কেউ স্কুল ছেড়ে শ্রমিক হয়েছেন, কেউ কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন! শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক কোন তারকারা?
কেউ বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন, কেউ রেস্তরাঁর ওয়েটারের কাজ করেছেন, কেউ রাস্তার ধারে রাত কাটিয়েছেন, আবার কেউ দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে অর্থকষ্টে ভুগেছেন। একসময় ছিল না কানাকড়িও। কিন্তু আজ তাঁরাই কী ভাবে হলেন কোটি টাকার মালিক?
আজ তাঁদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুল জনপ্রিয়তা। দামি বাড়ি, বিলাসবহুল জীবন এবং কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। কিন্তু প্রত্যেকের পথ যে মসৃণ ছিল, তা নয়। কেউ বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন, কেউ রেস্তরাঁর ওয়েটারের কাজ করেছেন, কেউ রাস্তার ধারে রাত কাটিয়েছেন, আবার কেউ দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে অর্থকষ্টে ভুগেছেন। অভিনয়ের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন তাঁরা। সেই সংগ্রাম পেরিয়ে কী ভাবে তাঁরা দেশের অন্যতম সফল ও বিত্তশালী তারকা হয়ে উঠলেন, দেখে নেওয়া যাক।
শাহরুখ খান: দিল্লির মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন শাহরুখ খান। অভিনয়ে আসার আগে মঞ্চে অভিনয় করতেন তিনি। দিল্লির থিয়েটার থেকে ছোটপর্দায়, সেখান থেকে মুম্বইয়ের ছবির দুনিয়ায় তাঁর সফর। প্রথম দিকে বড়পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। কিন্তু একের পর এক সফল ছবি তাঁকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা করে তোলে। শুধু অভিনয় নয়, প্রযোজনা সংস্থা এবং ক্রিকেট দল তৈরির ব্যবসাতেও যুক্ত হন তিনি। সেই সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১২ হাজার কোটির আশপাশে।
অমিতাভ বচ্চন: অমিতাভ বচ্চনের জীবনেও এসেছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা। কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও অভিনয়ের শুরুতে তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা পাননি। লম্বা চেহারা এবং ভারী কণ্ঠস্বরের কারণে প্রথম দিকে তাঁকে নিয়ে সংশয় ছিল। পরে একের পর এক ছবিতে নিজের অভিনয় ক্ষমতা প্রমাণ করে হয়ে ওঠেন সফল অভিনেতা। জীবনের পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক উদ্যোগে বিপুল ঋণের বোঝা চাপে তাঁর কাঁধে। একসময় প্রায় ৯০ কোটি টাকার দেনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন তিনি। অভিনয়ে ফিরে এসে, বিজ্ঞাপন এবং নানা কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠেন। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে জানা যায়।
রজনীকান্ত: আজ যাঁকে দক্ষিণী ছবির অন্যতম বড় তারকা বলা হয়, তাঁর শুরুটা হয়েছিল একেবারেই সাধারণ ভাবে। ছোটবেলায় মাকে হারানোর পরে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে কখনও কুলি, কখনও কাঠমিস্ত্রি, পরে বেঙ্গালুরুর বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সেই সময়ে তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র কয়েকশো টাকা। বাসে যাত্রীদের অভিনয় করে দেখাতেন রজনীকান্ত। পরে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তাঁকে চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। পরিচালক কে বালচন্দ্র তাঁর প্রতিভা চিনে সুযোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় এমন এক যাত্রা, যা তাঁকে ভারতীয় ছবির ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং বিপুল পারিশ্রমিক পাওয়া তারকায় পরিণত করেছে।
অক্ষয় কুমার: আজ আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পান অভিনেতা অক্ষয় কুমার। তাঁর জীবনও শুরু হয়েছিল যথেষ্ট সাধারণ ভাবেই। অভিনয়ে আসার আগে জীবিকার জন্য তাঁকে নানা কাজ করতে হয়েছে। তাইল্যান্ডে গিয়ে রেস্তরাঁয় ওয়েটারের কাজ করেছেন, রান্না করেছেন, মার্শাল আর্ট শিখিয়েছেন। কলকাতায় ভ্রমণসংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি ঢাকার একটি হোটেলেও রান্নার কাজ করেছিলেন। দিল্লিতে গয়নার কাজও করেছেন। পরে মার্শাল আর্ট শেখাতে গিয়ে এক ছাত্রের পরিবারের মাধ্যমে মডেলিংয়ের সুযোগ পান। সেই সুযোগই তাঁকে ছবির দুনিয়ায় নিয়ে আসে। নব্বইয়ের দশকে ‘খিলাড়ি’ ছবির সাফল্যের পর বদলে যায় তাঁর জীবন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও ব্যবসা থেকেও বিপুল আয় করেছেন তিনি। আজ তিনি প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বলে শোনা যায়।
আরও পড়ুন:
