E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দেশের দুয়ারে সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি থেকে আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে সর্বত্র

প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরে সরকার কিছু নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলে ভাবা হচ্ছিল। সেই অনুমান মিলিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য দামি ধাতুর আমদানি শুল্ক এবং সেস ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৭:৩০

— প্রতীকী চিত্র।

ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ লম্বা মেয়াদে চললে ভারতের অর্থনীতি যে চাপে পড়বে, তা জানাই ছিল। তবে প্রথম দু’মাসে শুধু গ্যাসের দাম বেড়েছিল। এ বার ধাক্কা লাগতে চলেছে অনেক ক্ষেত্রে। এই ব্যাপারে দেশবাসীকে সাবধান করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সকলকে জ্বালানি এবং ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমাতে বলেছেন। এক বছর সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরেই আতঙ্ক ছড়ায়। গত সোম এবং মঙ্গলবার ধস নামে শেয়ার বাজারে। দু’দিনে সেনসেক্স হারায় ২৭৬৯। লগ্নিকারীদের খাতা থেকে মুছে যায় বিরাট অঙ্কের পুঁজি। টাকাকে আরও তলানিতে নামিয়ে ডলারের দাম হয় লাগামছাড়া। আতঙ্কে রাশ টানতে পেট্রলিয়াম মন্ত্রী বলেন, ‘‘এত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের ভান্ডারে যথেষ্ট তেল-গ্যাস মজুত আছে।’’ তেল সংস্থাগুলি অবশ্য দৈনিক ১০০০ কোটি টাকা লোকসানের কথা জানিয়েছে। শেষে লিটার প্রতি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়িয়েছে গড়ে ৩ টাকা করে। বাড়ে সিএনজি, অটো এলপিজি।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরে সরকার কিছু নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলে ভাবা হচ্ছিল। সেই অনুমান মিলিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য দামি ধাতুর আমদানি শুল্ক এবং সেস ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়। এতে আমদানি কমার আশঙ্কায় বুধবার বাজারে সোনা-রুপো কেনার ধুম পড়ে। লাফিয়ে বাড়ে দাম। তার পরেই বাড়ে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম। এর আঘাত পৌঁছবে গৃহস্থের ঘরে। ফলে প্রমাদ গুনছেন দেশবাসী।

এক এক করে যা ঘটছে এবং ঘটতে চলেছে, তার পরোক্ষ প্রভাবও উদ্বেগজনক। মানুষ সোনা না কিনলে এই শিল্পের কর্মসংস্থান কমবে। দেশে প্রায় ৩ লক্ষ ছোট-বড় গয়নার দোকানে এবং কারখানায় কাজ করেন প্রায় ৮০ লক্ষ কর্মী। অনেকেই আতঙ্কে। বিমান জ্বালানির দাম বাড়ায় উড়ান সংস্থাগুলি কিছু রুটে বিমান কমিয়ে অথবা বসিয়ে দিচ্ছে। এতে মার খাবে পর্যটন শিল্প। গ্যাসের দাম বাড়ায় এমনিতেই চাপে হোটেল-রেস্তরাঁগুলি। ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমাতে হলে সমস্যা আরও বাড়বে। পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়াবে বহু পণ্যের। খুচরো বাজারে আশঙ্কার তুলনায় কম মূল্যবৃদ্ধি (৩.৪৮%) হয়েছে এপ্রিলে। তবে ৮.৩ শতাংশে পৌঁছেছে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি। ৪২ মাসে সর্বোচ্চ। এর ধাক্কাও লাগবে খুচরো দামে। দৈনন্দিন জিনিসে লাগবে পেট্রল-ডিজ়েলের দামের ছেঁকা। জুনে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ বাড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল বহু দিন ধরে ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় ভারতের জাতীয় আয়ও কমতে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে অর্থনীতি বিপাকে। পুঁজি তুলে নিচ্ছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। এশিয়ার বড় শেয়ার বাজারগুলির মধ্যে ভারত এখন একদম তলানিতে। কিছু গয়না, উড়ান সংস্থার শেয়ার দর পড়েছে। পড়েছে বহু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থারও। কারণ, কৃত্রিম মেধা একাংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সপ্তাহের প্রথম দু’দিনে বড় পতনের পরে কিছুটা প্রতিরোধ দেখা যায় পরের দু’দিন। তবে সব মিলিয়ে বাজার অনিশ্চিত। গত জানুয়ারি-মার্চে সংস্থাগুলির আর্থিক ফল এখনও পর্যন্ত তেমন মন্দ হয়নি। তবে আশঙ্কা, হিসাবের খাতায় যুদ্ধের প্রভাব দেখা যাবে এপ্রিল-জুনের ফলে।

(মতামত ব্যক্তিগত)

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Indian Economy Inflation Price Hike

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy