামতে নামতে শহরের শব্দ মিলিয়ে যায়।

বাতাস ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে। হলদেটে আলোয় দেখা যায় চুনাপাথরের দেওয়াল আর মাথার উপরে নিচু ছাদ। এক সময়ে সামনে আসে পাথরে খোদাই করা একটি সতর্কবাণী— এখান থেকেই মৃত্যুর সাম্রাজ্য শুরু। আর তার পরের বাঁক ঘুরতেই এমন এক দৃশ্য, যা দিনের আলোয় দাঁড়িয়ে কল্পনা করাও কঠিন।
০৬ / ২৪

বাতাস ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে। হলদেটে আলোয় দেখা যায় চুনাপাথরের দেওয়াল আর মাথার উপরে নিচু ছাদ। এক সময়ে সামনে আসে পাথরে খোদাই করা একটি সতর্কবাণী— এখান থেকেই মৃত্যুর সাম্রাজ্য শুরু। আর তার পরের বাঁক ঘুরতেই এমন এক দৃশ্য, যা দিনের আলোয় দাঁড়িয়ে কল্পনা করাও কঠিন।

 দেওয়ালজুড়ে সারি সারি মাথার খুলি। তার নীচে থরে থরে সাজানো মানুষের হাড়। কোথাও সেই হাড়ের সারির ফাঁকে পাথরের ফলক, কোথাও বা হাড়ের স্তূপ হারিয়ে গিয়েছে অন্ধকারের গভীরে। আঠেরো শতকে প্যারিসের কবরস্থানগুলো উপচে পড়লে লক্ষ লক্ষ মৃত মানুষের দেহাবশেষ সরিয়ে আনা হয়েছিল এই পরিত্যক্ত পাথরখনিতে।
০৭ / ২৪

দেওয়ালজুড়ে সারি সারি মাথার খুলি। তার নীচে থরে থরে সাজানো মানুষের হাড়। কোথাও সেই হাড়ের সারির ফাঁকে পাথরের ফলক, কোথাও বা হাড়ের স্তূপ হারিয়ে গিয়েছে অন্ধকারের গভীরে। আঠেরো শতকে প্যারিসের কবরস্থানগুলো উপচে পড়লে লক্ষ লক্ষ মৃত মানুষের দেহাবশেষ সরিয়ে আনা হয়েছিল এই পরিত্যক্ত পাথরখনিতে।

আজ এখানে রয়েছে প্রায় ষাট লক্ষ মানুষের দেহাবশেষ। চারপাশে এত মৃত্যু, অথচ এমন নিস্তব্ধতা! এই মৃত শহরের একাংশ আজ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চলতে চলতে হঠাৎ পিছনে পায়ের শব্দ শুনে ফিরে তাকালেন – কিন্তু দেখলেন সুড়ঙ্গটা ফাঁকা। শব্দটা তবে কার?
০৮ / ২৪

আজ এখানে রয়েছে প্রায় ষাট লক্ষ মানুষের দেহাবশেষ। চারপাশে এত মৃত্যু, অথচ এমন নিস্তব্ধতা! এই মৃত শহরের একাংশ আজ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চলতে চলতে হঠাৎ পিছনে পায়ের শব্দ শুনে ফিরে তাকালেন – কিন্তু দেখলেন সুড়ঙ্গটা ফাঁকা। শব্দটা তবে কার?

ক্যাটাকোম্বসের দর্শনপথের বাইরেও প্যারিসের নীচে ছড়িয়ে আছে বিস্তীর্ণ পরিত্যক্ত খনি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ‘ক্যাটাফিল’দের কথা। প্যারিসের এই নিষিদ্ধ ভূগর্ভস্থ জগতে নিয়মিত আনাগোনা তাঁদের। টর্চ হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁরা ঘুরে বেড়ান সুড়ঙ্গের গোলকধাঁধায়, দেওয়ালে আঁকেন বিচিত্র সব ছবি, কখনও আবার পরিত্যক্ত কুঠুরিতে বসান আড্ডা।
০৯ / ২৪

