E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কঠিন সময়ের ইঙ্গিত দিয়ে চড়া সুদের জমানায় ঢুকল দেশ

সুদ বাড়লে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিল্প ও শেয়ার বাজারে। এতে সংস্থাগুলির পুঁজি জোগাড়ের খরচ বাড়বে। বাড়ি-গাড়ি ঋণে কিস্তি বাড়লে, তার চাহিদা কমবে।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

যেমন ভাবা হয়েছিল, তেমনই হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি চড়ায় বুধবার ঋণনীতিতে রেপো রেট (যে সুদে ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয় আরবিআই) ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫% করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারির পরে এই প্রথম। ফলে ঋণে সুদ বাড়বে, চড়বে মাসিক কিস্তি (ইএমআই)। খরচ বাড়বে ঋণগ্রহীতার। ঋণনীতিতে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫% থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২%। জিডিপি-র ৬.৭% থেকে ৭.১%। শীর্ষ ব্যাঙ্কের ইঙ্গিত, দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে সুদ আরও বাড়তে পারে। আশঙ্কা, এ বছর তা হতে পারে মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট। পরের ঋণনীতি বৈঠক ডিসেম্বরে।

সুদ বাড়লে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিল্প ও শেয়ার বাজারে। এতে সংস্থাগুলির পুঁজি জোগাড়ের খরচ বাড়বে। বাড়ি-গাড়ি ঋণে কিস্তি বাড়লে, তার চাহিদা কমবে। ঋণপত্রের (বন্ড) দাম কমে ইল্ড বাড়বে। এখনই তা হয়েছে ৭.২৯%। ফলে বাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণের খরচ বাড়বে কেন্দ্রের।

রেপো বাড়লে জমায় সুদ বাড়ে। কোনও ব্যাঙ্ক এখনও সে ভাবে এই পথে হাঁটেনি। তবে কিছু এনবিএফসি বাড়িয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি একই সিদ্ধান্ত নেয় হাঁটে কি না, সেটাই দেখার।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ বছর দেশে বৃষ্টিতে ঘাটতি ১৩%। রয়েছে সারের অভাব। বহু দিন ধরে অশোধিত তেল ১০০ ডলারের বেশি। ডলার প্রায় ৯৭ টাকা। ফলে মূল্যবৃদ্ধি আরও চড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অগস্টে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৪.৮২%। সেপ্টেম্বরের হার জানা যাবে আজ, সোমবার।

সূচক আট সপ্তাহ ধরে পড়ছে। দ্রুত বৃদ্ধির ইঙ্গিত নেই। নামবে কি না, বলা যাচ্ছে না। ফলে ম্লান ফান্ডের জগৎ। এই বাজারে কিছু শেয়ার কম দামে মিলছে। জুলাই-অগস্টের কোম্পানি ফল দেখে বড় মেয়াদের জন্য ভাল শেয়ার কেনা যায়। ২১ অক্টোবর বাজারে ইসু আনতে (আইপিও) প্রস্তুত হচ্ছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের জিয়ো প্ল্যাটফর্মস। সূত্রের খবর, শেয়ারপিছু দাম ১০৬৫-১১১৯ টাকা। ইসু-র অঙ্ক ছাড়াতে পারে ৩০,০০০ কোটি টাকা। যা হবে ভারতের বৃহত্তম আইপিও।

ডিসেম্বর থেকে সম্ভবত ডি-ম্যাট অ্যাকাউন্টের সম্মিলিত স্টেটমেন্টে স্থায়ী আমানতের হিসাবও দেখা যাবে। এখন এতে ফান্ড ইউনিট ও বন্ড রাখা যায়। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এক জায়গায় সব লগ্নি দেখা গেলে হারানো বা ভোলার ঝুঁকি কমবে।

(মতামত ব্যক্তিগত)

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Economy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy