যুদ্ধের প্রত্যাবর্তন। ফের বন্ধ হরমুজ় প্রণালী। ফলে গত সপ্তাহে আবার ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পার করে অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুড। ৯৭ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায় ডলার। আর এই প্রতিকূল পরিস্থিতি নতুন করে ডেকে আনে শেয়ার বাজারের পতন। গত সপ্তাহে টানা পাঁচ দিনে সেনসেক্স নেমেছে প্রায় ২১০০ পয়েন্ট। দাঁড়িয়েছে ৭৬,০৬০ অঙ্কে। নিফ্টি পড়েছে ৫৬৭। বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি ফের শেয়ার কিনতে শুরু করলেও, নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পরে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ শুরুর সময়ে সেনসেক্স ছিল ৮০ হাজারের ঘরে। সর্বকালীন উচ্চতা ৮৫,৮৩৬ (২০২৪-এর ২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে সূচকটি এখন ১১.৩৯% নীচে। মাঝেমধ্যে উঠলেও গত ২২ মাসে সর্বকালী উচ্চতা পেরোতে পারেনি। যে কারণে উঁচু বাজারেলগ্নিকারীরা চিন্তায়। সবাই অপেক্ষা করছেন যুদ্ধ শেষ হয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরার।
ইরান-আমেরিকার মধ্যে গত ১৭ জুন অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি হওয়ার আগে সেনসেক্স ৭৩ হাজারের ঘরে তলিয়ে গিয়েছিল। চুক্তির পরে হরমুজ় খোলায় উঠে আসে ৭৮ হাজারের উপরে। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল নামে আগের জায়গা ৭০-৭১ ডলারে। অর্থনীতি যখন ক্রমশ শক্তি ফিরে পাচ্ছে, তখনই ফের সংঘাত শুরু হয় ইরান-আমেরিকার। সব ক্ষেত্রই আবার উদ্বেগজনক চেহারায় ফিরতে থাকে। গত মাসে খুচরো এবং পাইকারি, দুই বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির হার মাথা তুলেছে। যুদ্ধ বন্ধ হওয়া ছাড়া বাজারকে চাঙ্গা করবে, এমন শক্তি আশু দেখা যাচ্ছে না। ফলে হতাশ শেয়ার এবং ফান্ডের লগ্নিকারীরা।
তবে যুদ্ধের আবহেও গত এপ্রিল-জুনে দেশের বেশির ভাগ সংস্থার আর্থিক ফল (এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত) মোটের উপর ভাল হয়েছে। তবু অনেকের শেয়ার দরের পতন আটকানো যায়নি। নজিরবিহীন ১৯,০৫৯ কোটি টাকা মুনাফা ঘোষণার পরেও এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার পড়েছে। এমনটা হয়েছে বন্ধন ব্যাঙ্ক-সহ আরও অনেকের ক্ষেত্রে। এসবিআই ফান্ড ম্যানেজমেন্ট বাজারে প্রথম শেয়ার ছেড়ে (আইপিও) ভাল সাড়া পেলেও, তার বাজারদর এক সময়ে ইসুর দামের (যে দামে প্রথম শেয়ার ছাড়া হয়) নীচে চলে গিয়েছিল। তবে এই দুর্বল বাজার ফলাফলের নিরিখে ভাল শেয়ার তুলে রাখার সুযোগ দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে ভাল ফল করেছে আলট্রাটেক সিমেন্ট, ইন্ডিয়ান হোটেলস, জেএসডব্লিউ ইনফ্রা, ইউকো ব্যাঙ্ক, নেসলে, ইটার্নাল, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অব বারোদা, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক, সেল, টাটা কনজিউমার, এনটিপিসি-র মতো সংস্থা। খারাপ ফলের তালিকায় আছে রাষ্ট্রয়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল। ক্ষতির অঙ্ক যথাক্রমে ৩৯৬২ এবং ১২,২৬৫ কোটি টাকা। ইন্ডিয়ান অয়েলের ফল বেরোবে ৩১ জুলাই। ১৫ অগস্টের আগেই ফল প্রকাশ সম্পূর্ণ হবে। চলছে গত (২০২৫-২৬) অর্থবর্ষের বার্ষিক সাধারণ সভা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড বণ্টনও। ২৯ জুলাই বাজারে শেয়ারছাড়বে মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজ়েস। যার প্রস্তাবিত আকার ৯২৭৫ কোটি টাকা। শেয়ার পিছু দাম ৫৬০-৫৯০ টাকা।
(মতামত ব্যক্তিগত)