ক্যাটাকোম্বসের দর্শনপথের বাইরেও প্যারিসের নীচে ছড়িয়ে আছে বিস্তীর্ণ পরিত্যক্ত খনি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ‘ক্যাটাফিল’দের কথা। প্যারিসের এই নিষিদ্ধ ভূগর্ভস্থ জগতে নিয়মিত আনাগোনা তাঁদের। টর্চ হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁরা ঘুরে বেড়ান সুড়ঙ্গের গোলকধাঁধায়, দেওয়ালে আঁকেন বিচিত্র সব ছবি, কখনও আবার পরিত্যক্ত কুঠুরিতে বসান আড্ডা।

অন্ধকারের এই জগতেই যেন তাঁরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের এক আলাদা জগৎ। সরু সুড়ঙ্গের বাঁক পেরিয়ে কখনও সামনে আসে বড়সড় ফাঁকা কুঠুরি। আলো নিভিয়ে দিলে নিজের হাতটুকুও সেখানে আর দেখা যায় না। কে জানে, সেই অন্ধকারে আপনার পাশেই হয়তো নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে কেউ!এই সুড়ঙ্গগুলোয় অবশ্য সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ।
১০ / ২৪

অন্ধকারের এই জগতেই যেন তাঁরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের এক আলাদা জগৎ। সরু সুড়ঙ্গের বাঁক পেরিয়ে কখনও সামনে আসে বড়সড় ফাঁকা কুঠুরি। আলো নিভিয়ে দিলে নিজের হাতটুকুও সেখানে আর দেখা যায় না। কে জানে, সেই অন্ধকারে আপনার পাশেই হয়তো নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে কেউ!এই সুড়ঙ্গগুলোয় অবশ্য সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ।

প্যারিসের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে সেন নদী। তার কাছেই প্যারিস সিউয়ার মিউজিয়াম— শহরের পয়ঃপ্রণালী নিয়ে তৈরি এক আশ্চর্য জাদুঘর। মাটির নীচে পাথরের খিলান, বিশাল নালা, লোহার পাইপ। অন্ধকার পথ ধরে জল বয়ে চলেছে এক নাগাড়ে।
১১ / ২৪

প্যারিসের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে সেন নদী। তার কাছেই প্যারিস সিউয়ার মিউজিয়াম— শহরের পয়ঃপ্রণালী নিয়ে তৈরি এক আশ্চর্য জাদুঘর। মাটির নীচে পাথরের খিলান, বিশাল নালা, লোহার পাইপ। অন্ধকার পথ ধরে জল বয়ে চলেছে এক নাগাড়ে।

ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজেরাবল’-এ আহত মারিয়ুসকে কাঁধে নিয়ে জাঁ ভালজাঁ এই পথেই পালিয়েছিলেন শহর ছেড়ে। এখানে হাঁটতে হাঁটতে সেই দৃশ্য মনে পড়ে যায়। পাশে কোথাও জল ছলকে ওঠে, কোথাও বা অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথে সেই শব্দই ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে। নিজের পায়ের শব্দও যেন অন্য কারও মনে হয়।
১২ / ২৪

ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজেরাবল’-এ আহত মারিয়ুসকে কাঁধে নিয়ে জাঁ ভালজাঁ এই পথেই পালিয়েছিলেন শহর ছেড়ে। এখানে হাঁটতে হাঁটতে সেই দৃশ্য মনে পড়ে যায়। পাশে কোথাও জল ছলকে ওঠে, কোথাও বা অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথে সেই শব্দই ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে। নিজের পায়ের শব্দও যেন অন্য কারও মনে হয়।

সেন নদীর মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপ ইল দ্য লা সিতে। এখানেই প্যারিসের বিখ্যাত নোত্র দাম গির্জা। তার সামনের চত্বরের নীচে রয়েছে আর্কিওলজিক্যাল ক্রিপ্ট,  যেখানে দেখতে পাবেন রোমান আর মধ্যযুগীয় প্যারিসের পাথরের ভিত, প্রাচীন রাস্তা আর হারিয়ে যাওয়া বসতির চিহ্ন।
১৩ / ২৪