নওয়াজ়উদ্দীন সিদ্দীকী: উত্তরপ্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা নওয়াজ়উদ্দীনের বলিউডে পৌঁছোনোর পথ ছিল দীর্ঘ। বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে গুজরাতে রাসায়নিক কারখানায় কাজ করেছিলেন তিনি। একটি নাটক দেখার পরে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। মুম্বইয়ে এসে দীর্ঘ সময় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এমন সময়ও গিয়েছে যখন কাজের অভাবে আর্থিক সমস্যায় দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। বড় ছবিতে কয়েক মিনিটের চরিত্র করেও তিনি থামেননি। ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয়ের স্বাতন্ত্র্য নজর কাড়ে। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটির আশপাশে।
মনোজ বাজপেয়ী: বিহারের একটি কৃষক পরিবারে জন্ম মনোজ বাজপেয়ীর। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। মাত্র সতেরো বছর বয়সে দিল্লিতে গিয়ে নাটকে কাজ শুরু করেন। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করে পর পর তিন বার প্রত্যাখ্যাত হন। সেই সময়ে মানসিক এবং আর্থিক ভাবে ভীষণ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। পরে মুম্বইয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন কাজের অপেক্ষায় ছিলেন। কখনও খাওয়ার মতো টাকাও থাকত না। সামান্য যাতায়াতের টাকায় দিন কাটিয়েছেন। শেষপর্যন্ত ‘সত্য’, ‘শূল’, ‘সত্যাগ্রহ’-র মতো কাজ তাঁকে প্রতিষ্ঠা দেয়। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও কাজ করেছেন তিনি। আজ তিনি ১৭০ কোটি টাকার মালিক বলে জানা যায়।
বোমান ইরানী: তাঁর অভিনয়জীবন শুরুই হয়েছিল বেশি বয়সে। তার আগে তিনি নানা ধরনের কাজ করেছেন। ওয়েটার হিসাবে কাজ করার পরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনে আলোকচিত্রী হিসাবে কাজ শুরু করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা ধরনেরে ছবি তোলার কাজ করতেন তিনি। মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে তাঁর প্রতিভা নজরে আসে। প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন। ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবির পরে তাঁর পরিচিতি দ্রুত বাড়ে। ‘থ্রি ইডিয়ট্স’, ‘হানিমুন ট্রাভেল্স’ এবং আরও বহু ছবিতে অভিনয় করে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালিখি, প্রযোজনা ও পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। শোনা যায়, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও ১০০ কোটির আশপাশে।
জনি লিভার: ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা জনি লিভারের ছোটবেলা ছিল অর্থকষ্টে ভরা। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে মাত্র সপ্তম শ্রেণির পরে পড়াশোনা ছেড়ে কাজ শুরু করতে হয়েছিল তাঁকে। মাত্র বারো বছর বয়সে উপার্জনের পথে নামেন। দীর্ঘদিন কারখানায় শ্রমিক হিসাবেও কাজ করেছেন। প্রতিবেশীর অভিনয় দেখে অনুকরণ করার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। পরে ছোট ছোট অনুষ্ঠানে নকল করে দর্শকদের মন জয় করতে শুরু করেন। সেখান থেকে সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে বিদেশে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পান। ছবিতে প্রথম কাজ পেলেও বড় সুযোগ পেতে বহু বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অবশেষে ‘বাজ়িগর’-এর সাফল্য তাঁর জীবন বদলে দেয়। এর পর তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন ভাষায় কাজ করেছেন তিনি। ২৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি রয়েছে বলে শোনা যায়।
আরও পড়ুন:
মিঠুন চক্রবর্তী: শুরুর জীবন ছিল অসম্ভব কঠিন। অভিনয়ে সুযোগ পাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন তাঁর মাথার উপরে স্থায়ী ছাদ ছিল না। কখনও গাড়িতে, কখনও ফুটপাথে রাত কাটিয়েছেন। খাবারের জন্য পার্টিতে নাচ করেছেন। এমনকি, একটি শারীরচর্চা কেন্দ্র পরিষ্কার করার কাজও করেছিলেন, যাতে সেখানে স্নান করার সুযোগ পাওয়া যায়। ১৯৭৬ সালে ‘মৃগয়া’ ছবির মাধ্যমে জাতীয় পুরস্কার পেলেও সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসেনি। পরে ‘ডিস্কো ডান্সার’-এর সাফল্য তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে। অভিনয়ের পাশাপাশি হোটেল ব্যবসাতেও সফল হন তিনি।
জ্যাকি শ্রফ: মুম্বইয়ের একটি বস্তিতে বড় হওয়া জ্যাকি শ্রফের জীবনে অর্থকষ্ট ছিল নিত্যসঙ্গী। পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে পড়াশোনা শেষ করার আগেই কাজের সন্ধানে নামতে হয়েছিল তাঁকে। রান্নার কাজের আশায় তাজ হোটেলেও গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে চাকরি পাননি। একদিন বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার সময়ে এক ব্যক্তি তাঁর চেহারা দেখে মডেলিংয়ের প্রস্তাব দেন। জ্যাকি তখন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, সেই কাজের জন্য টাকা দেওয়া হবে কি না। সেখান থেকেই শুরু মডেলিং। পরে তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নানা ব্যবসায়িক কাজেও যুক্ত হয়েছেন জ্যাকি। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা সম্পত্তির অধিকারী।
