গ্যাংটক-দার্জিলিঙে খুব ভিড়! পুজোয় ঘুরে আসুন ‘ল্যান্ড রোভারের দেশ’, খরচ কিন্তু সামান্যই
চাইছেন এমন জায়গায় যেতে যেখানে ঠান্ডা অনুভব করতে পারবেন, কিন্তু দার্জিলিং গ্যাংটকে পেল্লায় ভিড়! তাহলে?
পুজোর ছুটিতে হাতে আছে বেশ কয়েকটা দিন। বুঝতে পারছেন না কোথায় যাবেন? চাইছেন ঠান্ডা? কিন্তু দার্জিলিং-গ্যাংটকে ভীষণ ভিড়। তাহলে উপায়?
ঠান্ডা অনুভব করবেন অথচ যেতে হবেনা খুব ভিড়ে, কোথায় যাবেন? যেতে পারেন ‘ল্যান্ড রোভারের দেশ’ মানেভঞ্জনে।
মানেভঞ্জন হল বাংলা এবং নেপালের সীমান্তবর্তী দার্জিলিং জেলার একটি ছোট্ট গ্রাম। গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।
শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে যে কোনও গাড়ি নিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ধরে মাটিগাড়া-কার্শিয়াং অথবা মিরিক-সুখিয়াপোখরি হয়ে মাত্র তিন-চার ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন মানেভঞ্জন।
মানেভঞ্জনকে ‘ল্যান্ড রোভারের দেশ’ বলা হয়। কারণ এখানে এখনও বহু পুরনো ল্যান্ড রোভার গাড়ি পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন:
পাঁচের দশক থেকেই ল্যান্ড রোভার মানেভঞ্জন ও আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে আসতে শুরু করে। ব্রিটিশ চা-বাগানের মালিক ও অন্যান্য ব্যবহারকারীরা দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় এগুলি ব্যবহার করতেন।
মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু যাওয়ার প্রায় ৩১ কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত খাঁড়া পাথুরে ও আঁকাবাঁকা।
পুরনো ল্যান্ড রোভারের লো-রেঞ্জ গিয়ার বক্স এই ধরনের রাস্তায় চলার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এখনও বেশ কিছু ১৯৫০–৬০-এর দশকের সিরিজের ল্যান্ড রোভার যাত্রী ও মালপত্র পরিবহণে ব্যবহৃত হয়।
তবে এই গ্রামটির বিশেষত্ব হল এই গ্রামে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে আপনার এক পা থাকবে ভারতে আরেক পা থাকবে নেপালে।
আরও পড়ুন:
নেপালি আদব-কায়দা, নেপালি খাবার এবং নেপালি সংস্কৃতির স্বাদ পশ্চিমবাংলায় বসে পেতে চাইলে আপনার ঠিকানা হতে পারে এই গ্রামটি।
মানেভঞ্জন থেকে অনেকেই টুমলিং, টংলু, সান্দাকফু যান পায়ে হেঁটে কিংবা গাড়িতে। কিন্তু এইবার এই পরিচিত ঠিকানা বাদ দিয়ে যেতে পারেন অন্য কোথাও।
যেতে পারেন - মেঘমা, ধোতরে এবং চিত্রেতে। এই জায়গাগুলির নাম অনেকে জানলেও থাকার উপযোগী বলে মনে করেন না ঠাণ্ডা এবং দুর্গম রাস্তার কারণে।
এই গ্রামগুলিতে অনায়াসে এক - দু 'দিন কাটাতেই পারেন। পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক উন্নত এবং এই জায়গাগুলি আগের থেকে অনেকটাই বসবাসযোগ্য। গ্রামগুলির নির্জনতা আপনার ক্লান্তি ভোলাবেই।
মেঘমা নাম হওয়ার কারণ এই গ্রামটি বছরের বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢেকে থাকে। অনেকে আবার মেঘমাকে মেঘেদের দেশও বলে।
ধোতরে আর চিত্রেতে থাকলে আপনি দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য। ভাগ্য সহায় হলে দেখা পেতে পারেন লাল পান্ডারও।
এইবারের পুজোয় দার্জিলিং,গ্যাংটক কে ভুলে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করতে চাইলে যেতেই পারেন মানেভঞ্জন। এই প্রতিবেদনটি “আনন্দ উৎসব” ফিচারের একটি অংশ