সেন নদীর মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপ ইল দ্য লা সিতে। এখানেই প্যারিসের বিখ্যাত নোত্র দাম গির্জা। তার সামনের চত্বরের নীচে রয়েছে আর্কিওলজিক্যাল ক্রিপ্ট, যেখানে দেখতে পাবেন রোমান আর মধ্যযুগীয় প্যারিসের পাথরের ভিত, প্রাচীন রাস্তা আর হারিয়ে যাওয়া বসতির চিহ্ন।

যে সব রাস্তা দিয়ে এক দিন মানুষ হেঁটেছে, দোকানি পসরা সাজিয়েছে, দিনের শেষে ঘরে ফিরেছে মানুষ— সে সব আজ মাটির নীচে চাপা পড়ে আছে দীর্ঘশ্বাস হয়ে। ভাবতে অদ্ভুত লাগে, চেনা শহরের নীচে কত মানুষের দৈনন্দিন জীবন এ ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সংরক্ষণ কাজের জন্য জায়গাটি অবশ্য আপাতত বন্ধ।
১৪ / ২৪

যে সব রাস্তা দিয়ে এক দিন মানুষ হেঁটেছে, দোকানি পসরা সাজিয়েছে, দিনের শেষে ঘরে ফিরেছে মানুষ— সে সব আজ মাটির নীচে চাপা পড়ে আছে দীর্ঘশ্বাস হয়ে। ভাবতে অদ্ভুত লাগে, চেনা শহরের নীচে কত মানুষের দৈনন্দিন জীবন এ ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সংরক্ষণ কাজের জন্য জায়গাটি অবশ্য আপাতত বন্ধ।

প্যারিসের পাতালরেলের একটি স্টেশন আর এ মেতিয়ে। যেন জুল ভার্নের কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস থেকে উঠে আসা! বাঁকানো তামার দেওয়াল, গোল জানলা, মৃদু আলো— মনে হবে যেন কোনও পুরনো ডুবোজাহাজে ঢুকে পড়েছেন।
১৫ / ২৪

প্যারিসের পাতালরেলের একটি স্টেশন আর এ মেতিয়ে। যেন জুল ভার্নের কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস থেকে উঠে আসা! বাঁকানো তামার দেওয়াল, গোল জানলা, মৃদু আলো— মনে হবে যেন কোনও পুরনো ডুবোজাহাজে ঢুকে পড়েছেন।

কখনও বা চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে হঠাৎ চোখে পড়বে পরিত্যক্ত স্টেশন। অন্ধকার প্ল্যাটফর্ম, পুরনো টাইলস, টিমটিমে আলোয় সে সব প্রায় চোখেই পড়ে না। ট্রেনও সেখানে থামে না। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভেসে ওঠে ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম, তার পরে মিলিয়ে যায় অন্ধকারে। এমন কোনও স্টেশনে ভুল করে নেমে পড়লে ফেরার পথ খুঁজে পাবেন তো?
১৬ / ২৪

কখনও বা চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে হঠাৎ চোখে পড়বে পরিত্যক্ত স্টেশন। অন্ধকার প্ল্যাটফর্ম, পুরনো টাইলস, টিমটিমে আলোয় সে সব প্রায় চোখেই পড়ে না। ট্রেনও সেখানে থামে না। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভেসে ওঠে ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম, তার পরে মিলিয়ে যায় অন্ধকারে। এমন কোনও স্টেশনে ভুল করে নেমে পড়লে ফেরার পথ খুঁজে পাবেন তো?