কঙ্গনা রনৌত: হিমাচল প্রদেশের একটি সাধারণ পরিবার থেকে মুম্বইয়ে এসে অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করা কঙ্গনা রানৌতের পথও সহজ ছিল না। পরিবারের সঙ্গে মতের অমিলের পরে অল্প বয়সেই নিজের সিদ্ধান্তে বাড়ি ছেড়ে দিল্লিতে চলে আসেন। সেখানে মডেলিং এবং অভিনয়ের প্রস্তুতি নেন। পরে মুম্বইয়ে এসে দীর্ঘ সময় অডিশন দিয়েছেন এবং ছোট ছোট কাজের সুযোগ খুঁজেছেন। ‘গ্যাংস্টার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের পরে তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে। ‘ফ্যাশন’, ‘কুইন’, ‘তনু ওয়েড্স মনু’-র মতো ছবির সাফল্য তাঁকে প্রথম সারির অভিনেত্রী করে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও পরিচালনার কাজেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। নিজের উপার্জনের অর্থে সম্পত্তি কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমেও সম্পদ গড়েছেন কঙ্গনা।
অনিল কপূর: অনিল কপূর চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। তাঁর বাবা সুরিন্দর কপূর নিজেও চলচ্চিত্রজগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন। অনিল বাবার সেই সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। অভিনয়ের শুরুতে নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ করেছেন তিনি। প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি ছবি সাফল্য পায়নি। তবু নায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি। পরে ‘মেরি জং’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র মতো ছবির মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করেন। শুধু হিন্দি ছবি নয়, আন্তর্জাতিক কাজেও অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রযোজনা এবং অন্যান্য বিনিয়োগের মাধ্যমেও সম্পদ তৈরি করেছেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর জনপ্রিয়তা বজায় রয়েছে। এখন তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক।
অরশদ ওয়ারসী: অভিনেতার শৈশব ছিল বেশ কঠিন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবা-মাকে হারানোর পর তাঁকে নিজের জীবন নিজেকেই সামলাতে হয়েছিল। আর্থিক পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা ছেড়ে উপার্জনের পথে নামেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সে বাড়ি বাড়ি প্রসাধনী বিক্রি করার কাজ করেছেন। নাচের প্রতি আগ্রহ থেকেই পরে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং নিজের নাচের দলও তৈরি করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এলেও বড় সাফল্য পেতে সময় লাগে। ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবিতে ‘সার্কিট’ চরিত্র তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা দেয়। এখন তিনি ৩৪০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।
পঙ্কজ ত্রিপাঠী: বিহারের ছোট গ্রাম থেকে মুম্বইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠার সফর পঙ্কজ ত্রিপাঠীর। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসাবে ছোটবেলা থেকেই মাঠে কাজ করেছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে কৃষিকাজে হাত লাগাতেন। মুম্বইয়ে এসে দীর্ঘ সময় ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে নিজের পরিচিতি তৈরি করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে। ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ এবং পরে ‘মির্জ়াপুর’-এর মতো কাজ তাঁকে পরিচিত করে। আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে পঙ্কজ ৪০ কোটি টাকার অধিকারী।
আয়ুষ্মান খুরানা: অভিনেতা হওয়ার আগে আয়ুষ্মান খুরানার পরিচয় ছিল বেতার সঞ্চালক। কলেজে পড়ার সময় থেকেই নাটক এবং বক্তৃতায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। মুম্বইয়ে এসে প্রথমে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজলেও সরাসরি বড়পর্দায় জায়গা পাননি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। পরে বেতারে কাজের সুযোগ পান। শেষপর্যন্ত ‘ভিকি ডোনর’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন। এর পরে একের পর এক অন্য ধরনের ছবিতে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, প্রচলিত নায়কোচিত চেহারা ছাড়াও তারকা হওয়া যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি গান এবং বিজ্ঞাপনের কাজ থেকেও আয় করেছেন তিনি। বর্তমানে ১০০ কোটি টাকার আশপাশে সম্পত্তি তাঁর।