অনুষ্কা থেকে ক্যাটরিনা! কারও চোয়াল ধারালো হয়েছে, কেউ ঠোঁট ফুলিয়েছেন, সুন্দর হতে গিয়ে সমালোচিত আর কারা?
তখন বনাম এখন— চেহারার পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েছেন বলিউডের বহু অভিনেত্রী। রইল তেমনই এক তালিকা।
ক্যামেরার সামনে নিখুঁত দেখানোর মরিয়া চেষ্টা নায়িকাদের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কথা নয়। শোনা যায়, নিজের মুখটা ক্যামেরার কোন অ্যাঙ্গেলে বেশি সুন্দর লাগবে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ও খুঁতখুঁতে ছিলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। তবে সেই সচেতনতা তাঁর বোঝা যেত ক্যামেরার সামনে তাঁর পোজ় দেওয়ার ক্ষেত্রে। চেহারার উপর খোদকারির কথা তখন ভাবাই যেত না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণাও আজ অতীত। অনেক অভিনেত্রীই এখন চেহারায় পরিবর্তন আনেন নানা ভাবে। কারও ক্ষেত্রে স্টাইলের বদল, আবার কারও ক্ষেত্রে কসমেটিক চিকিৎসায়। সেই পরিবর্তন নিয়েই কখনও প্রশংসা, কখনও তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে এই যুগের নায়িকাদের।
অনুষ্কা শর্মা- ‘পিকে’ ছবির মুক্তির সময় অনুষ্কা শর্মার ঠোঁটের পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমাজমাধ্যমে বিপুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় নায়িকাকে। পরে তিনি জানান, একটি চরিত্রের প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। এর পরেও তিনি স্পষ্ট করেন, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নন।
কোয়েনা মিত্র- রাতারাতি বদলে যায় কোয়েনার লুক। তাঁর নাক-চোখে অস্বাভাবিক পরির্তন লক্ষ করেছিল দর্শক। ‘কসমেটিক সার্জারি’র অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন অভিনেত্রী। নাকের অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার কারণে তাঁর চেহারায় পরিবর্তন আসে বলে তিনি নিজেই জানান। চেহারার এই পরিবর্তন তাঁর অভিনয়জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল।
রাখী সাওয়ন্ত- দফায় দফায় নিজের মুখের একাধিক পরিবর্তন করেছেন রাখী। কখনও নাক, কখনও গাল, কখনও আবার চোখ। একটা সময় তাঁকে চিনতে পারাও দায় হয়ে উঠেছিল। তবে এই বিষয়ে রাখী কখনও রাখঢাক করেননি। একাধিক সাক্ষাৎকারে কসমেটিক সার্জারি করানোর কথা স্বীকার করেছেন। সেই কারণে বহু বার কটাক্ষের সম্মুখীনও হতে হয় তাঁকে।
আয়শা টাকিয়া-‘ওয়ান্টেড’ ছবির জনপ্রিয় নায়িকা। সলমন খানের সঙ্গে তাঁর জুটি প্রশংসিতও হয়েছিল সর্বত্র। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর যে ছবি প্রকাশ্যে আসে, তা দেখে অনেকেই ভয় পেয়েছেন। যেখানে দেখা গিয়েছে আয়শার ঠোঁট ফুলে বিশাল আকার ধারণ করেছে। চোখের পাতাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বড়। নায়িকার এমন লুক প্রকাশ্যে আসার পরে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই সময়ে আয়েশা সেটিকে ভুয়ো ছবি বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু তাতেও তিনি সমাজমাধ্যমের কটাক্ষ এড়াতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
বাণী কপূর- ‘শুদ্ধ দেশী রোমান্স’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু। সেই সময় তাঁর রূপেরও বিপুল প্রশংসা হয়েছিল দর্শকমহলে। কিন্তু কয়েকটা ছবি মুক্তির পরেই বাণীর ঠোঁট এবং নাকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করে দর্শক। কিন্তু নায়িকা কোনও দিন প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি তাঁর কস্মেটিক সার্জারির কথা। কিন্তু তাঁর নতুন লুক খুবই সমালোচিত হয়েছিল।
ক্যাটরিনা কইফ- কিছু অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনাকে দেখে তাঁর মুখের পরিবর্তন নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়। মডেল হিসাবে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। তার পর বড়পর্দায় পদার্পণ। সময়ের সঙ্গে নায়িকার ঠোঁটের আকারের পরিবর্তন চোখ এড়ায়নি অনুরাগীদের। তবে তিনি কখনও বোটক্স বা ফিলার ব্যবহার করেছেন বলে প্রকাশ্যে জানাননি।
প্রিয়ঙ্কা চোপড়া- নিজের নাক নিয়ে বরাবরই খুব সচেতন নায়িকা। খ্যাতি, প্রতিপত্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের নাকটির সঠিক আকার দেওয়ার জন্য অস্ত্রোপচারের সাহায্য নিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা। এই অস্ত্রোপচারের কথা তিনি প্রকাশ্যে বলেওছিলেন। তবে তা প্রত্যাশামতো না হওয়ায় তাঁকে মানসিক ভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল।
শিল্পা শেট্টী- ‘বাজিগর’ ছবিতে শিল্পা শেট্টীর লুক আর বর্তমানের শিল্পাকে দেখলেই পার্থক্য লক্ষ করা যাবে। ঠোঁট, নাক, চোখ, ভ্রু— সবকিছুরই বিপুল পরিবর্তন হয়েছে। নায়িকা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি নাকের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এটি ছিল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পরিবর্তিত লুক নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়েছে, তেমনই সমালোচনাও শুনতে হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুন:
সু্স্মিতা সেন- সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে তিনি বরাবরই খোলামেলা আলোচনায় বিশ্বাসী। তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়েও মাঝে মাঝে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর ঠোঁট এবং গালের অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। তবে নির্দিষ্ট কসমেটিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
মৌনী রায়- তাঁর পুরনো ও নতুন ছবি নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রায়ই তুলনা হয়। অনেকেই নানা অনুমান করেন। তাঁর ঠোঁটের পরিবর্তন খুবই লক্ষণীয়। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট কসমেটিক প্রক্রিয়ার কথা প্রকাশ্যে জানাননি।
জাহ্নবী কাপুর- অভিনেত্রীর ছোটবেলার একটি ভিডিয়ো দেখলে তাঁর মুখের পরিবর্তন খুব স্পষ্ট হয়ে যায়। অভিনয়জগতে প্রবেশ করার আগেই নিজের ঠোঁট, নাক এবং দাঁতের সেটিং ঠিক করিয়েছিলেন জাহ্নবী।
নেহা ধূপিয়া- স্পষ্টবাদী হিসাবে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত অভিনেত্রী। সম্প্রতি, নিজের চোয়াল ধারালো করিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়েও অনেক মন্তব্য এসেছে। কিন্তু নেহার মুখে কুলুপ।
নোরা ফতেহি-একসময় তাঁর ঝলমলে উপস্থিতি খুবই প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু এখন তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি, তাঁর ঠোঁটের বিপুল পরিবর্তনের জন্য অনেকে তাঁকে চিনতেই পারেননি।
বলিউডে নিখুঁত দেখানোর চাপ অনেক পুরনো। কিন্তু কারও চেহারা বদলালেই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করা কতটা যুক্তিযুক্ত— সেই প্রশ্নও বার বার উঠে এসেছে। সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে, আর তার সঙ্গে বদলাচ্ছে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গিও।