প্রয়াত হলেন ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
সুমিত সরকারের জন্ম ১৯৩৯ সালে। বাবা সুশোভনচন্দ্র সরকার ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ। সুমিতবাবুর বেড়ে ওঠা ইতিহাসচর্চার পরিমণ্ডলেই। প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী সুমিতবাবু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপনা। এ ছাড়াও পড়িয়েছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সুমিত সরকারের নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িত বাংলায় স্বদেশি আন্দোলনের ইতিহাসচর্চার সঙ্গে। তাঁর ‘দ্য স্বদেশি মুভমেন্ট ইন বেঙ্গল: ১৯০৩-১৯০৮’ গ্রন্থটিকে এই সংক্রান্ত ইতিহাসের আকরগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করে চর্চাজগৎ। এর বাইরে ‘রাইটিং সোশ্যাল হিস্ট্রি’ এবং ‘মডার্ন ইন্ডিয়া’ ইতিহাস পড়ুয়া এবং আগ্রহীদের কাছে বিশেষ ভাবে আদৃত। সুমিতবাবুর ইতিহাসচর্চার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বামপন্থী। সে অর্থে তথ্যানুসন্ধান এবং তাকে লিখনের প্রক্রিয়ায় মার্কসীয় ঘরানার ছাপ দৃশ্যমান থাকলেও পরবর্তী কালে সাবঅলটার্ন স্টাডিজ় বা নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার প্রাথমিক পর্বের প্রবক্তা হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু পরে নিজেই হয়ে ওঠেন এই বিদ্যাচর্চার সমালোচক। তাঁর ‘দ্য ডিক্লাইন অফ দ্য সাবঅলটার্ন ইন সাবঅলটার্ন স্টাডিজ়’ হয়ে দাঁড়ায় সাম্প্রতিক ইতিহাসচর্চার এক দিশারি প্রবন্ধ। এর বাইরে ভারতে দক্ষিণপন্থী চরমবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন প্রায় সারাজীবন। লিখেছেন সমাজ-ইতিহাস ও নারী ইতিহাসের বিষয়েও।
২০০৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর ‘রাইটিং সোশ্যাল হিস্ট্রি’ গ্রন্থটিকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে। কিন্তু পরে ২০০৭ সালে তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকারের তরফে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের প্রেক্ষিতে তিনি সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। এই আপসহীন মনোভাব তিনি আজীবন লালন করেছেন দক্ষিণপন্থী চরমবাদের বিরুদ্ধেও।
উল্লেখ্য, তাঁর স্ত্রী তনিকা সরকারও একজন প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ।