বিনা অনুমোদনে মার্কিন সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে চিনা স্টকে লগ্নি। সেই স্টকের দর পড়তেই বিপুল ক্ষতির মুখে বিনিয়োগকারীরা। প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই শেয়ার কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে বেঙ্গালুরুর একটি ফিনটেক সংস্থার। প্রায় ৩০ জন খুচরো বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, তাঁদের স্টক ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত ভাবে প্রবেশ করে মার্কিন শেয়ারবাজারে থাকা শেয়ারগুলি বিক্রি করে দেওয়া হয়। এর পর, সেই অর্থ ব্যবহার করে তুলনামূলক ভাবে কম লেনদেন হওয়া কিছু শেয়ার কেনা হয়।
মানি কন্ট্রোলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ঢুকে বিপুল পরিমাণে মার্কিন ব্লু-চিপ সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একজন, একটি নামজাদা পানীয় সংস্থার কর্তা। তিনি মানি কন্ট্রোলকে জানিয়েছেন, অ্যাপ্ল, টেসলা, অ্যামাজ়ন, অ্যালফাবেট, এনভিডিয়া এবং এএমডি-সহ ১০টি প্রধান মার্কিন স্টক তাঁর অনুমোদন ছাড়াই মোট ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৬৮ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
শেয়ার বিক্রি করে পাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে ঝিবাও টেকনোলজি ইনকর্পোরেটেড নামের একটি চিনা সংস্থার ৩ লক্ষ শেয়ার কেনার জন্য একটিমাত্র অর্ডার দেওয়া হয়। প্রতিটি শেয়ার গড়ে ১.০৫ মার্কিন ডলার দরে কেনা হয়েছিল। কিন্তু, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্থাটির শেয়ারের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। ২৩ অক্টোবর নাগাদ প্রতি শেয়ারের দাম নেমে দাঁড়ায় মাত্র ০.৪২ মার্কিন ডলারে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আর্থিক লোকসানের বোঝা বিপুল হয়ে দাঁড়ায়।
স্টকাল সিকিউরিটিজ নামের ওই ভারতীয় ফিনটেক প্ল্যাটফর্মটির সেবি-র অনুমোদনও রয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভারতের খুচরো বিনিয়োগকারীরা মার্কিন শেয়ার, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড এবং অন্যান্য বিদেশি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ও লেনদেন করতে পারেন। অ্যাকাউন্টে টাকা জমা, শেয়ার কেনাবেচা এবং বিনিয়োগের পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থাটি একটি অ্যাপ পরিচালনা করে। পাশাপাশি, মার্কিন বাজারে বা ন্যাসডাকে লেনদেন সম্পন্ন করা এবং বিনিয়োগকারীদের সম্পদ দেখভালের জন্য ‘ড্রাইভওয়েলথ এলএলসি’-এর মতো মার্কিন ব্রোকারেজ় সংস্থার সঙ্গে অংশীদারি রয়েছে এই ভারতীয় সংস্থাটির।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর দাবি, উল্লেখিত প্রতারণামূলক লেনদেনের জেরে তিনি প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.২৬ কোটি টাকা হারিয়েছেন। ঘটনায় হস্তক্ষেপ এবং প্রতিকার চেয়ে তিনি ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, মার্কিন সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। মানি কন্ট্রোল জানিয়েছে, এই বিষয়ে সেবি, ড্রাইভওয়েলথ এবং এইচডিএফসি সিকিউরিটিজ়ের কাছে পাঠানো ইমেলের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে, অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।