প্যারিসের কেন্দ্রে অপেরা গার্নিয়ে। উনিশ শতকের এই অপূর্ব নাট্যশালায় সোনালি অলঙ্করণ, বিরাট ঝাড়বাতি, মার্বেলের সিঁড়ি। অথচ তার অনেক নীচে রয়েছে এক জলাধার। গাস্তঁ লেরুর ‘দ্য ফ্যান্টম অফ দ্য অপেরা’-য় মুখোশধারী এরিক যে অন্ধকার ভূগর্ভস্থ হ্রদের ধারে বাস করত, তার কল্পনা আসলে এই জলাধারকে ঘিরেই।
১৭ / ২৪

প্যারিসের কেন্দ্রে অপেরা গার্নিয়ে। উনিশ শতকের এই অপূর্ব নাট্যশালায় সোনালি অলঙ্করণ, বিরাট ঝাড়বাতি, মার্বেলের সিঁড়ি। অথচ তার অনেক নীচে রয়েছে এক জলাধার। গাস্তঁ লেরুর ‘দ্য ফ্যান্টম অফ দ্য অপেরা’-য় মুখোশধারী এরিক যে অন্ধকার ভূগর্ভস্থ হ্রদের ধারে বাস করত, তার কল্পনা আসলে এই জলাধারকে ঘিরেই।

উপরে গানবাজনা, আলো আর হাততালির বন্যা। নীচে নিঃশব্দ কালো জল। নাটক শেষের পরে সবাই বাড়ি ফিরে গেলে সেই জলাধার কিন্তু অন্ধকারেই পড়ে থাকে। সেখানে সত্যিই কেউ নেই তো? এই জলাধার দেখতে হলে আগে থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়।
১৮ / ২৪

উপরে গানবাজনা, আলো আর হাততালির বন্যা। নীচে নিঃশব্দ কালো জল। নাটক শেষের পরে সবাই বাড়ি ফিরে গেলে সেই জলাধার কিন্তু অন্ধকারেই পড়ে থাকে। সেখানে সত্যিই কেউ নেই তো? এই জলাধার দেখতে হলে আগে থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়।

প্যারিসের অনেক পুরনো বাড়ি, গির্জা আর প্রাসাদ তৈরি হয়েছে শহরের নীচের  খনি থেকে তোলা চুনাপাথরে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পাথর কাটতে কাটতে তৈরি হয়েছিল বিশাল ভূগর্ভস্থ খাদান। পরিত্যক্ত খনিতে এখনও দাঁড়িয়ে পাথরের স্তম্ভ, সরু সুড়ঙ্গ, যা গিয়ে মিশেছে বড় ফাঁকা কুঠুরিতে।
১৯ / ২৪

প্যারিসের অনেক পুরনো বাড়ি, গির্জা আর প্রাসাদ তৈরি হয়েছে শহরের নীচের খনি থেকে তোলা চুনাপাথরে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পাথর কাটতে কাটতে তৈরি হয়েছিল বিশাল ভূগর্ভস্থ খাদান। পরিত্যক্ত খনিতে এখনও দাঁড়িয়ে পাথরের স্তম্ভ, সরু সুড়ঙ্গ, যা গিয়ে মিশেছে বড় ফাঁকা কুঠুরিতে।

কাপুসাঁ খনি তারই একটি উদাহরণ। শহরের দক্ষিণে একটি হাসপাতালের নীচে এই পুরনো খনি বিশেষ অনুমতিতে গাইড নিয়ে ঘুরে দেখা যায়। এত বড় শহরের নীচে এমন ফেঁপে ওঠা অন্ধকার রয়েছে, ভাবলেই কেমন অস্বস্তি হয়, তাই না?
২০ / ২৪

কাপুসাঁ খনি তারই একটি উদাহরণ। শহরের দক্ষিণে একটি হাসপাতালের নীচে এই পুরনো খনি বিশেষ অনুমতিতে গাইড নিয়ে ঘুরে দেখা যায়। এত বড় শহরের নীচে এমন ফেঁপে ওঠা অন্ধকার রয়েছে, ভাবলেই কেমন অস্বস্তি হয়, তাই না?

