কারও প্রশ্ন ওঠে কুমারীত্ব নিয়ে, কাউকে রাতপোশাক পরার প্রস্তাব! কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হন যে নায়িকারা
অনেককেই অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এমনই বেশ কয়েক জন অভিনেত্রী রয়েছেন যাঁরা কাস্টিং কাউচের মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ খোলাখুলি কথাও বলেছেন।
বিনোদন দুনিয়া বাইরে থেকে ঔজ্জ্বল্যে ঘেরা মনে হলেও, সেখানেও প্রতিটি পদে অন্ধকারের হাতছানি। অনেককেই অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এমনই এক অন্ধকার দিক হল ‘কাস্টিং কাউচ’। বলিউডে বেশ কয়েক জন অভিনেত্রী রয়েছেন যাঁরা কাস্টিং কাউচের মুখে পড়েছেন। এ নিয়ে কেউ কেউ খোলাখুলি কথাও বলেছেন।
রাধিকা আপটে: কেরিয়ারের শুরুর দিকে একাধিক বার আপত্তিকর প্রস্তাবের মুখে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন রাধিকা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনও সুযোগের জন্য তিনি কখনও আপস করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাজের সুযোগের ইঙ্গিত দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সেই সব প্রস্তাব সত্ত্বেও কোনও ছবির জন্য নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করেননি কখনও।
সুরবীন চাওলা: একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, কয়েকটি ছবিতে সুযোগ পাওয়ার আগে তাঁকে আপত্তিকর শর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এক পরিচালক নাকি তাঁর শরীরের প্রতি ইঞ্চি মেপে দেখতে চেয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “কেরিয়ারের শুরুতে এক জন পরিচালক আমার বক্ষবিভাজিকা দেখতে চেয়েছিলেন। আর এক বার অডিশন দিতে গিয়ে এক কাস্টিং ডিরেক্টর আমায় বলেছিলেন, আমার নাকি বেশি ওজন। সেই অছিলায় আমার উরু দেখতে চেয়েছিলেন সেই ব্যক্তি। অথচ আমার ওজন তখন ছিল মোটে ৫৬ কেজি।”
কল্কি কেকলাঁ: কল্কি কেকলাঁর মতে, বিনোদনজগতে ক্ষমতার ব্যবহার করা হয়। ক্ষমতাশীলরা প্রায়ই শোষণ করেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, কাস্টিং কাউচের মতো ঘটনা অস্বীকার করার উপায় নেই। যদিও সবাই এর শিকার হন না। তিনি নিজেও কাস্টিং কাউচের শিকার হয়েছিলেন। স্পষ্ট এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “কাস্টিং কাউচ নেই, এমনটা মোটেই বলা যাবে না।”
টিসকা চোপড়া: এক বার এক পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার পরিবেশ ধীরে ধীরে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং আর যোগাযোগ রাখেননি।
আরও পড়ুন:
মাহী গিল: মাহী গিলের মতে, কাস্টিং কাউচের অস্তিত্ব রয়েছে বলিউডে। তবে তাঁর বক্তব্য, কোনও শিল্পী চাইলে সেই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতেই পারেন। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, এক পরিচালক নাকি শুরুর দিকে বলেছিলেন যে, সালোয়ার কামিজ় পরে থাকলে কেউ কাজ দেবে না। আর এক পরিচালক নাকি তাঁকে রাতে শোয়ার পোশাকে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে এই প্রস্তাব মেনে নেননি তিনি।
এলি অবরাম: কেরিয়ারের প্রথম দিকে এলি জানিয়েছিলেন, কিছু মানুষ কাজের সুযোগের অজুহাতে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে অপ্রীতিকর বলেও উল্লেখ করেছিলেন। এক প্রযোজক তাঁর কুমারীত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে নিজে তিনি সীমারেখা বজায় রেখেছিলেন।
পায়েল রোহতগি: পায়েল রোহতগির দাবি, কেরিয়ারের শুরুর দিকে কাজের সুযোগের বিনিময়ে তাঁকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বলিউডের এক পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, সেই পরিচালক নাকি তাঁর পোশাক খোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন।
শার্লিন চোপড়া: শার্লিন বহু বার দাবি করেছেন, কেরিয়ারের শুরুতে তাঁকে আপত্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রত্যাশা জুড়ে দেওয়া হত বলেই তিনি মনে করেন।
আরও পড়ুন:
কঙ্গনা রনৌত: অভিনেত্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা নতুন অভিনেত্রীদের অনেক সময় নানা ধরনের শোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মুখে পড়তে হয়। তিনি ‘মিটু’ আন্দোলনের সময়েও এই প্রসঙ্গে সরব ছিলেন।
স্বরা ভাস্কর: স্বরা নিজের নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানাননি। তবে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি বার বার প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন। ‘মিটু’ আন্দোলনের সময়েও তিনি ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
চিত্রাঙ্গদা সিংহ: একটি ছবির শুটিং চলাকালীন পরিচালকের আচরণে অস্বস্তি বোধ করেছিলেন। তার পরে চিত্রাঙ্গদা ছবিটি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে সে সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে তিনি পেশাদার পরিবেশে সম্মানের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন। তবে অভিনেত্রী মনে করেন, শুধু অভিনয়ের দুনিয়ায় নয়। কর্পোরেট জগতেও মহিলাদের কুপ্রস্তাব পেতে হয়।
মমতা কুলকর্ণী: অভিনেত্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে বলা হয়েছিল যে, ঘনিষ্ঠ হলেই কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে নাকি চাপও দেওয়া হয়েছিল।
সমীরা রেড্ডী: অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনিও আপত্তিকর প্রস্তাব পেয়েছিলেন। চেহারা নিয়েও নানা কটাক্ষ শুনেছিলেন। তবে অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, নিজের আত্মসম্মান এবং নীতির সঙ্গে কখনও আপস করেননি। নতুন শিল্পীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তনুশ্রী দত্ত: ২০১৮ সালে ‘মিটু’ আন্দোলনের সময়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন ‘হর্ন ওকে প্লিজ়’ ছবির সময়ে নাকি নানা পটেকর তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল।
ফাতিমা সানা শেখ: অভিনেত্রী দক্ষিণের চলচ্চিত্র জগতে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন তিনি। ‘কাজের জন্য সব কিছু করতে রাজি?’ এমন প্রশ্নও করা হয়েছিল তাঁকে। অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “তিনি (কাস্টিং এজেন্ট) আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি সব কিছু করতে রাজি তো?’ আমি বলেছিলাম, আমি পরিশ্রম করব এবং চরিত্রের জন্য যা প্রয়োজন, সেটা করব। কিন্তু তিনি সেই ইঙ্গিতপূর্ণ কথাটা বলতেই থাকেন। আর আমি না বোঝার ভান করে উত্তর দিতে থাকি। দেখতে চাইছিলাম, কত নীচে নামতে পারেন তিনি।”