দেশ জুড়ে ভূতের আস্তানা, ভূত দেখতে কোথায় যাবেন এই দীপাবলিতে
ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু দুর্গ, প্রাসাদ, গ্রাম এবং পরিত্যক্ত বাড়ি, যেগুলিকে ঘিরে রয়েছে একাধিক ভৌতিক কাহিনি, লোকবিশ্বাস এবং রহস্য। কোথাও শোনা যায় অদ্ভুত আওয়াজ, কোথাও আবার প্রচলিত রয়েছে অভিশাপের গল্প। যদিও ঘটনাগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু রহস্যরোমাঞ্চপ্রেমী পর্যটকদের কাছে এগুলি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
ভারতের নানা জায়গায় বেশ কিছু জায়গা ঘিরে রয়েছে ভূতুড়ে তকমা। কিন্তু আদৌ কি সেখানে ভূত আছে? কী ছিল আসল ঘটনা, যার জেরে তৈরি হয়েছে ভৌতিক গল্প বা লোকবিশ্বাস? জানেন কি সে সব ঠিকানার হদিশ?
লাম্বি দেহর খনি, উত্তরাখণ্ড মুসৌরির কাছে রয়েছে এই পরিত্যক্ত চুনাপাথরের খনি। শ্রমিকদের প্রাণপাত করা পরিশ্রম এবং ততটাই কঠিন কাজের পরিবেশের পাশাপাশি পরিবেশগত সমস্যাও এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।
১৯৯০ সাল নাগাদ এই খনি বন্ধ করা হয় শ্রমিকদের সমস্যার জেরে। শোনা যায়, বহু শ্রমিকের প্রাণ গিয়েছে খনির অভ্যন্তরে। স্থানীয়রা বলেন, রাতে খনির ভিতর থেকে আজও ভেসে আসে কান্নার আওয়াজ, কাশির শব্দ ও আর্তনাদ।
চিতোরগড় দুর্গ, রাজস্থান: রাজপুতদের ইতিহাসের বহু সংঘর্ষ ও আত্মত্যাগের স্মৃতি শরীরে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই প্রাসাদ।
এই কেল্লায় রানি পদ্মিনী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শত শত নারীর সম্মান রক্ষার্থে আত্মবলিদানের ঘটনা আজও ইতিহাসের পাতায় কালো দাগ হিসেবে থেকে গিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, আজও প্রাসাদের ভগ্নাবশেষে কখনও কখনও কান্না বা অদ্ভুত কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
আরও পড়ুন:
জিপি ব্লক, উত্তরপ্রদেশ: কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়িকে কেন্দ্র করেই এই পাড়ার কুখ্যাতি। লোকমুখে প্রচলিত আছে, রাতের অন্ধকারে তারই একটি বাড়ির ঘরে মোমবাতির আলোয় চার জন পুরুষকে বসে থাকতে দেখা যায় মাঝে মাঝে। আবার কখনও লাল পোশাকে নারীর অবয়ব চোখে পড়ে।
এই গল্পগুলির সত্যতা প্রমাণে অবশ্য নির্ভরযোগ্য কোনও প্রমাণ নেই। তবে বাড়িগুলির বেশিরভাগ অংশেই ভগ্নপ্রায় দশা। ফলে প্রবেশ করাও বিপজ্জনক। তাই ভূত খুঁজতে অদম্য উৎসাহে ভাঙা অংশগুলোয় ঢুকে না পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
গোলকোন্ডা দুর্গ, হায়দরাবাদ, তেলেঙ্গানা: কুতুবশাহী শাসনকালের এই ঐতিহাসিক দুর্গকে ঘিরে রয়েছে তারামতি নামে এক গায়িকা এবং নর্তকীর গল্প। প্রচলিত লোককথায়, তাঁর আত্মা নাকি এখনও দুর্গের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। রাতের নিস্তব্ধতায় নূপুরের শব্দ ও নারীকণ্ঠ শোনা যায় বলে দাবি করেন দুর্গের আশেপাশে বসবাসকারীরা।
ভূত আছে কী নেই, এ নিয়ে তর্ক আজীবন চলতে থাকবে। পুরোটাই আসলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের খেলা। ওই যে কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু...
আরও পড়ুন:
তবু সত্যি-মিথ্যের তোয়াক্কা না করে যাঁরা স্রেফ গা ছমছমে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে চান, দীপাবলির ছুটিতে বেরিয়ে আসতেই পারেন এই জায়গাগুলোয়। এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।