এ সব শুনে যদি মাটির নীচে নামার উৎসাহে ভাটা পড়ে থাকে, তাতে অসুবিধে নেই। না নেমেও এই অন্ধকার জগতের রোমাঞ্চ অনুভব করা যায়। ক্যাটাকোম্বস আর সিউয়ার মিউজিয়াম পর্যটকদের জন্য খোলা। আর এ মেতিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যায় সাধারণ মেট্রোর টিকিটেই।
২১ / ২৪

এ সব শুনে যদি মাটির নীচে নামার উৎসাহে ভাটা পড়ে থাকে, তাতে অসুবিধে নেই। না নেমেও এই অন্ধকার জগতের রোমাঞ্চ অনুভব করা যায়। ক্যাটাকোম্বস আর সিউয়ার মিউজিয়াম পর্যটকদের জন্য খোলা। আর এ মেতিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যায় সাধারণ মেট্রোর টিকিটেই।

অপেরা গার্নিয়ে পর্যটকদের জন্য খোলা থাকলেও ভূগর্ভস্থ জলাধার দেখতে হলে আলাদা অনুমতি নিতে হয়। আর্কিওলজিক্যাল ক্রিপ্ট আবার কবে খুলছে, তা আগে থেকে জেনে নিতে হবে। পুরনো খনির বিশেষ গাইডেড ট্যুর-ও আগেভাগে বুক করে নেওয়া ভাল। আর নিষিদ্ধ সুড়ঙ্গের গল্প? সেগুলো আপাতত ব্লগ-ওয়েবসাইটেই থাক। বাস্তবের অন্ধকারে পথ হারানো মোটেও রোমাঞ্চকর নয়।
২২ / ২৪

অপেরা গার্নিয়ে পর্যটকদের জন্য খোলা থাকলেও ভূগর্ভস্থ জলাধার দেখতে হলে আলাদা অনুমতি নিতে হয়। আর্কিওলজিক্যাল ক্রিপ্ট আবার কবে খুলছে, তা আগে থেকে জেনে নিতে হবে। পুরনো খনির বিশেষ গাইডেড ট্যুর-ও আগেভাগে বুক করে নেওয়া ভাল। আর নিষিদ্ধ সুড়ঙ্গের গল্প? সেগুলো আপাতত ব্লগ-ওয়েবসাইটেই থাক। বাস্তবের অন্ধকারে পথ হারানো মোটেও রোমাঞ্চকর নয়।

বেড়ানোর শেষে যখন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসবেন, আপনার চেনা প্যারিস তখন নিজের খেয়ালেই বয়ে চলেছে। ক্যাফেতে কাপ-প্লেটের শব্দ, ফুটপাতে মানুষের ভিড়, সেন নদীর জলে সন্ধের আলো। অথচ এ বার কিন্তু পায়ের নীচের মাটিটাকে একটু অন্য রকম মনে হবে।
২৩ / ২৪

বেড়ানোর শেষে যখন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসবেন, আপনার চেনা প্যারিস তখন নিজের খেয়ালেই বয়ে চলেছে। ক্যাফেতে কাপ-প্লেটের শব্দ, ফুটপাতে মানুষের ভিড়, সেন নদীর জলে সন্ধের আলো। অথচ এ বার কিন্তু পায়ের নীচের মাটিটাকে একটু অন্য রকম মনে হবে।

কয়েক মিটার নীচেই পড়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের হাড়, হারিয়ে যাওয়া রাস্তা, পরিত্যক্ত সুড়ঙ্গ আর শতাব্দীপ্রাচীন পাথরখনি। যে শহরের নীচে এত মানুষের মৃত্যু আর বিস্মৃত জীবনের চিহ্ন জমে আছে, সেখানে অন্ধকারেরও যে নিজস্ব গল্প থাকবে, তাতে আর আশ্চর্য কী?  এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
২৪ / ২৪

কয়েক মিটার নীচেই পড়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের হাড়, হারিয়ে যাওয়া রাস্তা, পরিত্যক্ত সুড়ঙ্গ আর শতাব্দীপ্রাচীন পাথরখনি। যে শহরের নীচে এত মানুষের মৃত্যু আর বিস্মৃত জীবনের চিহ্ন জমে আছে, সেখানে অন্ধকারেরও যে নিজস্ব গল্প থাকবে, তাতে আর আশ্চর্য কী? এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy